দুর্জয় খান এর কবিতা | মিহিন্দা




A B পাঠের নিজস্বতা নেই


A

অতঃপর, পূর্বতন প্রয়োজনীয়তাকে সীমিত করা হলো,
আখ্যায়িত করা হলো ' ডেড অফ রিয়েলিজম নামে '। সা রে গা মা - মা'তেই আটকে থেকে গেলো সুললিত স্বর। শিল্পকলা বুঝতে পারিনি বলে আর্টপেপার পুড়িয়ে ফেলেছি প্রযুক্তির উৎকর্ষতায়। ধরে নাও, প্রতীকধর্মী চিত্রকলাকে পরিচর্যা করা হয়নি নিশ্চিতরূপে; এ-ও এক গভীর রোদন চোখের ভেতর! স্বেচ্ছামৃত্যুর কলায় নৈশকালীন উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় ছিঁড়ে গেছে হৃৎপিণ্ডের সুতো! না,এখানে কোনো ভণিতা নেই আজ, নেই সুশীল শূণ্যে উড়বার তীব্র বাসনা।


B

পরিশীলিত শিল্পধারায় মানুষ একটা মরে যাওয়া ছবি ; ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের অধিবাসী। মানুষের নেই কোনো নিজস্ব রঙ, নেই কোনো রূপবিজ্ঞানের দর্শন ; এতোটাই নির্বোধ মানুষ যে, কংকালের উপর মাংসকে প্রতিনিয়ত সাজিয়ে তুলছে শিল্পকলার স্বরূপ ভুলে। লিঙ্গের উত্থানে পৃথিবী জেনেছিলো একদিন তার হাত থেকে তার ক্ষমতা হারিয়ে যাবে! বনবিহারে মানুষ ক্রমে ক্রমে পৃথিবীকে করেছে প্রাণশূণ্য গ্রহ ; অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে প্রত্যেকে একেকজন দক্ষ অভিনেতা। পৃথিবী জেনেছে তা অনেক আগেই, জানলে কি হবে! জগদীশ্বর তাকে জগত নাম দিয়ে নিজস্বতা কেড়ে নিয়েছে!




চিত্রকরের দল





পয়েন্টিলিজমের প্রবাল স্রোতে পৃথিবী ধুয়ে মুছে যাচ্ছে ; চলমান একটি প্রক্রিয়া___বাতাসের উপর ভর করে হালকাভাবে উড়ছে তাবতসিম্বলিজম। ক্রমশূণ্য বলয়ের বৃন্তে ফুটে উঠছে নগ্নকালের অবয়ব, নদী___মাঠ___সরিষাক্ষেত___দীর্ঘ ___সরু___উলম্ব পথের উপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে উনিশ শতকের সূর্যোদয়ের ধারণা! কিছু দ্বিধায় ফেটে পড়ছে অনাগতকালের কলস ; কোনো কলস ভেঙে গেলে বধূদের হৃদয় দুমড়ে মুচড়ে মরে যায় বুঝি! পাতাবাহারের বাগানে____অথবা____ধুলোমাখা পথে!


মাটির কাছে কি পেলো এসব চিত্রকরের দল!



হাড়ভাঙার গানে রোজ জেগে উঠে সমুদ্রের পাখি
তাহাদের বেলা ফুরোবোর আগে চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে যাচ্ছে সময়ের ঘুড়ি ;

গলাকাটা বাগান, শ্বেত পাথরের বুকে শুয়ে থাকে মৃত ভায়োলিনের সুরে______নেই কোনো হাহাকার ___ নেই কোনো পাখিভোরের মোহ! মার্ক ক্যাথোরিন দ্রুতগতিতে পালিয়ে যাচ্ছে সীমানার ওপারে। এই যে এক জলগোলাপের আত্মা ; বাদামী খোলস ছেড়ে ঝুঁকে পড়ছে পৃথিবীর বুকে______ এও কি মেনে নেয়া যায়! মেনে নেয়া যায় কুয়াশাচ্ছন্ন সাদা পৃথিবীর কাপড়!

উন্মুক্ত পেয়ালায় চুমুক রেখে মরে যাচ্ছে ছোট ছোট শহর!







স্বর্ণাভ চাঁদে মোহনীয় আকর্ষণ






সময়ের স্নায়ু থেকে একটা জড়তা কেটে গেলো আজ
এক স্বর্ণচাঁদের মুখ থেকে বেরিয়ে আসছে অগণিত জ্যোৎস্না; প্রেমবিদ্যার___ স্থির জলের উপর!

স্নিগ্ধতা তার প্রাণআয়ুর। প্রস্থানকালে আকাশের দীর্ঘতা বৃদ্ধি পেলো,বেঁচে যাচ্ছি জলঢুমুরের চুমুতে, জ্যোৎস্নার চুমুতে; এ এক প্রতিলম্ব প্রণয় যেনো!

একটি ভাবনার সুড়ঙ্গে একজোড়া চোখ___ একজোড়া হাত___একজোড়া ঠোঁট ___একগোছা চুল ; পরস্পর সমানুপাতিক গতিতে ধেয়ে আসছে বুকের ভেতর!

অদ্ভুত একগোছা চুল! ঘ্রাণশিল্প অনুভব করি দৃষ্টির কারুকাজে___ তবুও পুনরুদ্ধারে অতিকায় কৃষ্ণবিবর আমাকে পিছনে টেনে আনে শূণ্যের দোরগোড়ায়! এ কেমন অনুভূতি! এ কেমন রাত! এ কেমন ধৃষ্টতা! এ কেমন প্রকাশভঙ্গি! রাতের ঝাউগাছ নেতিয়ে পড়ে বৃষ্টিবিলাসে;

একটি অনন্ত জিজ্ঞাসা! কেনো হয় আমার সাথে এমন! নির্মিত রসের পেয়ালায় চুমুক দেয়ার মোহে ফিরে যাচ্ছি নাকি এগোচ্ছি স্বর্ণলতার দিকে; কেবল চোখ তুলে চেয়ে থাকি স্বর্ণচাঁদের জ্যোৎস্নায়! আহা! এমনও রাত হয়, আনন্দে গুমরে কেঁদে মরার মতো!!






আমি ও আমার রহস্য




আমি হচ্ছি সেই ডুবে যাওয়া বিয়োগ, যে যোগফলের মোহে দাঁড়িয়ে থাকি বর্ণহীন আয়নার সামনে। ভোরের সরল সূর্যের মতো আমার উপাখ্যানে তার কাঁচা রোদ্দুর লেগে আছে ভীষণরকম! দ্যাখো আমি ভোরের পাখি, খোলা হৃদয়ে জেগে উঠেছি আয়নার বুকে। তীব্র আহ্লাদী সুরে আমাকে টেনে নিচ্ছে ভোরের আয়না! আয়না আমার কেবল ফ্যাশন নয়, এক জীবন্মৃত আমি। যেমন তোমরা আয়না বদল করো, আমি আমাকে শতচেষ্টায় বদলাতে পারিনা! আমি বদল হতে পারলে কাহারবা সুরের রহস্য উন্মোচন হয়ে যেতো আজ, আধুনিক বিশ্বের কাছে।।






সে ও দর্পণ



তার অন্তর্যোগের উপমা
আমার নিভৃতচারী বিশ্বাস
এক মেঘশোভিত খেলা। দর্পণের মুখে সম্মোহনী প্রণয়
খোলা চুলের আবেশে পরিপূর্ণ হলো আমার স্নায়ুকাল!

সে ছিলো! হৃদয়ের গাঁথুনি
তার প্রেম ছিলো! স্বচ্ছ আয়নার মতো
তার লেগে থাকা ছিলো বৃষ্টিবিলাসের অবসর
আমি ফুলের সম্মোহনে পাপড়িমাখা ভোর
সে এক ছুটন্ত পায়ের সাদা ঘোড়া
আমাকে মাড়িয়ে গেছে বহুবছর আগে!


1 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন