রাহুল বিশ্বাস এর অণুগল্প | মিহিন্দা

 





সমাজতন্ত্র


ক. সূচনা

ভূখণ্ড

আমাদের ভূখণ্ডের কথা ভাবুন। ঐ রাশিয়া, চীনের কম্যুনিজমের উদাহরণ আমাদের ভূখণ্ডে টানবেন না।


চুম্বন কিংবা সমর্পণ

আমাকে মাফ করো। তোমার ডাকে সেদিন সাড়া দিতে পারলাম না। তোমার মুখে চুম্বনের আগে আমি সমাজতন্ত্র চাই।

খ. পদ্ধতি


সাম্যবাদ

'আপনারা কারা? এভাবে এগোবেন না। বলুন কি চান।' ভীতসন্ত্রস্ত কণ্ঠে বাড়ির কর্তা বলে।
'কন্ জমি কয় বিঘা আপনার?'
'চুতমারানিরে আপনি কন ক্যা? বাহেনচোত দুই পয়সা ধার দিয়া কতো লোকরে পথে বসাইছে। কোর্ট-কাছারির ভয় দেহাইয়া গরিব মানষে্র এক ছোটাক জমিও নিজের হোগায় ঢোকাইছে।' পাশ থেকে উত্তেজিত জনতার একজন বলে উঠে। 'শালাক এখনি মারো। হ্যাচকা টানে হালার হোলের বিচি ছেঁড়া নুন-মরিচ দিয়া ভর্তা কর‌্যা নেড়ি কুত্তাক গেলাও। বান্নিরপো কতো মানষে্র জমি লয় দ্যাশ ছাড়া করছে, জানেন? হালারে... ' অন্য একজন বলে। উত্তেজিত জনতাকে দলনেতা থামতে বলেন।
'একশত বিঘা।' বাড়ির কর্তা উত্তর দেয়।
'দশ বিঘা জমি রেখে বাকি জমি গরিব চাষাগোরে লিখে দ্যান। এটাই আমাদের ভূমিবণ্টন নীতি।'
লোকটার বাড়ির পশ্চিম পাশে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি পাঁচটি ধানের গোলা। দলনেতা তাদেরকে নির্দেশ দেয় চারটা গোলার ধান লুট করতে। বাড়ির মহিলাদের গলায়, কানে, হাতে যত গয়নাপাতি পরা আছে সেগুলো রেখে ঘরের আলমারির বাকী সব গয়নাগুলো কব্জা করা হল।


মৌলিক চাহিদা

'আমি ডাক্তারি পড়েছি আমার নিজের যোগ্যতায়। পায়ে হেঁটে লোকের কাছে গিয়ে ট্রিটমেন্ট দেওয়া আমার পক্ষে ইমপসিবল্।'
'খানকির পোলা তুই দিবি না, তোর বাপ দিবো।' ভিড়ের মধ্য থেকে উচ্চস্বরে একজন বলে উঠে।
'হালার পোঙ্গার মধ্যি আচাছা বাঁশ সান্দাইয়া দাও। তাইলে দিবো।' অন্য কেউ একজন বলে। তাদেরকে থামতে বলা হয়।
'আপনি ভুল কথা বলছেন। নট দ্য কোরসেইন ইজ ইয়োর কোয়ালিফিকেসন, দ্য স্টেড গিভ ইউ দ্য অপারচ্যুনিটি এন্ড দ্যাটস্ হোয়াই ইউ আর এ ডক্টর। আপনার বরং নিজের ডাক্তারি পড়ার জন্য অন্য একজন এই বেনিফিট থেকে বঞ্চিত হয়েছে। হতেওতো পারে সেবার প্রশ্নে সে আন্তরিক শুধু নয়; আদর্শিকও। তাছাড়া, এ্যাকচুয়াল মেরিটের এ্যাসেসমেন্ট আপনার অটোক্রেটিক গভমেন্ট করেছে কি?'
'তাই বুঝি!' অনেকটা শ্লেষাত্মক কণ্ঠে।      
'আমাদের রাষ্ট্রে চিকিৎসা শুধুমাত্র সেবা—মানুষের বেসিক নিড এটা, তা কোন ব্যবসা নয়। চিকিৎসার জন্য নাগরিকের কাছ থেকে কোন অর্থ নেওয়া চলবে না। চিকিৎসককে অর্থ দিবে একমাত্র রাষ্ট্র। জনগণ এ রাষ্ট্রে সম্পূর্ণ ফ্রি চিকিৎসাসেবা পাবে। এটাই আমাদের রাষ্ট্রনীতি। মানলে মানো, না মানলে এ পেশা থেকে ভাগো।' এরপর ডাক্তার লোকটার গলা কিছুটা নরম হল।   
  
 
আসল শয়তান  

'এবার বল, ভোট চুরি করছিলো কে?'   
'ঐ খানকি মাগী। উত্তেজিত জনতার একজন বলে, 'হাঁ ঐ খানকি মাগীটা।' সকলে সমস্বরে বলে উঠে। 
'চলো এবার তারে খেদাবো।'  
'চলেন খানকিটারে চেয়ার থ্যাইকা আছড়াইয়া নামাইমু।' জনরোষানলের প্রবল উত্তাপ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সম্মোহিতের মতো জাগরুক সে আগুনের ফুলকিগুলো একত্রিত হয়ে জ্বালাতে শুরু করে রাজগৃহ।   
 
 
গ. ফলাফল ও আলোচনা 


চলমান 

'তাহলে আমরা কি সফল?'   
'কিছু পোকা এখনো ওঁত পেতে আড়ালে লুকিয়ে আছে।'    
'হাঁ ধারাবাহিকতা অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে।'    
'নৈরাজ্য মুক্তি।'   

   
রাষ্ট্রের মূল 


'কমরেড, সবার আগে শিক্ষার দিকে আমাদেরকে মনোযোগ দিতে হবে।'    
'হাঁ, ঐ যে ডাক্তার লোকটা, প্রকৃত শিক্ষার অভাবেই ওরকম ঔদ্ধত্য ও রুগ্ন মনের অধিকারী।'  
'ঠিক।'   
'সেক্ষেত্রে শিশুদের কথা আগে বলা দরকার। অঙ্কন দিয়ে তাদের প্রাথমিক শিক্ষাটা শুরু করতে হবে। ছোটবেলা থেকেই তাহলে তারা মহৎ মনের অধিকারী হয়ে উঠবে। রাষ্ট্রের সবথেকে মেধাবীরাই তাদেরকে শিক্ষা দিবে।'   
'হাঁ, তারপর প্রাথমিক গণিত ও সাহিত্য, সঙ্গীত।'     
'তারপর বিজ্ঞান শিক্ষা। তাইতো? সবশেষে কেউ কেউ উচ্চতর দর্শনের সাক্ষাৎ করবে।'                                      
'উৎপাদক শ্রেণি অর্থাৎ কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, হস্তকারিগর এদের উৎকৃষ্ট ও মানসম্মত শিক্ষার প্রতি আমাদের মনোনিবেশ করতে হবে।'     
আসরের মধ্যমণি সকলের কথা মনোযোগ দিয়ে এতক্ষণ শুনছিলেন। এবার তিনি শিক্ষা সম্পর্কে তার বক্তব্য শুরু করলেন। বক্তব্য চলতে থাকলো। 
 

 
ঘ. শেষোক্তি   

প্রতিনিধি 

উপস্থিত জনতা সমস্বরে ঘোষণা করলেন, 'ইনিই আমাদের নেতা। ইনি জ্ঞানী, ত্যাগী, যার কোনরকম ব্যক্তিগত সম্পদ নেই—ব্যবসা কিংবা ভিন্ন কোন পেশা কিছুই নেই। ইনি কেবল-ই আমাদের সুন্দর, সুখী ও সমৃদ্ধ জীবন গড়ার তাত্ত্বিক ও তার বাস্তবায়নকারী। ইনি, সাথে এই ইনারা, মাত্র কয়েকজন।'      

 

Post a Comment

أحدث أقدم