দূরত্ব আরও দূরে যাও | পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন | মিহিন্দা

দূরত্ব আরও দূরে যাও
(কবিতাগ্রন্থ)
কবি : আদিত্য টিটু
প্রচ্ছদঃ ইবনে শামস
প্রাকাশনী : চন্দ্রবিন্দু
স্টল নাম্বার : ৬০৭





নৈঃশব্দ্য


কে একটা যেন ঢুকে পড়ছে চুপচাপ
একাকি অন্ধকারের দেয়ালে বসে আছে প্রেমিকার ফ্রেম
দুইটি তপ্ত পেয়ালা একসাথে অপেক্ষা করে-
নিত্য চুম্বন এঁটে দেওয়া কোন ঠোঁটের জন্য।

আমাকে কেবল টেনে নিয়ে যায় গাঢ় অন্ধকারে
আমি কি ক'রে ছেড়ে দি তার কুসুম স্বপ্নগুলো!
যে আমাকে প্রেম শিখিয়েছিল, বাঁচতে শিখিয়েছিল
ঘড়ির কাঁটা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে
আজ অব্দি এখানে কোন আলোর মিছিল আসেনি।

নিজের ভেতর গড়ে তুলি এক প্রেতাত্মার শহর
সুনসান নিরবতায় এখানে কেবল রাত্রি আসে
শহরের প্রবেশ পথে কালো হরফে লিখা আছে-
'চিতার রাজ্য' চেতনার হাত ধরে এগিয়ে এসো।

তার চোখ আমার চোখের ভেতর ঢুকে পড়ে-
তার মুখ আমার মুখের ভেতর ঢুকে পড়ে-
তার হৃদয় আমার আমার হৃদয়ে ঢুকে পড়ে-
এভাবে তার সমস্ত কিছু আমার ভেতর ঢুকে পড়ে,
এভাবে আমার ভেতর দীর্ঘ হো'তে দীর্ঘতর হয়ে উঠে-
তার ছায়া, একগুচ্ছ মায়া নিয়ে গুলতে থাকে।

এভাবে মিশে যেতে যেতে, এক হয়ে উঠতে উঠতে,
যদি আর আগামীর সূর্যের আলো ফিরে না আসে!
যদি ঘড়ির কাঁটা নিয়মের ভেতর ঘুরে না দাঁড়ায়!
এক এক কোরে ছেড়ে যাবো আমি'কে, জমে উঠবো
নৈঃশব্দ্যের এই রাত্রিকে সিলগালা করে রেখে দেবো
কথা দিলাম আর কোনদিন জেগে উঠবো না-
অনন্তকালের ঘুম হোতে, ভষ্ম হোতে।




অখন্ড


চোখে বরই পাতা দেবো না তুলসী?
তবু ভেতরে সবার সমান ক্ষরণ
কোথায় বাইবেল কোথায় ত্রিপিটক?
কোথায় কোরান, কোথায় পুরাণ?
মৃত্যূরে কেউ ছিন্ন করতে পারেনি!

ক্রুশবিদ্ধ যীশুর মতন শাদা মেঘ-
কাফনের রঙ, মন্ত্রে মুখরিত চারিদিক,
ঔঁ, কেঁদে মরে খোদার পলাশীর বন!
বুদ্ধদেব,এমন আয়ূর্বেদিক কই?
যা মৃত্যুকে লঙ্ঘিতে পারে চিরকাল!




মৃত চোখে সন্ধ্যা নামে


চোখের পেয়ালায় তৃষ্ণার্ত রোদ দপিয়ে বেড়ায়
আর শুকিয়ে উঠেনা সে জল।
সংযোগের নিয়মে কষ্টের শেখড় জলের গর্ভে ঠাঁই করে রেখেছিলো সেদিন-
যেদিন দেখেছি পৃথিবীর গর্ভ হতে জন্ম নিয়েছিলো সবুজ প্রেম।
বেড়ে ওঠার তাগিদে মাটির স্তন হতে চুষে নিয়েছি শিথিল জল।
অবুজ মনের নিজস্ব কোন রঙ না থাকায়-
নানা রঙের মুখোশের সাথে নিজেকে লুকানো যায় না।

সবুজ ডানার ভেতরে আমার রক্ত লাল,
শাখা প্রশাখার মতো কেবল বেড়ে চলছি অনিশ্চিত ভবিষৎ এর দিকে..
শুধু মানুষ আসে আবার চলে যায় ,
স্বার্থের শৃঙ্খলে প্রকৃতির ন্যায় দিন-রাত্রি কিংবা ঋতু সমানে বদল হয়।
দূরত্ব বাড়িয়ে ফেলে যাও প্রিয় কোন গোলাপ।
তারই হতাশা নিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে, ফুসফুসে ঢুকে পড়ে শাদা কবুতর।
আস্তে আস্তে তাদের ঠোঁট দিয়ে নিপুন করে গড়ে তোলে ক্যান্সারের ঘর।

বরং আমি হন্যে হয়ে খুঁজে ফিরি অন্য মানুষের আখড়া
আমি জন্মেও মানুষ, কর্মেও মানুষ,
অথচ তারা বলে আমি জীবীত নই
না-হয় আমি লোহার ভেতর পুঁতে রাখি মোমের দড়ি
না-হয় চাঁদের আলোয় রান্না করি সবুজ মন
ক্ষুধা শুধু পেটে, সে মিটে যায়-
প্রচন্ড ক্ষুধা নিয়ে হৃদয়ের দেউড়িতে ঝুলে আছে এক বিষন্ন বিকেল
তবু একদম খালি
বরং সূর্য ঘুমিয়ে পড়ে সন্ধ্যার কোলে
ফের তাকিয়ে থাকা মৃত চোখে লেগে থাকে ভীষন অন্ধকার।

Post a Comment

أحدث أقدم