মোঃশাকিল হাওলাদার এর কবিতা | মিহিন্দা




আজরাঈল



১)


গাঁওয়ের মাঝে সব দৃশ্যমান আজরাঈল উঠেছে জেগে
শিশুর কান্নার মতো পীতবর্ণ রোদ্র ছিড়ে ছিড়ে খাবে বলে।
ভরেনি তাদের পেট সবুজ ঘাসের মতো ঐ নভের মেঘে।
আর মানুষের স্বপ্ন___কোটি কোটি শ্বেতবর্ণ স্বপ্ন পুড়ে ফেলে?
অগণিত শিশুদের কান্না খেয়ে তাহাদের পেট কি ভরেনি?
এখন তারা কি চায়?টাটকা ভোরের সেই পীতবর্ণ রোদ?
এমন টাটকা রৌদ্র এখন কোথায় পাবে?তারা কি দেখেনি
ভয়ানক শীত শুষে নিচ্ছে তার শরীরের সবটুকু ক্রোধ?
দখল করেনি তারা জোর করে সমুদ্রের সব নীল জল?
নৃশংসভাবে তারা বিনষ্ট কি করেনি নারীর বুকের দৃশ্য?
তাহলে কীভাবে তারা ছিনতাই করে রিক্ত রৌদ্রের উপল?
কবে তারা হয়ে গেল এক অতি বৃদ্ধ চিল কিংবা নিঃস্ব?

এমন কঠিন দিনে তারা ছিড়ে ছিড়ে খাচ্ছে ঐ রৌদ্রের বুক।
তাই বলে ঐ শকুন নীল আকাশেতে উড়া বন্ধ তো করেনি।
কত লক্ষ-কোটি হাত চেপে ধরলে তাহাদের রক্তিম চিবুক
ছেড়ে দিবে সেই হাত ডানার মতন এক বালিকার থুতনি?

২)


ঢের ভুল করেছিল জন্মে কি এই গাঁয়ে আমার সেই মাতা?
ঢের দোষ করেছিল জন্মে কি এই গাঁয়ে আমার সেই পিতা?
আর কত রাত্রি খুন হলে ক্ষুধা নিবারণে তারা পাবে চাল?
ক্ষুধার ভুখণ্ডে সব সমান!কখনো সে কি দেখে কোনো কাল?
শূলিতে চড়াতে হবে আর কত কালো সন্ধ্যা,কালের দ্বিতল?
আর কতবার এই মেঝেতে গড়িয়ে পড়লে ক্ষুধার জল,
তাদের ঐ পাতিলের সরা হতে ভেসে আসিবে ভাতের গন্ধ?
ক্যালেন্ডার হতে আর কত মাস মুছে গিয়ে আকাশের চন্দ্র
নিঃশেষ হতে হতে ঐ কালো অমাবস্যায় ছিনতাই হলে
আমাদের জন্য নিয়ে আসিবে একটু ডাল, চাল আর চিনি?
নীল স্বপ্নগুলি যদি ভাতের অভাবে গাঢ় নিঃশ্বাস ফেলে
চলে যায় ঐ জঙলে,___তখন কি হবে দিয়ে চাল,ডাল,পানি?

কত ক্ষুধাতুর প্রাণ শুনাচ্ছে তাদের শিশুদের কত গল্প____
রাত পোহালেই তবে ডাল-ভাত হবে,___সত্যি!মাথার কসম।
তবুও পায় না তারা কখনো সে চালের হলেও অতি অল্প।
তবে কি মাথার পরে রাজত্ব করিছে আজ সব রিক্ত যম?

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন