আল-আমিন সোহেল এর কবিতা | মিহিন্দা




আকাশের চাঁদ


রাস্তায় পড়ে থাকা ভিক্ষুক হাত-পায়ের সমাধি করেছে,
প্রিয়জনের গুটিসুটি আবদার ফুরাতে ; আদিখ্যেতা আগের মতো এখন আর কপালে জুটে না।

প্রিয়জন ছিল! এখন নেই!

ভাগ্যিস চোখের অবসান হয় নি
নিষিদ্ধ গলিতে খসে যাওয়া তারাগুলোকে দেখি ,
জ্বলজ্বল তারাগুলো হোঁচট খেয়ে কেমন হাসছে, দেখো!
কিন্তু আলো নেই! শুধু রঙিন চোখ!
মস্তিষ্কে এসিড ঢেলে পুড়িয়ে দিতে ইচ্ছে হয়! কিন্তু, নাহ! টিকে থাকতে হবে আরো কয়েকটি বছর,
আকাশে তারার সাথে চাঁদ একবার দেখে যেতে হবে আমায় ।




আমি স্বপ্নকে আলিঙ্গন করি


অসমাপ্ত কল্পকথায় ধুলোপড়া ফ্রেমে বন্দী
তন্দ্রাঘোরে জেগে থাকা আমার ঠিকানা।
স্বচ্ছ কাচের আয়নায় বির্নিমান দুটি চোখ
ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদলে যায় সমুদ্রের মতো ।

আমি স্বপ্নকে আলিঙ্গন করি
শতাব্দীর অপেক্ষা শেষে শতবার চুম্বন করি,
কোনো অগোছালো ভাবে মেলে ধরা
পারফিউমের সুসজ্জিত ডানায়।

দীপ্তিহীন হিমালয় বুকে আঁকড়ে ধরে
আঁধারের যাত্রীর হাতের মুঠোয় সূর্য ঢেলে দেই।
ক্ষুধার্ত সিলমোহরের বেড়িবাঁধ উপড়ে ফেলে
আমি অচেনা গলির ভাষা শুনতে কান পেতে থাকি।
পিচঢালা রাস্তায় জনসমুদ্র অতিক্রম করে
বুড়ো দাদুর খোড়া পায়ের বিচারের সাইনবোর্ড ধরি।

আমি স্বপ্নকে আলিঙ্গন করি
শতাব্দীর অপেক্ষা শেষে শতবার চুম্বন করি,
কোনো অগোছালো ভাবে মেলে ধরা
পারফিউমের সুসজ্জিত ডানায়।

শুকনো পাতার মর্মর শব্দ দিয়াশলাই হয়ে ওঠে
বন্ধ দরজায় ঠকঠক করে অগ্নিসংযোগ করে
সাক্ষী নেই, আছে বিক্রিত সভ্যতা।

ঘুমানো বারণ!!

৭১ নেমেছে দেশে, লাল পতাকার তীব্র সমীরণে
বিখ্যাত নামে জলে মৃদু সুরে মিশে গেছে বিষ।
তর্জনী উঁচিয়ে শুষে নিতে কলঙ্কিত বিষ
ফিরে আসবেন গর্জে নেতা
আবারো অদৃশ্য অস্ত্র নিয়ে।

আমি স্বপ্নকে আলিঙ্গন করি
শতাব্দীর অপেক্ষা শেষে শতবার চুম্বন করি,
কোনো অগোছালো ভাবে মেলে ধরা
পারফিউমের সুসজ্জিত ডানায়।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন