ইফতি আরিফ এর কবিতা | মিহিন্দা

 


অলখ



অলখ,
আমি তোমার শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছি।
যে শহরে তুমি নেই, সে শহরে ঝিঁঝিঁরাতো বিদ্রোহ
 করবেই।
তোমার আমার মাঝে যে সুরমা নদী,
অপার হওয়া দু'শো ঊনসত্তর  কিলোমিটার-
যেখানে প্রশ্নবিদ্ধ আমার অতীত, অথচ আমি কে..!

ভালোবাসার স্বার্থেই তুমিই ভালোবাস, তাইতো..!
অথচ কি অদ্ভুত তুমি কি অদ্ভুত তোমার অনুভূতি।

দেখো, আমিও বারবার চেয়েছি
 হাওড়া বিলের মনপুরার মাঝিনীর মতো
কোন এক মায়াবতী আত্মজার নায়ে
চিৎ হয়ে শুয়ে থাকতে..
যেখান থেকে দেখা যাবে আকাশের উজ্জ্বল লুব্ধকটি।

মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় বর্তমানকে থামিয়ে দেই,
আর কোন অতীত চাইনা,
যেখানে ফেলনা হয়ে থাকবেনা ফিকে স্বপ্ন,
 যে স্বপ্নে ছিল তোমার হাত ছোয়ার ব্যর্থ প্রয়াস,
মিথ্যে আকাঙ্খা ছিল তোমার কদম ফুল নিয়ে আসার।
তারপরো যে সুরমায় কাক উড়ে
সে জলে পা না ভিজাই কি করে বল..??
যে কবিতা পুরোনো হয়ে গেছে
দরকার কি তার লাইন হয়ে যায়।
পুরো দমেই যে কবিতা লিখে ফেলে
তার ভালোবাসা কি মোহে প্রকাশ পায়,
 তার প্রকাশনা শুধু রচনায় ; মিথ্যে ভালোবাসা বুলিতে!!
তবুও সে চায় মিথ্যে ভালোবাসুক; কাকে..? অন্যকাউকে।


আমার কিছু দুঃক্ষ আছে, হাওড়া ভাঙ্গা নদী আছে,
নেই ভালবাসার মত অন্য কেউ।
দুঃক্ষটা একান্ত ব্যক্তিগত।
যে যার গত সে হতে চায় তার মত।

পদ্মপরাগে যে রেণু লুকায়-
সে কি ভয় পাওয়া প্রেমে গল্প জানে, জানবে হয়তো।  
আমার মতো করে হেটে যাওয়া সাতশ আটাত্তর মিটার
রাস্তা সেদিন খুব অল্পই বোধ হবে।
ওইদিন তুমি আর বারবার সময় দেখতে চাইবেনা।
স্বাক্ষী থাকবেনা একশ বিশ জোড়া ল্যাম্পপোস্ট।
 তারপরও তোমার অপূর্ণতা থাকবে,
থাকবে কথা লুকানোর ব্যর্থ প্রয়াশ
বলতে পারবে ওইদিন চেপে রাখা ভালোবাসার কথা।
দিতে পারবে কি চৌহাট্টা থেকে কুড়িয়ে এনে বেলীফুল;
হয়তো পারবে..!
কারণ কবিতা মিথ্যে বলেনা,
যদিও আমি বলি।


তারপর তারপর করে বাধাধরে নিয়মে চলে যায় সে,
উইপোকার পাখা গজানো মতো করে সেও স্বপ্নে দেখে
কোন এক মাঝ বিকেলে কেউ আসবে,  
কেউ আসবে বাদাম হতে..!
তারপর খুলে যাবে হৃদয়ের দুপাট্টা দরজা,
হয়তো কেউ উচ্চস্বরে বলবে-
'আমিও ভালোবাসতাম',
নতুবা মৃদ্যু স্বরে-
'আমায় আর খুঁজনা অলখ
এই শহরে আমি আর নেই।'



 ইতি হবো


চারদিকে যখন তোর আর কোন পথ খোলা থাকবেনা,
আকাশে যখন তারা কিংবা নক্ষত্রও থাকবেনা,
তুই চাইবি; চাইবি আমাকে..
কিভাবে; অন্যপথ...! সে অন্যপথ..।।

চোখ বন্ধ করলে যে অন্ধকার, সে অন্ধকরে আমি।
কেউ ফিরবে কিনা অপেক্ষায় থাকিস..
খোলা থাকবে হৃদয়।।

আমি তোর শেষ।
তোর পথের শেষ যেখানে,
আমি শুরু হব সেখানে।।

হয়তো প্রিয় দিয়ে শুরু হলাম না,
অপ্রিয়ও হবো না।
প্রিয় অপ্রিয়র মাঝে-
জোনাকির মতো ক্ষুদ্র সময়ে সমাপ্তও হবোনা..
কিন্তু তোর সবকিছুর ইতি হবো।




জোঁক


মাথা কুড়ে কুড়ে মগজের স্বাদ নিচ্ছে কেঁচোর মত
কিলবিল করা একটা জোঁক। কেলোসামকে অনবরত
পিটে যাচ্ছে একদল কামার। শোষণ ক্ষমতা এই প্রখর
যেন হৃদপিন্ডে বাসা বাঁধছে কয়ে'টা মাকড়সার দল।
আমার আঙুল ধরে আগাছার মত বেড়ে উঠেছে সভ্যতা
ও তার নানান শেকড়, কিন্তু নখের ডগার ভর দিয়ে দাড়িয়ে
আছে চীন ইউকে'র তাক করা বন্দুক-নল, যেন
রুখে দিচ্ছে আদমের জৈবিকজীবনকে..।।

আমার চেতনা দন্ডে অনবরত শুরশুরি কেটে যাচ্ছে
প্রেমিকার হাতে থাকা কাশফুল। সৈনিকের পা বেয়ে
ঝরে যাচ্ছে রক্তের স্রোত, আমার পিঠ টেনে বয়ে নিয়া
যাচ্ছে সুদারুর বাংলা মেয়ের পিরিয়ডের রক্তস্নাত
চাদর। এখন সে অপেক্ষমান আমায় ভেবে দিব্যি স্বপ্ন
দেখে একটি সেটিস্ফাইড অরগাজমের..অথচ
শুয়োপোকার মত জোঁক দেখে প্রথমবার মেয়েটা একটু
থমথম খেয়ে ভয় পেয়ে পিছিয়ে গিয়েছিলো ঠিকই, কিন্তু
খেলাটা বুঝে উঠতেই রাজনীতির মতো করে কতটা
উন্মাদনা নিয়ে যেন শুষে গেল আমারি পুরুষালি স্তন..।।

আমার নাক শুষে যাচ্ছে দুর্নীতির দুর্গন্ধ, তবুও আমার
মুখ চেপে ধরে আছে স্বাধীনতা নামের উদ্ভব মাস্ক, এতে
আমার বমি বমি ভাব হয়..। তারপরো তোমারা বলবে
আমার এতো বমি বমি হচ্ছে কেন! অথচ বোকা শালারা
বোঝেইনা অবৈধ প্রেগন্যান্সির দায় দিয়ে কিভাবে
তারাই নিজস্ব লিঙ্গকে বিধবার মালা পড়াচ্ছে ..!

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন