আমিনুর রাজ্জাক দফাদার এর কবিতা | মিহিন্দা




ডাক

তীক্ষ্ম ডাকে জেগে ওঠা -------

ঝলমলে আলো। চেনা জানা মুখের হাসি-কান্না
চৈত্রের রোদের মতো রাগ অথবা
কোন এক বিকেলের মতো অভিমান

এতো ব‍্যস্ততার ভিতর সন্তানের মুখ
স্ত্রীর ফাইফরমাশ
বৈশাখী ঝড় সহ বজ্রবিদ‍্যুৎ ছিন্ন করে সম্পর্ক
দুটি অবোলা জীব। তাদের বৃষ্টিভেজা চোখ

ধর্মগ্রন্থ অথবা মহাপুরুষদের বাণী
মা-আব্বার স্থান ! পৃথিবী হারিয়ে ফেলছে
অভিকর্ষজ বল এবং আবর্তন গতিপথে কলঙ্ক
ভেঙে যায় আয়না -----

আবারও সেই ডাক। একটা বিন্দুতে অস্তিত্ব
হারায় মানুষ। অন্ধকারে বিলুপ্ত মন।

সামুদ্রিক জাহাজ দিগন্তের গায়ে নক্ষত্র
সেই নক্ষত্রে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ

ক্লান্ত শরীর বিছানাজুড়ে। মানুষটাকে
ডাকেনি কেউ বহু বহু বছর পরেও।




                     করাল
            


প্রতিমুহুর্তে মৃত‍্যুর বীভৎস হাতছানি
বিষণ্ণ জ‍্যোৎস্নার প্লাবনে ভেসে যায় বিমর্ষ-নিথর দেহ-
লাশ কাঁদে -- ঘর ভাঙে-- তবুও
ছুঁতে পারে না স্মৃতি ---- !

কোথাও আলো নেই। ভরদুপুরে দুয়ারে
দণ্ডায়মান কালো ছায়া। কালের করাল গ্রাসে প্রিয় মুখ---- !

রেশনের লাইনে ভুখা পশুর মতো --- !
শাসকের বেহায়া থাবা -- রক্তাক্ত 
লাশ গণতন্ত্রের গণকবরে --- ! লকডাউনের করালদিন
চক্রাকারে কেড়ে নেয় অধিকার -------

জীবনের আকাশে রক্তরাঙা  মেঘ
আঁধার ঘরে বসন্ত কাঁদে-- স্মৃতির পাতায়
কঙ্কালের বিবর্ণ সুর -----

আয় বাছা ঘরে আয়
আমরা আগুন পেটে মৃত‍্যু জড়িয়ে ঘুমাই--- !


    


                        ষড়যন্ত্রকারী 
            


স্বপ্ন ভাঙতেই মায়ের মুখ
গাঁয়ের সোনা রঙা ধানের পাশে রক্ত -------
ভারুই পাখির নাকে গন্ধ-- কয়েক ফোঁটা অশ্রু --
নতুন ষড়যন্ত্রে মায়ের কম্পিত শরীর ---!

ওরা উলঙ্গ--- হাঁটছে পৃথিবীর বিখ‍্যাত
পার্কে--- সমুদ্রসৈকতে--- প্রকাশ‍্য রাজপথে ---
বুকে অমরত্বের সাহস -----!

কালচক্রের কিতাবে ভাঙন কথা --- 
অট্টহাসির খোরাক---- 
জুতোর তলা অহমিকা-- দম্ভে পূর্ণ 
ষড়যন্ত্রকারীরা মানুষের পাকস্থলি চিবাই প্রতিক্ষণে--

আরশোলা ওদের খোদা
কে যেন হাসছে --- অবাক এবং বলছে- নির্বোধের দল
মায়ের বুক রক্ত নদী --- সন্ত্রস্ত মন --- !

যজ্ঞের আগুনে পুড়ে যায় সংসার --------

              

                        গণতন্ত্র খনন

          


গণতন্ত্র খননে মাথায় চক্কর ---
অবেলা -- ডুবন্ত সূর্য -- পাখিদের ডনায় আগুন
নিজের ঘামে সাঁতার -- পৃথিবী রক্তের সমুদ্র --
অসহায়  নোনাজল -- লাল শিশির ---

ঘরে না ফেরা যৌবন রাক্ষস সময়ের কবলে
বাতাস বয়ে আনে বাষ ---
মাটির সংকীর্ণতায় নিভে যায় আলো
পথে বিছানো নিহত কঙ্কালদের ঝাঁঝরা হাড়

মনতন্ত্রে আতঙ্ক মেঘে আগ্নেয়গিরি 
মস্তকহীন কঙ্কালদের হাতে ক্ষয়িষ্ণু তলোয়ার ----
পুড়ে যায় রক্তের স্তুপ --- !

অ‍্যালুমিনিয়ামের হাঁড়িতে অসংখ্য ছিদধ
চটা ওঠা থালায় পড়ে আছে ভাগাড়ের মাংস
লাইনে দাঁড়িয়ে মা ---!

পৃথিবীর শেষ স্টেশনে চোখের জল
পুড়ে যাওয়া রক্ত -- হাড় খুঁজে পেতে চাই 
একটা আঁচল ----- !

            


                          যজ্ঞের  আগুন
               


অভাবের আধিক‍্যে ফুল ফুটেছে মরা গাছে ---
ভ্রুণের আর্তনাদে মৃত‍্যু সংবাদ
ধর্ষিত অন্তস্বত্ত্বা -- ধারালো অস্ত্রে পেট সমুদ্র --!
মিডিয়া অন্ধ -- প্রশাসনের নাকে উর্দি জড়ানো  ---! 

চক্রব‍্যুহ--- যজ্ঞের আগুনে মা- সন্তান 
ভীত-সন্তস্ত আগুন কেঁদে কেঁদে নিভে গেছে-- অযোধ‍্যা কিংবা সবরমতি তীরে ---
বসন্ত ফুলে কালো রক্ত --! অর্জুনের রথেরচাকার তলায় হাজার হাজার ভ্রুণ ---

বেদ পুরাণ গীতা --- ত্রিনয়নে এক কথা
গুজরাটের সেই শিশু---! জনালার শিক ধরে
চিৎকার -- পুড়ে ছাই -- জীবন এনেদাও -- !

আরব থেকে ভারত চক্রাকারে জীবন্ত শিশু  
অজ্ঞতার পরৃ সভ‍্যতা তবুও ----!

ভ্রুণ আরও একবার আঁধার থেকেআঁধারে --- 

                 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন