মোহাম্মদ হোসাইন এর অণুগল্প | মিহিন্দা

সম্পর্ক



ঢাকার এক বড়ো নামকরা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির ছোট কর্মকর্তা সফদার মিয়া ভয়ানক শকে থ মেরে গেলেন। করোনার উপসর্গ দেখা দেয়ায় আপন পরিবারে তাঁর জায়গা হচ্ছে না! যে স্ত্রী ছেলেমেয়ের জন্য সারাজীবন করেছেন হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম তারাই এখন পর হয়ে গেল! 'ইয়া নাফসি, ইয়া নাফসি' জপতে জপতে রাতদুপুরে মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দিল ধড়াম করে! হায় হায়, এ কী হল! ডাকের কথাই কি ঠিক তবে, 'ধন জন পরিবার, কেউ নয় আপনার'?
চোখে অবিশ্বাস নিয়ে তিনি হা করে চেয়ে থাকলেন দরজার দিকে। তিনি আবার ডাকলেন,'মামণি, রাফিয়া আম্মু, দরজা খোল মা।'
কোন সাড়াশব্দ নেই। অন্য সময়ের মত উচ্ছ্বল রাফিয়া দরজা খুলে বাবা বলে ডাকে না। হাত ধরে নিয়ে যায় না ঘরে। তোয়ালে এগিয়ে দিয়ে বলে না, বাবা তুমি হাতমুখ ধুয়ে এসো। আমি ভাত বাড়ছি।
বাড়ি কাছে, কিন্তু দোর মনে হচ্ছে দূর বহুদূর। ভয়ানক কষ্টে হাড়গোড় ভেঙে যাচ্ছে সফদার মিয়ার। দুই চোখের দুই মণি এখন তাঁকে শনি ভাবছে। দীর্ঘ বিশ বছরের অম্লমধুর দাম্পত্য সম্পর্ক যার সাথে সেও করছে দূর দূর। চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারলেন না তিনি। দরদর করে গড়িয়ে পড়তে লাগল কপোল বেয়ে।
একটু পর মানিব্যাগে রাখা গ্রুপ ছবিটা বের করলেন সফদার মিয়া। সজল চোখে কিছুক্ষণ চেয়ে থাকলেন। তারপর ছিড়ে কুটিকুটি করে ফেলে দিলেন রাস্তায়।
- 'ভালো থাকিস তোরা' বলে চললেন অজানার পথে সফদার মিয়া।

১০.০৫.২০২০

Post a Comment

أحدث أقدم