বাংলা ভাষার স্বীকৃতি ও প্রয়োগ | তারুণ্যের একুশ ভাবনা | মিহিন্দা


ফারাহ্ সিনথিয়া ঐশী





৫২র ভাষা আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান ও সর্বস্তরে বাংলার ব্যবহার প্রতিষ্ঠা করা।কিন্তু বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভ করলেও সমাজের প্রতিটি স্তরে বাংলার ব্যবহার প্রতিষ্ঠা করা এখনো সম্ভব হয়নি।ভার্সিটিগুলায় যারা বাংলা বিভাগ নিয়ে পড়ে তাদের এখনো হেয় করা হয়।আমার জানামতে খুব কম সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীই আছে যারা বাংলা বিভাগ নিয়ে পড়ে জীবনে কিছু করতে চায়।শিক্ষা ক্যাডারের আশায় অবশ্য এখন অনেকে বাংলা বিভাগ পেলে এই বিভাগের মাঝেই জীবনের সকল সান্ত্বনা ও সুখখুঁজে পায়!

যদি প্রশ্ন করা হয় যে বর্তমানে তথাকথিত "স্মার্টনেস" এর প্রথম এবং শেষ শর্ত কোনটি?তাহলে উত্তর আসবে অনর্গল ইংরেজীতে বুলি আওড়ানো।চাকরির সাক্ষাৎকার কিংবা যোগ্যতা মাপার ক্ষেত্রে সবার আগে বিবেচ্য বিষয় প্রার্থী অনর্গল ইংরেজী ছাড়তে পারে কিনা।আবার এই চেতনার ফেরিওয়ালা প্রতিষ্ঠানগুলা একুশে ফেব্রুয়ারিতে আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার বৃদ্ধি নিয়ে বিজ্ঞাপন করতে আসে।যেখানে এই লোকগুলাই সাক্ষাৎকারের সময় প্রমিত বাংলায় কথা বলাটাকেও নিচু চোখে দেখে!আর আঞ্চলিক ভাষা তো অনেক দূরের ব্যাপার।আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হলে আগে প্রমিত বাংলার ব্যবহার সর্বস্তরে বাড়াতে হবে।

এক্ষেত্রে বিনীত অনুরোধ, বাংলিশের জায়গায় যারা বাংলায় কথা বলার চেষ্টা করে, তাদের আর যাই হোক "ক্ষ্যাত" বলে অপদস্ত করার চেষ্টা করবেন না।যারা বাংলায় কবিতা লিখতে ভালোবাসে,তাদের কবিতা না বুঝলে পারলে এড়িয়ে যাবেন।তাদের কবিতা আপনার বোধগম্য নয়,এটা আপনার ব্যর্থতা।নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করুন।তাও তাদের হেয় করতে আসবেন না।বাংলা সাহিত্যকে গতিশীল করার ক্ষেত্রে তাদের একটা সুযোগ দিন।যারা হাতের লেখার প্রতি অতি যত্নশীল,পরম যত্ন নিয়ে যারা প্রত্যেকটি বাংলা বর্ণ লেখার চেষ্টা করে তাদের নিয়েও তামাশা করবেন না।যারা বাংলা নিয়ে পড়তে,সাহিত্য নিয়ে গবেষণা করতে আগ্রহী তাদেরকে দয়া করে নিরুৎসাহিত করবেন না। সকল দেশের সকল ভাষাকে সম্মান করুন।তাহলেই নিজের ভাষার প্রতি অন্তর থেকে সম্মান আসবে।আর এই অন্তর থেকে আসা সম্মানই পারে বাংলা ভাষাকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করে ভাষাসৈনিকদের আত্মদানকে পরিপূর্ণতা দিতে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন