রুপম ঘোষ এর কবিতা | মিহিন্দা



যে হিসেব রাখে না


পৃথিবী জুড়ে তাবড় তাত্ত্বিক ব্যাস্ত শ্রম আর পুঁজির হিসাব রাখতে,
নেতারা ব্যাস্ত, কে শ্রমের কত কম  দাম দিলো,সেই তর্কে ।
কবি ব্যাস্ত ,
প্রেমিক ছেড়ে মে দিবসে অন্তত একটা শ্রমিকের কবিতা লিখে ফেলতে,
আগুনখেকো বিপ্লবী ব্যাস্ত, 
শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন করতে কোথায় কোন ইটভাটার আগুন
 নিভিয়ে দেওয়া যায় ফেসবুকে তা পয়েন্ট আউট করতে,
দুআঙুলে সিগরেট ধরে ফেমিনিস্ট মহিলা ব্যাস্ত,
যৌনকর্মীর রোজকার শ্রম লিপিবদ্ধ করে রাখতে,
সদ্য গোঁফ ওঠা ছেলেটা স্বপ্ন দেখতে ব্যাস্ত,রূপকথার রুশ দেশে।
আর ইতিহাস ব্যাস্ত মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে বিপ্লবের কঙ্কাল তুলে আনতে।

শুধু কোনো ব্যস্ততা নেই আমার আর মায়ের,
আমি পুঁজি, মা শ্রমিক,
কোনোকালেই আমি তার সঠিক মূল্য   চোকাতে পারি নি।


লং মার্চ


বেখাপ্পা জুতো পরে পায়ে ফোস্কা উঠলে
জুতো জোড়া বাতিল করে দিয়েছি,
নতুন জুতো এসেছে ঘরে।
একজোড়া ঘরের, দুজোড়া বাইরের, 
আরেকজোড়া রাখা আছে শুধু বাথরুমের।
একবার অফিস থেকে বাড়ি ফিরতে নতুন জুতোর স্ট্রিপ টা গেল ছিড়ে,
খালি পায়ে লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে গেছিল,
বিপিন বাবু বললেন,"ফুটপাথ থেকে কেন নাকি?"
তাই ব্র্যান্ডেড ছাড়া আর পরি না।
প্যান্টের সাথে ম্যাচিং করে অনলাইনে যে জুতোটা অর্ডার দিয়েছিলাম,
ডেলিভারির পর দেখলাম কালারটা খুব ফেডেড,
তাই অনলাইনে বন্ধ।
এখন শোরুম ছাড়া আর কিনি না।
সস্তার জুতোতে ঠিক কম্ফোর্টেবল ফিল করি না।
তাছাড়া কে যেন বলেছিল,জুতোয় নাকি রুচি আর আভিজাত্য চেনা যায়,
তাই অরিজিনাল লেদার ছাড়া আমি আর পড়িনা।
ড.সেন বলেছেন ,'পায়ের গড়ন ঠিক নেই,পায়ের যত্ন নিন।
আপনি বরং ওই কোম্পানির জুতো নিন।'

পায়ে জুতো নেই বলে 
সে বছর'আদিবাসী ইলেভেন' কে মাঠে নামতে দেওয়া হয় নি।
তাই আমার বায়নায় ঘরে এসেছিল পাঁচ হাজারি  স্পোর্টস সু।
জুতোয় পা দিয়েছিলো বলে,
নেংটা বিশে কে আর কখনও আমাদের টিমে নেওয়া হয় নি,
আমার জুতোয় পা দিলে ,আমি এখনো ঝগড়া করি,
কিংবা মন খারাপ করে ঘরে ফিরি।
পায়ের লোম তুলেও আমি পায়ের যত্ন নি।

অথচ রোজ টিভি তে দেখছি,
ওই দুটো পায়ে দিনরাত হেঁটেহেঁটে বাড়ি ফিরছে আমার ভারতবর্ষ।
পায়ের চিহ্ন বুকে এঁকে দিয়ে যাচ্ছে আমার ভারতবর্ষ।
এই সব কিছু ঠিক হিসাব করে রাখবে আমার ভারতবর্ষ।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন