বিষন্ন জোছনা | পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন | মিহিন্দা



উপন্যাস : বিষন্ন জোছনা - সাঈদ আজাদ
প্রকাশনী : বায়ান্ন প্রকাশনী
স্টল নাম্বার : ৩৬৩





বাড়িতে ধান উঠার সময়টাতে কষ্টটা বেশি হয় আম্বিয়ারই। তখন দিন রাত এক করে কাজ করে সে।
ধান মাড়াই থেকে ঘরে তোলা, সব কাজের তদারকি করতে হয় আম্বিয়াকেই। অবশ্য তিন চার জন কামলা আর মহিলাও নেওয়া হয়। তারা আম্বিয়াকে সহায়তা করে। তবে, পর মানুষ দিয়ে কি আর সব কাজ হয়? আম্বিয়া তাই ধানের মৌসুমে জীবনপাত করে কাজ করে।
কাটা ধান মাঠ থেকে উঠানে এনে ফেললেই কামলাদের দায়িত্ব শেষ। পাহাড় সমান স্তুপ করা খড়সহ কাটা ধানের মাড়াই চলে রাত দিন এক করে। এখানে আম্বিয়াই মূল দায়িত্ব পালন করে। তার সাথে যোগানদার তিন কী চার জন মহিলা থাকে। মাড়াই করা ধান যোগানদার মহিলাদের নিয়ে কুলাতে ঝাড়ে আম্বিয়া। বিরাট বিরাট চুলা জ্বালিয়ে ধান সিদ্ধ করে। সিদ্ধ সেই সব ধান সারা দিন রোদে শুকায়। সন্ধ্যায় সব ধান এক করে বড় পলিথিনে ঢেকে রাখে। আবার সকাল হলে রোদে দেয়। সারা দিন গরু ছাগল কী কাক পাখিও পাহারা দিতে হয়। বাড়ির আর দু বউ মন চাইলে মাঝে মধ্যে একবার কী দুবার এসে ধান নেড়ে দিয়ে যায়। বড় জোর কাছে বসে থেকে ধান মাপার তদারকি করে। কখনো আম্বিয়ার কাজে ভুল ধরে। কথা শুনিয়ে যায়।
রাতের বেলা বেগোছ খড়ের স্তুপ পাট পাট করে উঠানের একপাশে গম্বুজের আকারে সাজিয়ে রাখা হয়। সেখানেও ভাসুরদের সাথে আম্বিয়া কাজ করতে হয়। সারাদিন কাজ করতে করতে শরীর অবসন্ন হয়ে আসে তার। ঘুমে চোখ বুজে আসতে চায়। খড়ের কুচি লেগে শরীর কুটকুট করে। তাহলেও, কাজ করে যায় আম্বিয়া। বলতে কী, তার যেন কাজ করতে ভালোই লাগে। নতুন ধানের কেমন একটা মন মাতানো ঘ্রাণ আছে। সেই মন খুশি সুবাসের মধ্যে থাকতে আম্বিয়ার ভালো লাগে। আর একটা গোপন বিষয়ও আছে। যা কেউ জানে না। এত এত কাজ করেও আম্বিয়ার এক ধরণের গোপন সুখ হয় মনে।
সংসার পায়নি বলেই হয়তো, নিজের একটা বাড়ি পায়নি বলেই হয়তো- আম্বিয়া সময় পেলেই একটা সাজানো সংসারের কথা ভাবে মনে মনে। যার কর্তৃত্ব তার হাতে থাকবে। নিজের সংসারের জন্য জীবন দিয়ে খাটবে সে। ধান নিতে নিতে তার মনে হয়, সে বুঝি তার নিজের সংসারের ধানই ঝারছে। রোদে শুকাচ্ছে। তখন তার সাথে যে কজন বাইরের মহিলা কাজ করে, অল্প ক্ষণের জন্য হলেও তাদের উপর আম্বিয়া কর্তৃত্ব করতে পারে। মহিলাদের যখন হুকুম দেয়- এইভাবে ধান ঝারো, চুলার জ্বালটা একটু কমাইয়্যা দেই রাবির মা, খড়ডি টাইন্যা একপাশে রাখ মমতাজ, খাওয়ার সময় অইছে সবাই খাইয়্যা লও- তখন মনে হয় আম্বিয়াই যেন এ সংসারের মালিক। তখন সে ক্ষণিকের জন্য ভুলে যায়, এ বাড়িতে সে অনাকাক্সিখত। আশ্রিত। অবহেলিত। ভুলে যায়, যারা তার সাথে কাজ করছে, তাদের চেয়েও আম্বিয়ার অবস্থান নিচে। কেননা, দিন শেষে কাজ করতে আসা মহিলারা নিজের সংসারে, ¯^ামী সন্তানের কাছে ফিরে। আম্বিয়ারতো দিন শেষে ফেরার কোন জায়গা নেই। নেই এমন কোন ¯^জন, যার কাছে ফেরা যায়। হয়তো আম্বিয়া এ বাড়ির চৌহদ্দিতেই থাকে। হয়তো সে অন্যদের মত দূরে কোথাও যায় না। কিন্তু ফেরা কি দূরত্ব দিয়েই পরিমাপ হয়? ফেরা মানেতো আশ্রয়। দুটো ভালোবাসার কথা। কারো বুকে একটু মাথা রাখা। চাঁদ উঠলে দরজায় বসে এক সাথে গল্প করা।
     আম্বিয়ার কাজ আসলে শুরু হয় আরো দিন পনেরো আগেই। বাড়ির লাগোয়া উঠানটা বেশ বড়ই। মৌসুমে, ধান-মরিচ-পাট-পেয়াজ-রসুন, সবই শুকানো হয় উঠানে। কিন্তু ধানের বেলায় উঠানটায় সব ধান আঁটে না। বাড়ির নামায় পতিত জমিটাকে তখন ব্যবহার করতে হয়। সপ্তাহ দুয়েক ধরে আম্বিয়া গোবর পানি দিয়ে উঠান আর বাড়ির নামার জমিটা লেপে। এক বার, দু বার, তিন বার। দরকার লাগলে আবার। তারপরই না ধান শুকানোর উপযুক্ত হয় উঠান আর জমি। 
     ধান উঠার দিনগুলোতে আম্বিয়া যে পরিমাণ কাজ করে, সে পরিমাণ কাজ অন্য বাড়িতে করলে বোধহয় সারা বছরের খোরাকিই পেয়ে যেত। কিন্তু এ বাড়ির লোকদের এত করেও মন পায় না আম্বিয়া। কেন যে! 
     সব ধান রোদে মেলে দিয়ে, বেশ বেলা করে সকালের খাবার খেতে বসেছে আম্বিয়া। এখন ভাতের অভাব কী! চারপাশেইতো ধান আর ধান। নতুন ধানের গন্ধে ম ম করছে সারা বাড়ি। উঠানেই ধান ভানার কল। ধান ঢেলে ভাঙ্গিয়ে নিয়ে ভাত রেঁধে খাও না যত ইচ্ছা। ধানেরতো শুমার নেই। বাড়ির যেখানেই পা দাও, ধান আর ধান। হাঁস খাচ্ছে, মুরগি খাচ্ছে। দল বেঁধে কবুতর খাচ্ছে সোনালী সব ধান। আর এখন ধান হয়ও যেন বেশি বেশি। ধান উঠারও সময় অসময় নেই। ছোট বেলা আম্বিয়া ধানের এত উৎপাদন দেখেনি। 
      সূর্য উঠেছে কী উঠেনি, তখন থেকে ধান রোদে মেলে দেওয়ার কাজ করেছে আম্বিয়া। উঠানে আর বাড়ির নামায় সব ধান মেলতে মেলতে রোদও উঠেছে চড়া হয়ে। আর পরিশ্রমের কারণে আম্বিয়ার ক্ষুধাটা যেন পেয়েছে রাক্ষসের মত। চোখে মুখে আঁধার দেখছিল সে। 
     অন্যদিনের চেয়ে আম্বিয়া ভাত আজ বেশিই নিয়েছে। সকালে দু তিনটা শুটকি পোড়া-পেয়াজ-কাচামরিচ-লবণ দিয়ে পানিভাত খায় এ বাড়ির লোকেরা। কেউ ডিম ভাজি খায়। আবার কেউ বাসী খায় তরকারিও। আম্বিয়ার কপালে ডিম তরকারি জোটে না কখনোই। বলতে কী, তার ভাত হলে আর তেমন কিছু লাগেও না। সাথে লবণ আর কাঁচা মরিচটা থাকলেই হল। তা ও দুটো সহজেই পাওয়া যায়। 
      আজ নতুন ধানের গন্ধে মনটা কেমন চনমনে আম্বিয়ার। আজ একটু বিলাসিতা করতে মন চাইছে তার। খোঁয়াড় থেকে একটা হাঁসের ডিম নিয়ে এসে, পেয়াজ মরিচ কুচিয়ে ডিম ভাজি করে খেতে বসে আম্বিয়া। ডিম ভাজার সুগন্ধে ক্ষুধাটা যেন আরো বেড়ে গেছে তার। নতুন ধানের ভাত ডিম ভাজা মাখিয়ে মুখে দিতেই সব কষ্ট যেন উবে যায় আম্বিয়ার। ভাতটা কী মিষ্টি! আবেশে চোখ বুজে আসে তার।  
      উঠানে খড়ের স্তুপে জুত করে বসেছে আম্বিয়া। চারদিকে তাকিয়ে, খুশি খুশি মনেই খাচ্ছিল। এখনইতো বাড়ি বাড়ি খুশি উপচে পড়ার সময়। সারাটা গ্রামেই নতুন ধানের গন্ধ ছড়ানো। উঠানময় খড়। রাস্তায় খড়। শোয়ার ঘরে, বসার ঘরে, রান্না ঘরে- বস্তা বস্তা ধান। এখন যদি কৃষকের ঘরে খুশি না থাকেতো আর কবে থাকবে! 
       বড় জা মোমেনা কী কাজে যেন আম্বিয়ার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। যেতে যেতে আম্বিয়ার খাওয়া দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে, কিগো আম্বিয়া, ডিম কই পাইলা?
     বাড়িত পনেরটা হাঁস থাকতে একটা ডিমের অভাব হয়! খোয়াড়াত্থে নিলাম। বলে আম্বিয়া হাসে। 
      মন চাইল আর ডিম দিয়া খাইতে শুরু করলা? এই বাড়ির কি কোন মালিক নাই নাকি? যার যা মন চায় করবো? ইচ্ছা অইল ডিম খামু, ইচ্ছা অইল মাছ খামু। ইচ্ছা অইল মাংস! বলতে বলতে গলা চড়ে যায় মোমেনার। 
       উঠানেই দু পায়ে হেঁটে হেঁটে ধান উলোট পালোট করছিল বাইরে থেকে আসা দু জন মহিলা। তারা মোমেনার উচ্চ ¯^রে অবাক দৃষ্টিতে তাকায় আম্বিয়ার দিকে। আম্বিয়া হঠাৎ যেন কুঁকড়ে যায়। সকাল থেকে তার মনে যে খুশির ভাবটা ছিল, সেটা হারিয়ে যায় নিমেষেই। সাথে কাজ করলেও আম্বিয়াকে বাইরে থেকে কাজ করতে আসা সবাই এ বাড়ির লোক বলেই জানে। আলাদা একটা সম্মান করে তাকে। আজ যেন তাদের চোখে আম্বিয়া খুব তুচ্ছ হয়ে গেলো। নিজেকে খুব ছোট লাগে আম্বিয়ার। এমনিতেই সব সময় ছোট আর নিচু হয়ে থাকে সে। কিন্তু আজ যেন বড় অসহায়ও লাগলো নিজেকে। কাজের মহিলা দুজন কি বুঝতে পারল আম্বিয়ার অপমানটা? তারা তড়িঘড়ি করে বাড়ির নামায় চলে গেল, ধান পাখিতে খাচ্ছে বলে।
     তাদের কথার রেশ ধরে মোমেনা বলে, ধান পাখিয়ে খাইবো না! কাজ কাম বাদ দিয়া সবাই যুদি এক পাতিল কইরা ভাত খাইতে বয় মাছ মাংস দিয়া? এমন কইরা খাইলে গোলার ধান শেষ অইতে সময় লাগতো না। কাক পাখিরে লড়াইয়্যা আর কী অইবো? যার যেমন ইচ্ছা খাক ধান। 
      কিয়ারেগো আমজাদের মা, দিন রাইত এক কইরা এত খাটি আমি, তারপরও তোমার মন পাই না কিয়ারে? আমারে কি এক দিনের লাইগ্যাও মানুষ মনে করতে পারো না? আল্লায় আমার যাওয়ার জাগা রাখে নাই পিথীবিতে, পেটে একটা সন্তান দেয় নাই, কপালে ¯^ামীর সুখ রাখে নাই। এর লাইগ্যা কি তোমরাও আমারে মানুষ মনে করো না? এই কয়টা দিন জীবন দিয়া খাটতাছি আমি, সেইটা তোমার চোখে পড়ল না? আমার জাগায় তোমগরে তিন জন কাজের বেডি রাখতে অইত। নিজের বাড়ি, নিজেগো ধান মনে কইরাই সব কাজ করি আমি। করি হাসি মুখেই। এই বাইত কি আমার এক ফোঁটা অধিকার নাই? আমি একটা ডিম খাইতাছি বইল্যা বাইরের বেডিগো সামনে খাওন পাতে আমার এমন অপমানটা করলা? একটা ডিমের দাম কত? না অয় দশ টাকাই অইল। এর লাইগ্যা বাইরের মানুষের সামনেও অপমান করতে তোমার বাঁধল না? বড় কষ্ট পাইলামগো আমজাদের মা। মনে বড় কষ্ট পাইলাম তোমার কতায়! 
      অইছে! আর এত ঢঙ্গের কতা কওন লাগতো না। এহ্! মনে বড় কষ্ট পাইলাম। কী আমার মনটারে! এখন ভাত কয়টা গিল্যা কামে যাও। বলে চলে যায় হনহন করে চলে যায় মোমেনা । 
      বড় জা চলে যেতেই আম্বিয়া ভাতের থালা মাটিতে নামিয়ে রাখে। আশেপাশে কটা মুরগী এতক্ষণ উচ্ছিষ্ট ভাতের লোভে আম্বিয়ার পায়ের কাছে ঘুরঘুর করছিল। তারা ভাতের থালার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। দুখী কাছেই বসে ছিল। মনিবের ভাত খেয়ে ফেলছে দেখে, কুকুরটা মুরগীগুলোকে তাড়াতে চেষ্টা করে। কিন্তু অতগুলো মুরগীর সাথে পেরে উঠে না। নিমেষেই শেষ হয়ে যায় ডিম মাখানো ভাতগুলো। 
        আম্বিয়ার সেদিকে ভ্রæক্ষেপ নেই। কষ্টের একটা দলা যেন আম্বিয়ার বুকের ভেতর গড়াতে থাকে। নিঃশব্দে চোখের পানি ফেলতে ফেলতে সে আকাশের দিকে তাকায়। উপরে যিনি বসে আছেন, তিনিইতো মানুষের ভাগ্য লিখেন। আম্বিয়ার শরীর কাঁপতে থাকে। আর চোখ বেয়ে জল পড়ে। শুষ্ক খড়ের মাঝে হারিয়ে যায় আম্বিয়ার চোখের ফোঁটা ফোঁটা জল। 
     আম্বিয়া জানে, তার দুই জা, ভাসুর দেবর, আর তাদের ছেলে মেয়েরা সবাই চায়- আম্বিয়া যেন এ বাড়িতে না থাকে। প্রথম প্রথম তারা আকারে ইঙ্গিতে বলত। এখন সরাসরি অপমান করেই বলে। উঠতে-বসতে-খেতে, সবাই ইচ্ছে করেই কথা শোনায়। কিন্তু তারা বুঝে না, যাওয়ার জায়গা থাকলে আম্বিয়া ঠিকই এ বাড়ি ছেড়ে বহুদিন আগে চলে যেত। যদিও থাকতে থাকতে বাড়িটার প্রতি তার একটা মায়া জন্মেছে। যেখানেই থাকুক আম্বিয়া, দিন শেষে এ বাড়িতে না ফিরলে, গোয়াল ঘরের পাশে ছোট ঘরটাতে না শুলে তার যেন শরীরে শান্তি লাগে না। অন্য বাড়িতে রাতে ঘুমাতে গেলে ঘুমই আসে না তার। সকালে ঘুম থেকে উঠে, ¯^ামীর কবর এক নজর না দেখলে তার বুক খালি খালি লাগে। 
        এসবই অভ্যাস, জানে আম্বিয়া। বেঁচে থাকতে এসব কিছুই লাগে না। লাগে ভাত কাপড়। পেট ভরা থাকলে ঘুম ঠিকই আসবে। মনও শান্ত হয়ে যাবে। তাহলেও, এ বাড়ির প্রতি মায়াটা কেন জানি ত্যাগ করতে পারে না সে। 
     হয়তো এই বাড়ির সবাই তার সাথে যে আচরণ করে তা সঙ্গতই। আসলেইতো, আম্বিয়ার এ বাড়িতে থাকার খাওয়ার কী অধিকার আছে? শ^শুরবাড়িতে যদি ¯^ামী, সন্তান, সম্পত্তি কিছুই না থাকে- তবে সে বাড়িতে আর কী অধিকার থাকে একজন নারীর? তাকে দয়া করে থাকতে দিয়েছে বলেই সে থাকতে পারছে এই বাড়িতে। আম্বিয়া যে এসব বুঝে না, তা না। বুঝে। 
     হয়তো কখনো কখনো আম্বিয়া অধিকারের সীমাটা অতিক্রম করতে চায়। তার মনে হয়, এত দিনের বসবাসের কারণে বাড়ির এক জন হয়ে উঠতে পেরেছে আম্বিয়া। কিন্তু সে যে এ বাড়ির কেউ না, তার যে কোন অধিকার নেই এ বাড়ির কোন কিছুতে- সুযোগ পেলেই বাড়ির সবাই সেটা মনে করিয়ে দেয়।  
      রাতে শুয়ে শুয়ে এসব কথা ভাবতে ভাবতে চোখের ঘুম কোথায় হারিয়ে যায় আম্বিয়ার। শৈশব, কৈশোর, যৌবনের দিনগুলোতে ডুব দেয় সে। ভেসে উঠে। আবার ডুব দেয়। সাঁতার কাটে। সাঁতার কেটেই যায়। কোথাও থামার মত তীর খুঁজে পায় না। ক্লান্ত শরীরটা যে কোথাও রেখে একটু শান্তি পাবে, এমন ডাঙ্গা চোখের সীমানায় নেই। আবারও সাঁতার কাটে আম্বিয়া। তার চারপাশে শুধু জল আর জল!  


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন