মোহাম্মদ জসিম এর অণুগল্প | মিহিন্দা



স্লিপিং ট্রি


বার হাজার পয়তাল্লিশ দিনের নাতিদীর্ঘ জীবনে স্রষ্টার কাছে অনেকগুলো ইচ্ছের কথা ব্যক্ত করেছে সে। তার মতে, একটাও কবুল হয়নি।
দশ মিনিট পরে সিদ্ধান্ত বদলায় ইশরাক। বহুবার গাছ হতে চেয়েছিলো—যেমনই হোক, কিছুটা হলেও বৃক্ষজন্মের স্বাদ পাচ্ছে সে।

তুমি বিশ্বাস করো বা না করো, একটি গাছ প্রতিরাতে আমার সাথে ঘুমুতে আসে...
চোখ বড় বড় করে তাকায় শ্যামা। অবিশ্বাস্য! ইশরাকের পাগলামির মাত্রাটা বেড়ে যাচ্ছে দিনকে দিন।

"তেত্রিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখেনি..."। কে কথা রাখেনি? কেউ না।
সাদা ও সরল একটি দরজা ধরে বাইরের পৃথিবীতে পা রেখেছিলো ইশরাক। মা গেছে জন্মের দিনে, বাবা যখন গেল তখন পায়ের নিচের মাটি আর মাথার ওপরের ছাদ দুটোই সঙ্গে নিয়ে গেল।
মৃত্যুর পর বাবার পকেট ঝেড়ে সাকুল্যে হাজার দশেক টাকা মিললো, ত্রিশ হাজার দেনার দায় সহ।

আহা গাছ! গাছেদের কানের কাছে যতবার টাকা টাকা করো গাছ কিছু বলে না। পাওনাদারের ভয়ে গাছ হতে চেয়েছিলো ইশরাক।
আহা গাছ! গাছের প্রেমিকা কোনদিন ছেড়ে যায় না তাকে। যদিবা যায়, কাঠ কাঠ হৃদয়ে দুঃখ হুমড়ি খেয়ে পড়ে না।
গাছেরা চাকরি করে না, চাকরি যাওয়ার প্রশ্ন তো অবান্তর।
গাছেরা গাড়ির তলেও পড়ে না।
ইশরাক স্বপ্নে, এবং স্বপ্নের বাইরেও বহুবার গাছ হতে চেয়েছিলো।

বন্ধুরা অবিশ্বাস করে। ওদের চোখের মণিগুলো হালকা গোলাপী, ওদের চোখগুলোকে অবিশ্বাস করে ইশরাক। গাছের মতো ভীড়ের মধ্যে একা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার অভ্যাস করে সে।
তারপর...
সে যখন ডায়রি লেখে, একটা গাছ এসে বানান শুধরে দেয়।
সে যখন বারান্দায় বসে, একটি গাছ এসে এগিয়ে দেয় চায়ের কাপ।
সে যখন ঘুমুতে যায়, একটি গাছ এসে সটান শুয়ে পড়ে বিছানার অর্ধেক জুড়ে।
তখন পুরোটা বেডরুম ফুলের গন্ধে ভরে যায়।

আমি কি মিথ্যে বলি শ্যামা! বলি না। তবে কেন বিশ্বাস করছো না? জানো, একটি গাছ আসে, সত্যি বলছি। তুমি রাতে এসো, পরিচয় করিয়ে দেবো। তবে তো বিশ্বাস করবে, করবে না?

ড. মুনিয়া আঙুর খেতে বলেছেন। ইশরাক সাদা সাদা শ্লিপিং পিল গেলে।
এক টুকরো সাদা কাগজ সঙ্গে নিয়ে ঘুমুতে যায় সে, গাছটি এলে ঠিকানা লিখে রাখতে হবে।


বরিশাল


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন