শাকিল হাওলাদার এর দীর্ঘ কবিতা | মিহিন্দা




ব্যাস্ততার কচি পাতা ঢেকে রেখেছিল সেইদিন পুরো দেহ।
আকাশের লাল সূর্য টাটকা মাছের মতো
ভাসছিল জানালার গ্লাসের ভিতর।
সময়ের অগ্নি তাপে পাতাগুলো ঝ'রে গেল ফ্লোরে।
সেই সাথে সূর্যটাও
কুপীর তাপের মতো লুকিয়ে পড়ল যেন লাঙলের ভয়ে।
সভ্যতার পিঠে চরে বোমা আর অস্ত্রাঘাতে
ঘোড়ার মতন সভ্য করছে তারা এই সভ্যতাকে।


তাই পয়সার বুকে ডলারের নৃত্য
নীল জ্যোৎস্নার পরে বৈদ্যুতিক তার
কিংবা ল্যাম্পপোস্টের আলোর উল্লাস।
লাঙলের টুটি চেপে ধরেছে অধুনাতন সব যন্ত্রপাতি।
মানুষের কালো গ্রীবা ধীরে ধীরে গিলে খাচ্ছে
সভ্যতার এইসব ম্লান প্রতিদান।
দাদার যুগের সেই কাস্তে এখনও গাঁথা জীর্ণ রান্না ঘরটার ঐ
বেড়ার ফাঁকে।
মাঝে মাঝে মনে হয় সেটা হাসে দাত বের করে
আর উপহাস করে যেন আমাদের!
তাই সেই সন্ধ্যাবেলা খুব দূরে বহুদূরে
কোনো এক জীর্ণ ঘরে
কিংবা মাঠের মাঝে দেখতে পাইনি আমি
কোনো হারিকেন কিংবা কুপীর দূর টাটকা আগুন।
অথবা খালের বক্ষে আন্দোলিত পানি।



তবুও চলেছি হেটে আমি
তবুও চলেছি হেটে আমি
গাড়ির শব্দের মতো সন্ধ্যার বুকটা ছিড়ে জীবিকার জন্যে।
কাটাতারে বসে ডেকে উঠে এক পেঁচা।
শুকনো মাঠের পরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে
অগণ্য পেঁপের পাতা যেন
কিছুক্ষন আগে এক ঝড় এসেছিল এই মাঠে।
সে ঝড়ের ক্রোধে একে একে বাধ্য হয়েছিল ঝ'রে পড়ে যেতে সব পাতাগুলো
পেঁপে গাছটির দেহ হতে।
নক্ষত্রের নীল আলো খুব রাগ করেছিল বুঝি সেইদিন
চাঁদের আলোর সাথে।
তাই চারদিক অন্ধকার
গজার মাছের মতো এক অন্ধকার
মাঠে-মাঠে, ক্ষেতে-ক্ষেতে।
দু-একটা গাড়ি আসে বটে
শো করে মিলিয়ে যায় সাথে সাথে স্তব্ধ অন্ধকারে।


বাল্বের আলোতে বাস স্টেশনের ভাঙা সিট দেখা যাচ্ছে স্পষ্ট।
একজন নারী তার শিশুকে বুকেতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন
তৃষ্ণার্ত কাকের মতো এইদিকে চেয়ে।
বাসের জন্য অপেক্ষারত
তার চোখে বিরক্তির লেশমাত্র নেই।
আমি যবে বাস স্টেশনের পথটি মাড়িয়ে চলে
যাচ্ছিলুম,
অকাস্মাৎ সে আমার এ হাতটি ধরে
কী যেন বিড় বিড় করে বলে উঠল।
তার কালো চোখ দেখে আমি বুঝতে পারলুম,
তার চোখে শুধু ক্লান্তি
মাছের ডিমের মতো অগণিত শাদা শাদা ক্লান্তি।
হঠাৎ সে আমার হাতটি ঝাকিয়ে স্পষ্ট স্বরে বললে এবার,
নক্ষত্রের আলো রাজবন্দি!
নক্ষত্রের আলো রাজবন্দি!!

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন