গোলাম রসুল এর কবিতা | মিহিন্দা





আমাদের মর্মর মূর্তির অসুখ


আমাদের মর্মর মূর্তির অসুখ
আমাদের একাকিত্ব মেঘের ফসিল

আকাশে নুনের ছিটে
রান্নাঘর থেকে মেয়েরা দেখছে তাদের গর্ভের মধ্যে শিশুরা কিভাবে বুড়ো হচ্ছে
আর পৃথিবী একটি কমলালেবুর মতো খসে পড়ে যাচ্ছে গাছ থেকে
সূর্যের কাটা চামচ জ্বলছে
যেমন জ্বলন্ত হাত
আমরা ছুঁড়ে দিচ্ছি ভাগ্যের রুটি
মানুষের সংজ্ঞা জিরাফের গলা
তাকিয়ে রয়েছে দুটি মরুভূমি
কেউ কেউ বিপ্লবের গান গাইছে
আর মিছিলের সবার আগে ছেড়ে দিয়েছে একটি ঈগল
কাল পর্যন্ত স্বাভাবিক ছিল সবকিছু
জানি না কিভাবে নতুন করে সংক্রামিত হলো আমাদের জামাকাপড়
আমাদের মর্মর মূর্তির অসুখ



ডায়েরির পরের পৃষ্ঠার মৃত্যু


এই মূহূর্তে মৃত্যুর হাত থেকে খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ গুলোর মধ্যে আমি একজন
উহান শহরের রীতিনীতি বদলে নিয়ে
একটি প্রচণ্ড সূর্যকে তৈরি করে নিচ্ছি আমরা
যাতে সহজ হয় আমাদের বেঁচে থাকা
আর গাছের মাথার ওপর যে ঢেউগুলো দেখছি তা গত বর্ষার একটি মেঘের স্মৃতি
সে সব বলার মতো নয়
আমি নিরব থাকি
আর সে নিরবতা মৃত্যুর পরের

লেখার কিছু নেই
তাই ত্বকের ওপর আঙুল বুলিয়ে ভাসিয়ে তুলছি আমার আত্মা

জানলা দিয়ে আমি দেখছি উহান শহর পৃথিবীর নতুন একটি সংস্করণ

ভাবছিলাম মৃত্যুর পরে কিভাবে আবার শরীরে ফিরে আসা যায়
আগে কেউ এভাবে ফিরে এসেছে কিনা
আর কত কিলোমিটার দূর আমাদের সেই স্বর্গের
সেখানে ও কি যন্ত্রণায় কুঁকড়ে ছোটো হয়ে এসেছে প্রতিটি দেশ
নদীটি কি স্তব্ধ
দুধারের সুদীর্ঘ জনবসতি
জীবনের উপজাতি গুলো যেভাবে হারিয়ে যায়
সমুদ্রের প্লেট নষ্ট হয়ে জল ঢোকে চোখের ছিদ্র দিয়ে
আমাদের রক্ষাকবচ একটি মৃত্যু
ডায়েরির পরের পৃষ্ঠার মৃত্যু



আগামীকাল যখন ভোর হবে


পৃথিবীর নৌকাটা ডুবে গেছে আধুনিক সভ্যতায়
চরে ভেসে উঠেছে মধ্যযুগ
প্রাক মধ্যযুগের সেই রাস্তা দিয়ে হেকে চলে যাচ্ছে ফেরিওয়ালারা
আর ফাঁকা মাঠে পড়ে রয়েছে যুদ্ধের ইউনিফর্ম

ভ্রাম্যমাণ মৃত্যু
পাহাড়ের ওপর বৃদ্ধ পিতার স্থাপত্য
চেয়ে দেখে ফিরে আসছে  কেউ কেউ
কে জানতো আমেরিকা হারিয়ে যাবে
আর আঙুলের ফাঁকে গজাবে এত অন্ধকার
ফুরিয়ে যাবে নদীর  আলো
হত্যার আগে পশুদের চোখের মতো হয়ে এসেছে মানুষের চোখ  ব্যক্তিগত বলে আর কিছু নেই
আরম্ভ  হয়েছে কিছু কিছু দেশে
 ভেঙে যেতে  মানব রাষ্ট্র

পৃথিবী এখন সেই মেঘ 
যে ভাবে আমরা মরে মরে যেতাম হাজার হাজার বছর
আর পুনরায় জন্ম দিতাম ভালবাসা
জীবন উড়ে চলে পাতা খড়ের মতো
পিছনে  ফিরে দেখা সান্ত্বনাটুকু
আর স্বস্তি নিয়ে আসে কিছুক্ষণ
আমাদের অনুমান অসুখ সেরে যাবে আগামীকাল যখন ভোর হবে
   



আঁধার

তুমুল বৃষ্টির মধ্যে পিওন এসেছিলো
ডাকবাক্স খুলে দেখি আইস ব্যাগে রক্ত
আকাশে ভয়াবহ মেঘ  ভালো না লাগা বই
সৃষ্টির প্রথম থেকেই গড়িয়ে আসছে জল মানুষের কাঁন্নায়

নরকে সন্ধ্যা নামছে  শহর
সভ্যতার মর্মর মূর্তি বজ্রপাত

শুধু মাত্র আলো জ্বেলে তৈরি ঘর
আলো নিভিয়ে আঁধার করে নিই
ভালো করে দেখবো বলে আমার অসুখ
 




মনীষীদের মূর্তি গুলো চেয়ে রয়েছে



পৃথিবীর বিরলতম সময়
আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে আসছে সূর্য
পর্বত উড়ছে বিপদ সংকেত
আর সমুদ্র মুড়ে নিচ্ছে তার  ভিজে পালক

সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে
এবার মর্মর মূর্তি গুলো বেজে উঠবে
মোলায়েম পাথরের ওপরে ভেসে উঠবে অনেক দূরের সুর
কে গাইছে অমরত্বের গান
ছোট একটি পিয়ানোয় আলো জ্বলছে সন্ধ্যাতারা যা আমাদের সান্ত্বনার মতো
আঙুলের সিঁড়িতে বসে  আমি আকাশ দেখছিলাম
যে আকাশ আমার নয়
গর্ব বোধের মতো মেঘ 
আর  কোথায়ও বৃষ্টি হচ্ছে মনুষ্যজাতির   কান্না 
রাত্রি  চমকে দিচ্ছে
প্রকাণ্ড গাছের মতো
শিশুরা স্বপ্ন দেখছে নরকের
আর মানবতার জন্য যে যুদ্ধ আমরা করেছিলাম তার কিছু  অংশ ঝুলে রয়েছে
রোগা বাড়ির ওপর চাঁদ
অশুভ ঘোড়ার মতো দৌড়চ্ছে
হত্যালীলার সাইরেন
মৃত্যু পুড়ছে মৃত্যুর ভেতরে জনমানবশূন্য
অন্ধকারে কে ছবি আঁকছে আগামীকালের
আর মনীষীদের মূর্তি গুলো চেয়ে রয়েছে
         

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন