স্মৃতির হ্যাঙ্গার ও অন্যান্য কবিতা || কবিতা || মিহিন্দা




সুশান্ত হালদার 


(১)

বেখেয়ালি জীবন 


কতটুকু দিলে আর কতটুকু নিলে
সে হিসেব এখন অবান্তর
তবুও বেখেয়ালি জীবনে দৈর্ঘ্যের চেয়ে প্রস্থ মনে হয় সুবিশাল

মাছ কাটা বটি-ই জানে কতটা ধারে ওষ্ঠাগত হয় প্রাণ
কতটা শঙ্কটে বেসামাল হয় ভোগ্যপণ্যের বাজার
কতটা অস্থির হলে উত্তপ্ত হয় রাজনীতির ময়দান
কতটা নিরাসক্ত হলে ধ্যানস্থ সাধু ঈশ্বরকে করে প্রণাম
অথচ সিঁধ কাটা ঘরে দিয়েছো খিল লৌহবেষ্টনী ছাড়াই

কতটুকু দিলে আর কতটুকু নিলে
সে হিসেব এখন অবান্তর
তবুও বরফের গায়ে সঞ্চিত থাকে নিভে যাওয়া আগুনের আঁচ!

(২)

রঙের খেলা

বিষাদেরও রঙ আছে।যদি বলি হলুদ তাহলে অস্তিত্ব সঙ্কটে ঝরা পাতা হবে বিলীন।কষ্টের রঙ সেতো আরো প্রগাঢ়,হতে পারে নীল তাহলে বেদনার ঘরে কালকেউটে পেড়েছে অসংখ্য ডিম। জন্মের থেকে মৃত্যুর স্বাদ চেখে নিও প্রতিদিন।

যদি বলি আনন্দেরও আছে রঙ,হবে হয়ত লাল তাহলে রক্তিমে উল্লসিত দেশপ্রেমিক।রঞ্জিত হাতে লুকিয়েছে কত বিদ্বেষপূর্ণ হিংস্রতা।নারীর শরীরে দিয়েছে সেঁটে সঙ্গমে সুখের যৌনতা।

ধূসরে এঁকেছি কত না বিরহের শয্যা,নিদ্রাহীন রাত্রি একাকিত্বে গড়েছে পাহাড়সম নিসঙ্গতা।যৌন সুখে নারী রঙের খেলায় পুরুষকে করেছে ছলনা!

(৩)

জ্বালিয়ে দেবো নিজেরই ঠিকুজি


মানুষের কী সাধ্য মাটির প্রতিমায় দিতে পারে প্রাণ
তবুও নৈবেদ্যে বেদিমূলে অঞ্জলি দিয়েছি শতবার
সে কী ভুল নাকি ভালোবাসার মায়াজাল
যদি হয় ভুল তবে বৃথাই আরাধনা আমার
পূজিত পুষ্পে জলাঞ্জলি দিয়েছি নৈবেদ্য সম্ভার

মানুষের কী সাধ্য প্রকৃতিকে তুচ্ছ করে গড়তে পারে নিয়তি
অসুন্দরের মাঝে সুন্দরের তবুও হয়েছি পূজারী
সে কী আমারই ভুল নাকি ঝরা পাতায় লেগে থাকা ধূমায়িত অগ্নি
অঙ্গারে তবুও বাসনা করেছি জ্বালিয়ে দেবো নিজেরই ঠিকুজি

মানুষের কী সাধ্য প্রণয় লীলায় নারীকে করবে আরাধ্য
লালসার বুকে গন্ধম রেখে হয়েছি আজ অভিশপ্ত
সে কী আমারই ভুল নাকি কুহেলিকায় হয়েছি পথভ্রষ্ট,
বুকের পাঁজরে জ্বালিয়ে অগ্নি মৃত্যুকেই জানিয়েছি স্বাগত!

(৪)

স্মৃতির হ্যাঙ্গার



জানি,মৃত্যু এসে কেড়ে নেবে সব
ধূসর ঠোঁটে দিয়েছিলে যে প্রেম
তাও কী যাবে মুছে
নাকি স্মৃতির হ্যাঙ্গারে শোভিত হবে ওয়্যারড্রব?

মরা হাড়ে এখনো লেগে আছে স্পর্শ তোমার
ডিভানের মতো নিথর দেহে স্মৃতির কতো কারুকাজ
স্মৃতির অতলে বিস্মৃতি জেগে কী ওঠবে আবার
নাকি উড়ে যাবে বাতাসে সুগন্ধি বোতলের সুবাস?

জানি, মৃত্যু এসে কেড়ে নেবে সব
ওষ্ঠের আলিঙ্গনে যে পাঁজর ভেঙেছিল বারবার
সেও কী যাবে ভুলে মৃত্যুর পরে নিস্তব্ধ রাত্রির ইতিহাস
নাকি মৃত হাড়ে উড়াবে ছাই কালের গর্ভে মহাশ্মশান?

(৫)

মৃত্যুর মতো ভালোবেসে আসিও ফিরে


ঘুমন্ত রাত্রিরও ভেঙে যাবে ঘুম
দেহ পল্লবীতে যদি নির্ঝরিণী হয় নদী
বাঁকা কাস্তের মতো ক্ষয়ে যাওয়া চাঁদ ডুবে যায় যদি
রাত্রি শেষে শিশিরের মতো চলে যাবে কী তুমি
নাকি ধূসর আকাশে জোনাকির মতো নক্ষত্র হবে তুমি?
এখানে ডুবো চাঁদে লাগেনি জোছনা
অমাবস্যায় সাজিয়েছে বাসর পূর্ণিমা
অথচ কথা ছিলো.....
আগমনী বসন্তেই ফোটাবে ফুল গুঞ্জরিত বাগিচা!

মৃত্যুর মতো ভালোবেসে আসো যদি কাছে
অনন্ত বেদনা ভুলে যাবো আঁধার লেপটে গায়ে
ঝরা ফুলের সুবাস যদি ভুলে যায় রাত্রি প্রভাতকালে
মনে রেখো......
মরা নদীও একদিন ভেসেছিল বেহুলার ক্রন্দনে!

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন