আবিদ আনজুম তমাল এর কবিতা | মিহিন্দা




দেহত্যাগ



আমি যখন তিরতির করে কাঁপা সন্ধ্যায় কাঁশফুল কুড়োচ্ছি,
আমি যখন মরুভূমির বালুকণা গুলোকে তোমার গল্প বলছি,
আমি যখন ফালি ফালি করে কাটা রোদ্দুরে দুপুরগুলো ফুরিয়ে ফেলছি,
তখন তুমি একঝলক তাকিয়েই নক্ষত্রে যাবার জন্যে তৈরী হলে!

আমার হৃদপিন্ডের রুপালী গাছটা হঠাত্ করেই নীল হয়ে গেল,
মনে হল অজস্র সরীসৃপ আমাকে টেনে নিয়ে
চলছে তোমার লাস্যমাখা বাহুডোর থেকে,
কতগুলো শতাব্দী ধরে যেন অরণ্য আমার
শরীরে শিকড় জড়িয়েছে!

তোমার কথার সূতো কেটে গেল যখন,
এদিক ওদিক তাকিয়েও আমি ছায়াপথের রাস্তা পেলাম না,
মহাকাল যেন চুষে চুষে খেয়েছিল আমায়!

বিশাল এ্যলবাট্রসের ডানায় চেপে তুমি
যখন সময় হলে,
আমি সন্ধ্যা হয়ে গোধুলী দেখছিলাম!
তোমার ছায়াও হয়ত দেখেছিলাম তখন!

অভিমানী স্বপ্নদের পাঁজর ভাঙা কঙ্কাল
পড়ে থাকতে দেখলে ,
আমার খুব তোমায় ছুঁয়ে থাকতে ইচ্ছে করে,
প্যাস্টেলে ঘসে ঘসে ছায়ার ছবি আঁকতে ইচ্ছে করে,
আমি তখন ঘুমিয়ে পড়ি!

বহু ক্রোশ পর আজ সহস্রফোঁটা বৃষ্টি ঝরছে,
আজ আমিও নক্ষত্রে যাব,
তোমার ছায়াপথ ধরে!




আমিত্ব-তুমিত্ব!




একটা ফুল ভাসা মেরুন বিকাল,
আমার সাতাশ তলার ঘর- যেন আকাশের কাছাকাছি!

বাতাসের অস্তিত্বে তিরতির
করে কাঁপছে পৃথিবী,
বাথটাব তখন টুকরো কাঁচের সমুদ্র!
বেহালার শেষ সুরের অপেক্ষায়
সাজিয়ে রেখেছি,
ফেনায় ফেনায় জমে আছে সুখ!

এসো একবার,সুর তোলো।
নীল ফুলটাও শুকিয়ে যাচ্ছে, দ্রুত!

একবার এসো,আমাকে তোমার
লাস্যমাখা বাহুডোর থেকে
মুক্ত করো,
কাঁচের সমুদ্রে একা ডুবে যাই!

তোমার স্বপ্নে আমি তো প্রতিরাতে 
এমনিই খুন হয়ে যাই!

বাতাসের ঘর বাড়ি, বাতাসের সম্পর্ক
ফিকে হয়, ছিঁড়ে যায়, ফিরে আসে তবু-
ডুকরে ডুকরে কাঁদে,ব্যাকুল হয়ে কাঁদে!

বালির অপরাধে কাঁদে পৃথিবী,
কতো নীল নিয়ে কাঁদে আকাশ,
তবু ভীষণ অস্পষ্ট থাকি আমি!

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন