মোসাদ্দেক শাকিল এর ছোটগল্প | মিহিন্দা

উকিল আখ্যান



ছোট্ট দুই কামরার একটা বাসা,তারই একটি রুমে থাকে সে, মাসে আট শত টাকা ভাড়ার সাথে পানি এবং একটা বাল্বের জন্য বিদ্যুৎ ফ্রি, কিন্তু সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে শর্ত, সন্ধ্যায় বাতি জ্বলবে রাত ১২ টাই নিভে যাবে, সকালে এক ঘণ্টা পানি থাকবে আবার রাতে ১০ বাজলে পানি আসবে! তাও খারাপ না, ঘুমাতে তো পারছি, সেটাই বা কম কিসের!
দরজার পাশে ঝুলানো একটা আয়না এবং সাথে চিরুনি রাখার জন্য একটা ঝুড়ি , আয়নাতে গলা থেকে মাথার তালু পর্যন্ত অনায়াসে দেখা যায় তাই চুল আঁচড়াতে আয়নাটা মুখ্যম, ঝুড়ি থেকে চিরুনিটা নিয়ে চুলে আঁচড় কাটলেন “দবীর” আদালতে গেলে পরিপাটি হয়েই যান দবীর, ওকালতি পেশায় দবীর মিয়া নিজেকে যুক্ত করেছেন বছর হলো, টাকা কড়ি তেমন একটা পকেটে আসে না, সেই সাদা দুটো শার্ট, দুটো পেন্ট, একটা সেকেন্ড হেন্ড কোটই তার সম্বল এখন, কিন্তু সব গুলো কাপড়ই সে রেগুলার ধুয়ে ইস্ত্রি করে পড়ে দবীর, মাস শেষে বাসা ভাড়া আর পাড়ার সস্তা হোটেলের খাবার খেয়েও পকেটে কানা কড়ি না থাকলেও আয়েশ করে চুল আঁচড়ানো দেখলে নির্দ্বিধায় আন্দাজ করা যায় আভিজাত্য তার রক্তে বহমান!
এখনও কেউ এডভোকেট বা উকিল সাহেব বলে ডাকে না তাকে! তাতে দবীর মিয়ার আক্ষেপ নেই, একদিন সে বড় উকিল হবে, সেদিন হয়তো কেউ উকিল সাহেব বলে ডাকবে, সেদিন না হয় গম্ভীর মুখে ফিরে তাকিয়ে উকিল ডাক শোনার তৃপ্তি মন ভরে নেবে!
সারা দিন আদালত পাড়ায় সময় কাটে দবীর মিয়ার, একজন দূরসম্পর্কের আত্নীয়ের কাছে সে কাজ শেখে, দিন শেষে কোনো দিন ৪০ টাকা, কোনো দিন ৬০ টাকা, এত কাটনির পরও এই ৪০ বা ৬০ টাকায় বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল। নইলে কবেই সে তীব্র ক্ষুধায় হয়তো ওপারে চলে যেতে হতো কে জানে!
দিন গড়াল, দবিরের ওকালতির আজকে ৪ বছর ৬ মাস, আজকে সে তার নিজের চেম্বার উদ্বোধন করবে, এ ৫ বছরে তার যে গুটি কয়েক মোটামুটি কাছের বন্ধু হয়েছে তাদের উপস্থিতি চেম্বারে উদ্বোধন করা হলো, চেম্বার বলতে ৭০০ স্কয়ার ফিটের একটা রুমে ৫ জন উকিল বসে, তার ৫টা চেয়ারের একটাতে সে বসার ব্যবস্থা করছে, মাসে ১৫০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করার শর্ত সাপেক্ষে।
দু,একটা মামলা সে পাচ্ছে, ৪ বছর চরম কষ্টের দিন গুলি হয়তো শেষ হতে যাচ্ছে, না খেয়েও থাকতে হয়েছে কোনো কোনো দিন, সিনিয়রের বকুনি থেকে শুরু করে দু একবার লাথি গুতো পর্যন্তও গড়িয়েছে, তীব্র কষ্টের লাগব যদি এখন হয় তাতেই তার জীবন হয়তো কিছুটা আলোর মুখ দেখবে।
বয়স ৩৫, বিয়ে তা তো করতে হবে, বন্ধুরা মাঝে মাঝেই খোঁচা দেয়, কিহে মিয়া, চুলেতো পাঁক ধরেছে, আর কত দেরী!
সেবছর মে মাসের ২৬ তারিখ, ঘরে আসল একটা পুতুল, দবীর ভাবে, আহা জীবন! কত কিছুই না শিখিয়ে গেলি, দবীর আরো ভাবনায় ডুবে যায়, পুতুলটাকে আগলে রাখতে হবে, রাস্তায় সামনে যে হাটে সেই কাটা পরিষ্কার করে, কেউতো আর সেই কাটা তুলে পেছনের জনের গায়ে ছুড়ে মারে না! আমি কষ্ট করেছি তাই বলে তো তাকে কষ্ট দেওয়াটা হবে অনুচিত।
বছর পার হয়ে গেল দবীর মিয়ার নতুন সংসারের, হঠাৎ একদিন আগমন ঘটল এক নতুন অতিথীর, সংসার আলো করে পুত্র সন্তান জন্ম দিল পরম ভালবাসার অর্ধাঙ্গিনী,
সেদিন, কার কাছে যেন গল্প করছিল দবীর, ছেলেটা যে সময় জন্ম নেয়, তার আগ মুহূর্তে তার হাতে টাকা আসার নত কোনো মামলা ছিল না, হাতে যা টাকা ছিল সেটা বাসা ভাড়া সহ সংসারের খরচে শেষ হয়ে গেছে, দবীরের স্ত্রীর গর্ভবতী কালীন সময়ের খরচাপাতিটাও এক বন্ধুর কাছ থেকে ধার নেওয়া টাকায় সম্পূর্ণ হয়েছিল, নবজাতকের মুখে এক ফোটা গুড়ো দুধ তুলে দেবে সে উপায় তার পকেটে ছিল না। হঠাৎ
একটা খবর আসল, এলাকার কমিশনার দবীর মিয়াকে ডেকেছে,
সেদিন, কমিশনারের সাথে দেখা করে বাড়ি ফেরার পথে ব্যাগ ভরে বাজার করে নিয়ে এসেছিল, পরে জেনে ছিলাম কমিশনার সাহেব একটা মামলা তার হাতে অর্পণ করার বায়না স্বরূপ একটা বিশাল এমাউন্ট দিয়েছিল, যা সে ওকালতির জীবনে আগে কখনো পায়নি! সন্তান তার জগত আলো করে এসেছে সেইটা সে ধারণা করে ফেলেছিল তখনই।
সেই ছিল তার শুরু, দেখতে দেখতে বছর তিনেক পার হয়ে গেল, টাকা বেশ আসছে পকেটে, ইদানীং সে বিভিন্ন প্রোগ্রামে যায়, শোনা যায় পলিটিকাল পার্টির লোকদের সাথেও ভাল সখ্য গড়ে উঠছে, সেইটা পরিস্থিতির চাহিদা ছিল কি না সে বিষয়টা সে ঘেঁটে দেখতে নারাজ!
মামলার আনাগোনা এখন নিত্য বিষয়, টাকা পয়সা এখন হাতের ময়লা এবং সে সাথে বিভিন্ন আত্নীয় স্বজন ভিড়তে শুরু করেছে হাতের ময়লার মত , ডাইনোসর যুগের আত্নীয়ও সেখানে প্রবহমান, শ্বশুর বাড়ির লোকজনও ইদানীং খুব জামাই আদরে তৎপর হয়ে উঠেছে, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দু হাতে উপহার সামগ্রী বিলি করছে দবীর, সাথে কেশ টাকাও যাচ্ছে, এমন উদারতার গল্প ছড়িয়ে পরেছে শ্বশুর বাড়ি থেকে শুরু করে নিজের বাবার বাড়ির আনাচে কানাচে,
কেউ কেউ “হাতেম তায়ী” উপাধিতেও ভূষিত করতে পিছু হটছেন না। এমন দানশীলতা দবীরের উদারতা নাকি দম্ভ সে বিষয়ে কথা বলতে হলে একটা ছোটখাটো তর্কযুদ্ধ আবশ্যিক!
বন্ধু মহলের সীমানা প্রাচীর বেড়েই চলেছে, সেখানে টাই নিচ্ছে এলাকার ক্যাডার থেকে প্রশাসনের উঁচু দরের কর্মকর্তা বৃন্দও, বন্ধুদের ব্যাপারেও সে উদারমনা, ইদানীং রাত জেগে তাস খেলা থেকে শুরু করে মাঝে মাঝে একটু মদ পান করাটা লঘু পাপে গুরু দণ্ড হয়ে না যাওয়াই আবশ্যিক।
দিন কেটে যায়, আরেকটি মেয়ে সন্তানে জনক হওয়া, ব্যাংকের একাউন্টে লাখ লাখ টাকা জমা হওয়া, অভিজাত ক্লাবের নিত্যকার বাসিন্দা হওয়া ছাড়াও সময়ের অনুরোধে অর্থের বা খ্যাতির দিক থেকে উঁচু মহলের অংশীদার হওয়া সময়ের অনুরোধ রক্ষা বইকি কিছু নয়।
দবীর এখন দুহাত ভরে টাকা বিলায়, দবীর হাঁটলে পেছনে ৭/১০ হাটা নতুন কিছুতে নেই। পাড়া গায়ে মাঝে মাঝেই যাওয়া পরে, সেখান থেকে ফিরে আসলে শোনা যায় সেখানে কোনো এক প্রতিবেশীর মেয়ের ধুমধাম করে বিয়ে হচ্ছে নতুবা কারো ঘরের চালে নতুন টিন ন উঠেছে , দবীরের সামনে কথা বলতে হলে প্রশাসনের বড় কর্মকর্তাটিও কেঁপে কেঁপে উঠে,
দবীর বন্ধু মহল আমলা ,নেতা , সরকারী কর্মকর্তায় টইটুম্বুর!
বন্ধুরা সব সাধারণ বন্ধু নয়, যাকে বলে সবাই এক একটা জানে জিগার,
আত্নীয় সজন বা পরিবারে যেকোনো কিছুতে দবীরের সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত, দবীরের প্রশংসাই সবাই পঞ্চ মুখ, আত্নীয় স্বজনের শরীর কিংবা রোগের মাত্রা চরমে, দবীর রোগ নামটা শুনতে পারে না,যে কোনো রোগে সে উপশম কারী হিসেবে আগমন ঘটায় এবং সে সাথে আত্নীয় স্বজনের রোগের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং সেই সাথে দবীরের জয়জয়কারের হূলু ধ্বনিতে মুখরিত করে তুলে চারিদিক।
তবে দবীর এই সব কিছুকে কোন পাল্লায় মাপবেন নির্ভর করে আপনার মানসিক বিচারের উপর!
দবীরের ওকালতি পেশা এখন যৌবনে পা দিয়েছে, লাখ টাকার মামলা ছাড়া সে মামলা নেয় না, নতুন গাড়ি আর নতুন বাড়িতে পুত্র কন্যা নিয়ে কেমন আছে সে বিষয় প্রশ্নাতীত, কারণ সে বিষয়-তো অন্দর মহলের বিষয়, সে বিষয়ে আমার জানার কোনো কারণ আছে বলে মনে হয় না। তবে এটা ধারণা করে বলতে পারি যশ আর খ্যাতির প্রভাবে খরা তৈরি হয়, সেখানে সুন্দর গোলাপ কলিটিও ঝড়ে পরে সেখানে ফুটন্ত গোলাপ বাঁচবে, সে বিষয়ে চিন্তা করায় প্রায়শ্চিত্তের কারণ হয়ে যাওয়া অসম্ভব নয়।
শুনেছি ছেলেটা কথা শুনে না, দবীর মিয়ার পকেটে অবৈধ টাকার আনাগোনা আছে কি না সে বিষয়ে কোনো কারণে প্রশ্ন উঠলে সে অন্যমনস্ক হয়ে যায়, দবীর অজান্তেই বলে ফেলে “আমি জানি আমার ছেলেটা মানুষ হবে না” কেন মানুষ হবে না সে বিষয়টা সেখানে বসে থাকা আপন লোকদের মাথায় কিলবিল করে!
দবীরের একমাত্র বোন জামাইয়ের মৃত্যুতে, বোনকে ভরণ পোষণের দায়িত্ব দবীরের উপরই বর্তায়, বাঙালী সমাজে ভ্রাতৃবধু এর উপস্থিতিতে বাবার বাড়িতে মেয়ের আগমন, সে কোনো সাধারণ দৃশ্য নয়!
দবীর মিয়ার মামলা আসা বেরে গেল, পরিচিত জনের সংখ্যা এখন হাজারের কোটায়, বিভিন্ন পরিচিত অপরিচিত জনদের কাছে থেকে মামলা আসছে, ২টো শার্টের জায়গায় ৪ টা শার্ট হয়েছে, কোট হয়েছে সেকেন্ড হেন্ড থেকে ব্রান্ড নিউ, অবশ্যই এই উন্নতি গুরুচণ্ডালী দোষে দূষিত হয়নি, এটা তার পরিশ্রমের ফল।
আগমন মানেই নতুন যুগের সূচনা, সেখানে ট্রয় ও গ্রীসের উপাখ্যান একদমই ম্রিয়মাণ।
সময় চলতে থাকে, মেয়েকে বিয়ে দেয় যদিও সেটা সুখকর ছিল না, ছেলেটা পূর্বেই বেহাত, বোন এবং নিজ স্ত্রীর কলহ,
মামলার বেড়াজাল, বন্ধুদের লিস্ট বড় হওয়ার সাথে সাথে ষড়যন্ত্র ও বেড়ে চলছে, রাজনীতির মাঠের হিসাব নিকাশ,
সব মিলিয়ে কেমন যাচ্ছে সেটা বুঝতে কোনো প্রকার প্রশ্নের
অবকাশ রাখে না।
আজকাল জসীমউদ্দীনের কবর কবিতার রেকর্ডিং শুনে, আবৃত্তি করে, দু এক ফোটা জল গড়িয়ে পরে, বাসায় চুপচাপ চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকে, সবার অগোচরে সবার কথা শুনে, কিছু বলে না। রুটিন মাফিক চেম্বারে যায়। হিসাব করে কথা বলে, সবকিছু শ্লথ গতিতেই চলতে থাকে দবীরের
পড়ন্ত দুপুরে চেম্বারের ইজি চেয়ারটাই হেলান দিয়ে বসে আছে দবীর, পাশেই একটা মিউজিক প্লেয়ারে বাজছে “যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলোরে”
গান শুনতে শুনতে হঠাৎ সে বুকের মাঝে হালকা ব্যথা অনুভব করে, সাথে সাথে সে ডাক দিল নতুন আসা ছেলেটাকে, যার নাম সমীর, অতন্ত বাধ্যগত এবং কর্মনিষ্ঠ একটা ছেলে।
ডাক দেওয়ার সাথে সাথেই হাজির, কয়েক সেকেন্ডেই অজ্ঞান হয়ে গেল দবীর।
জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে হাসপাতালে আবিষ্কার করবে এটাই স্বাভাবিক। ডাক্তারের রিপোর্টে কিছুই আসেনি। সবই ঠিকঠাক ।
কিন্তু যে যাই বলুক, দবীর কিছুটা আন্দাজ করতে পারে, যেটা ডাক্তারের রিপোর্টে ধরা পরেনি। শরীর যার শরীরের গোপন খবর সে’ই রাখে। পরিবার, আত্নীয় স্বজন,বন্ধুরা, সদলবলে বাসায় ফেরে, যত্নআত্তির কোনো কমতি নেই, সবাই উঠেপড়ে সেবায় মগ্ন। পুঁথি ঘাঁটলে দেখা যাবে যে এই সমাদর “জোয়ার” কাতারে পরে যাচ্ছে, জোয়ারিরা তাদের অভিসন্ধি অর্জনে পায়তারা করছে!
কিছু দিন চলে যায়, আবার সে ব্যথাটা হলো, এবার আর অজ্ঞান হয়নি, সমীরকে নিয়ে বড় ডাক্তারের কাছে যায়।সব রকম পরীক্ষা করা হয়, ডাক্তার সেই রিপোর্ট দেখে জানায় যে তার “লিবার ক্যান্সার” হয়েছে!
দবীর শান্ত ভাবে হাসপাতাল থেকে বের হয়, ড্রাইভারকে বলে বাসায় চলে যেতে, ড্রাইভার চলে যায়, রাত তখন ১১:৩০ বাজে , দবীর পায়ে হেটে বাসায় যাবে, কে জানে হয়তো কাল এই শহরটাকে দেখতে পাবে না, রাস্তার ল্যাম্প পোস্ট গুলো হয়তো আর চোখে পরবে না, নীরবে ঘুমিয়ে থাকা বেওয়ারিশ কুকুর গুলোর মুখ সে মিস করবে,
নীরবে হাটছে দবীর, পেছনে সমীর, আকাশটা আজ একদম নীল হয়ে আছে, এক ফোঁটা মেঘ নেই কোথাও।
এই নীল আকাশের সাথে দবীরের জীবনের মিল খুঁজে পাওয়া তেমন দুর্বোধ্য ব্যাপার না। দবীর আজ আরো রাত করে বাসায় ফিরবে, সমীরকে বাসায় পাঠিয়ে দেবে, একা একাই পুরো শহরটাকে দখলে নেবে সে।
সবাইকে ডাকা হলো ড্রয়িং রোমে, সবাই উৎফুল্ল মনে, দেখে মনে হচ্ছে সরকার আজে বাজেট ঘোষণা করবে, একে একে সবাই এসে বসল, দবীর সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে তার জীবনের সমাপ্তি রেখাটাকে এঁকে দিল সবার সামনে, সুর করে সবাই বিলাপ করল। রাত ভর বিলাপ কার্য চলতে থাকল, দু একজন অজ্ঞানও হলো।
দবীর শুয়ে আছে বিছানায় , সব কিছু নীরব, বাসায় ৩টি প্রাণী ছাড়া কিছুই নাই! এ বাড়িতে কেউ এখন পা মাড়ায় না।
একটা ধাঁধা আছে না, এক জায়গায় ১০টি পাখি বসে ছিল, একটিকে গুলি করলে কয়টি থাকল, উত্তর হলো মৃত পাখিটি ছাড়া একটিও না,
এমনই ভাবে যেন একজন মানুষের গুলি খাওয়ায় এক ঝাঁক পাখি উড়ে চলে গেল!
খাটের পাশে রাখা টেবিল ঘুণ পোকার কাঠ কাটার কট কট শব্দ ছাড়া একটি শব্দও দবীরের কানে আসছে না। ঘুণ পোকাটা যেন দবীর হ্রদয় ঘণ্টা বাজানোর দায়িত্ব নিয়েছে
দবীরের খুব মনে পরছে সেই ৮০০ টাকা ভাড়া বাসার কথা, সেই শীতল পাঠির কথা , খোলা জানালায় চাঁদের আলো খেলা করত, রাত হলে ক্লান্ত শরীরটাকে এলিয়ে দিত শীতল পাঠিতে, দক্ষিণা বাতাসে ঘরটাকে বেহেস্তখানা মনে হতো, সেখানে থেকে চলে আসার পর কোথাও সে ওরকম শান্তি সে পায়নি!
সুনসান চারিদিক, দবীর শুয়ে আছে, চোখ দুটো হারিয়ে গেছে জানালার ওপারে আকাশের সীমান্তে। ঘুণ পোকা ঘণ্টা বাজিয়েই যাচ্ছে, দবীর আলতো করে চোখ দুটো নিভিয়ে দিল, সেদিনকার পর দবীরকে আর কোনো কাল থেকে কালান্তরেও খুঁজে পায়নি কেউ।



musaddekshakil234@gmail.com

1 মন্তব্যসমূহ

  1. একজন আইনজীবির বাস্তব জীবন টা হয়ত এমনই হয়।গল্প টা মন কে ছুঁয়ে দেবার মত ছিলো।লেখক কে অভিনন্দন।নতুন লেখার অপেক্ষায় রইলাম।

    -একজন শিক্ষানবিশ আইনজীবি।

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন