পঞ্চমীর শতকবিতায় দুর্জয়ভাবনা | পর্ব ১০ | বই আলোচনা | মিহিন্দা


দুর্জয় খান



পর্বঃ ১০



"চিরদুঃখী বাংলা মায়ের কান্না 
আপ্লুত করতো তাকে, ব্যথিত হতেন প্রগাঢ় অনুভূতিতে"

এই দুটি লাইন পড়লে নিঃসন্দেহে বলা যায় এমন ব্যক্তি কে। পিছিয়ে পড়া বাঙালিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখিয়েছেন, শুনিয়েছেন স্বাধীকারের গান। যার নেতৃত্বে অবহেলিত পূর্ববঙ্গের মানুষ নিজ অধিকার আদায়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি আর কেউ নন, তিনিই " বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমান "। কবি শুক্লা পঞ্চমী তাঁর রচিত " বঙ্গবন্ধু অযুত প্রাণের নাম" কাব্যগ্রন্থে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শব্দ ও নির্মল ভাবনায় উপস্থাপন করেছেন। অবহেলিত নির্যাতিত জনমানুষের জন্য অতি মস্তবড় গৌরব বয়ে এনেছিলেন বলেই পদের চেয়ে বড়ো হয়ে যান তিনি। ছোটবেলা ও স্কুল জীবন থেকেই চষে বেড়িয়েছেন বাংলার মাঠ-ঘাট প্রান্তর। এই বাংলার মাটিতে পান করেছেন অমৃত সুধা। তাইতো তিনি সগৌরবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন কোটি মানুষের অন্তরে।  শ্রদ্ধেয় কবি অশোক করের নান্দনিক অনুবাদে কবি শুক্লা পঞ্চমী শতকবিতায় রচনা করেছেন " বঙ্গবন্ধু অযুত প্রাণের নাম"। সেই কাব্যগ্রন্থে " সমধারা ২ কবিতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাস্তবিক রূপ তিনি তুলে ধরেছেন শব্দে শব্দে, ভাবনায় ভাবনায়। কবি শুক্লা পঞ্চমীর মনস্তাত্ত্বিক জগতে বঙ্গবন্ধু এক বিশাল জায়গাজুড়ে রয়েছে যা " বঙ্গবন্ধু অযুত প্রাণের নাম" কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো পাঠ করলে বোঝা যায়। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কবি শুক্লা পঞ্চমী এক কবিতায় বলেছেন, 

" সোনার চাঁদকে আকাশ থেকে পেড়ে আনাই ছিলো তাঁর ব্রত" 

কি দারুণ উপমা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে। কোটি মানুষের মুক্তির দূত  স্বয়ং ঈশ্বরই রূপ যেনো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অযাচিত শৃঙ্খলের শেকল ভেঙে পায়রাকে মুক্ত করেছেন।  সরল শব্দে তুফান এনে ঘুণে ধরা সমাজকে জাগ্রত করেছেন। এতোটাই তেজ নিয়ে বেড়ে উঠেছেন যে, স্বয়ং মৃত্যু দূতকে আঙ্গুল তুলে বলে দিয়েছেন,  " বাঙালির মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তুমি আমাকে স্পর্শ করতে পারবে না"।  দুঃশাসনের বলয় ভেঙে  মাটির মানুষদের ফিরিয়ে দিয়েছেন তার প্রাপ্য অধিকার। উপেক্ষিত পদদলিত জনপদের মানুষের জন্য এমন গগনচুম্বী সম্মান ও গৌরবের ব্যবস্থা করেছেন বলেই তিনি কেবল মানুষ নন, একজন সর্বোত্তম মানুষ বটে। ৭ ই মার্চের ভাষণের শুরুতেই যখন তিনি বলেছিলেন,  

" আজ দুঃখ ভরাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি" 

এখানেই তাঁর মনস্তত্ত্বকে পূর্ণভাবে উপলব্ধি করা যায়। নিঃসন্দেহে বলায় যায় তিনি সর্বোত্তম মানুষই বটে। এদেশের মানুষকে ন্যায্য অধিকার প্রদান করতে কারাবরণ হয়ে জেল খেটেছেন বহুবার। সেলের অন্ধকারে পরিবারের কথা মোটেও চিন্তা করেননি তিনি, তিনি চিন্তা করেছেন আপামর জনতার মুক্তির কথা।  জেলে গিয়েও তিনি মাথা নিচু করতে শিখেননি। জেলরক্ষীদের বুক ফুলিয়ে বলেছেন,  " মুজিবুর রহমান মাথা নিচু করতে শেখেনি, বড় গেটটা খুলেন"।  যেখানে কবি শুক্লা পঞ্চমী তুলে ধরেছেন এইভাবে,  

" স্বপ্নিল দর্শনের লড়াকু সৈনিক বীরদর্পে হেঁটে গেছেন বাধাবিঘ্ন পেরিয়ে" 

সত্যেড মার্গে অটুট দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর হৃদয়ে ছিলো লক্ষ ঘোড়ার শক্তি। বাঁচতে হবে, লড়তে হবে, এই দুটি শব্দকে জীবনের কেন্দ্র বানিয়ে আমৃত্যু কাঁধে বহন করেছেন ঐশ্বর্য।  বত্রিশ থেকে বাংলাদেশ, আজ রক্তগোলাপ থেকে সুঘ্রাণ বেরোই। গোটা বাঙালি জাতি সেই সুবাসে বেঁচে থাকার স্বাদ পায়। মুখ নিসৃত প্রত্যেক বাণী ব্রহ্মাস্ত্র হয়ে শত্রুদের কলিজা ছিন্নভিন্ন করে দিয়ে গেছেন। সেই ব্রহ্মাস্ত্র বাংলাদেশ সৃষ্টির সময় সাড়ে সাত কোটি বাঙালির ৫৬ হাজার বর্গমাইল শুনেছিলো মহাবার্তার বিগ ব্যাং ৭ ই মার্চে। 

মহামানবের রহস্যভেদ করার মধ্যেই উত্তম স্রষ্ঠার পরিচয়। কবি শুক্লা পঞ্চমী সেটাই করেছেন " বঙ্গবন্ধু অযুত প্রাণের নাম " কাব্যগ্রন্থের সমধারা ২ কবিতায়। বঙ্গবন্ধুর গৌরবে অটুট বিশ্বাস থেকে শব্দের জাল বুনে বুনে এই সমধারার জন্ম দিয়েছেন।  যেখানে প্রতিটি শব্দে যেমন " লড়াকু, বীরদর্পে, চিরদুঃখী, আর্থিক মুক্তি, দুঃশাসন,  জনসমুদ্র, মুক্তিকামী মানুষ এরকম অসংখ্য শব্দের সৃষ্টি করেছেন বঙ্গবন্ধুর প্রতি সমর্পিত হয়ে। নিঃসন্দেহে একে সমর্পণের কাব্যও বলা যায়, যেখানে কেবল বঙ্গবন্ধু কেবলই বঙ্গবন্ধু প্রাধান্য পেয়েছেন।

1 تعليقات

إرسال تعليق

أحدث أقدم