উপমা দত্ত এর কবিতা | মিহিন্দা




সে ছুটে চলেছে


বাতাসে বাড়ছে অক্সিজেন, বাড়ছে লাশের গন্ধ।
পৃথিবীর বুকে প্রভুত্ব করা দেশগুলো,
আজ অসহায়।
এক অদৃশ্য ভয়ে বন্দি, মনুষ্যকূল।
প্রকৃতি নিজের প্রতিশোধ নিয়েছে,
হেরে গিয়েছে শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিমত্তা।
খাঁচার পাখিকে গৃহসজ্জার সরঞ্জাম বানানো মানুষ, আজ স্বেচ্ছায় নির্বাসিত।
এ মহামারী দেখছেনা
কে ব্রিটেনের রাণী,
কে রাস্তারপাশের বাস্তুহীন ক্ষুদার্থ প্রাণী।
সে শুধু ছুটে চলেছে নিজ গতিতে,
পৃথিবী ভ্রমণের অভিলাসে।




ভার্চুয়াল জগত


মাকড়সার জালের মতো
নেটওয়ার্কে, আজ বদ্ধ জীবন।
মোবাইলের স্ক্রিন আর কম্পিউটারের কীবোর্ডই যেন
একমাত্র কর্মস্থল।
 লাইক কমেন্টস আর শেয়ার
এখন মেটায় আত্মতৃপ্তি।
ফলোয়ার আর ফলোয়িং এর সংখ্যায় মাপা হচ্ছে যোগ্যতা।
প্রযুক্তির এই উন্নয়নের নামে,
ভার্চুয়াল জগতের কাছে ক্রমশ হেরে যাচ্ছে বাস্তবজীবন।


আকাশের ছবি 


সেদিন আকাশে আধাঁর ছিল
মনে তে শঙ্কা,
হঠাৎ করে আলোর ঝিলিক
আকাশে বাজচ্ছে হাজার দংঙ্কা।
 নুপুরের মতো ঝুম ঝুম শব্দে,
চারিদিক হলো মুখরিত।
স্নিগ্ধ হলো নিখিল ধরা,
আকাশে দৃশ্যমান হলো আবার
আলোর ধারা।
আধাঁর ঠেলে বেরিয়ে এলো আলোকিত রবি;
দেখলাম শুধু চেয়ে আমি,
বৈচিত্রময় এই আকাশের নানান ছবি।



ফাগুন 


ফাগুন আসে ভালোবাসায়
অধরাকে পাওয়ার আশায়

ফাগুন আসে রঙের ছোয়ায়
রাঙিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়

ফাগুন আসে অতীত নিয়ে
প্রাক্তনের বারান্দায় 

ফাগুন আসে নতুন পাতায়
মৃত প্রাণে জীবন দেয়।



মেয়ে মানুষ


জন্ম থেকে  এই সমাজ আমায়, মানুষ বলেনি,মেয়ে মানুষই বলে গেছে চিরকাল।
আমার পরিবার আমাকে শেখায়নি সমবয়সি ছেলেটারমতো আমাকেও দৌড়াতে হবে রেসের মাঠে।
সবার আগে, শেষ প্রান্তের লাল ফিতেটা স্পর্শ করে, আমাকেও ছিনিয়ে আনতে হবে বিজয়ীর 
 মেডেল।
আমাকে তারা শিখিয়ে ছিলো, 
আমার হয়ে ওই রেসের মাঠে রেস লড়বে আমার বাবা, আমার ভাই।
এরপর, আমার স্বামী, ছেলে
যারা আমার তথাকথিত অভিবাবক।

তারা আমাকে বুঝিয়ে ছিলো ওই রেস লড়ার যোগ্যতা কিংবা অধিকার, আমার নেই।
এই পুরুষশাসিত সমাজে,
আমার হয়ে রেস লড়ার নাম করে, পোষ মানানো ঘোড়ার লাগামের মতো, আমার লাগামটি ও তারা ধরে নিয়েছে তাদের হাতের মুঠোয়।
আমাকে বানিয়ে রেখেছে,হাতের পুতুল।

আমাকে কেউ বলেনি
এই বিশাল পৃথিবীর সবটা আমার  বিচরণ ক্ষেত্র। 
বরং আমাকে আটকে রাখা হয়েছে বিধি নিষেদের এক অদৃশ্য  জালে।

আমাকে বুঝতে দেওয়া হয়নি, এই পৃথিবী জয়ের ক্ষমতা আমার আছে বরং বোঝানো হয়েছে, এই ঘরটায় আমার পৃথিবী।

আমি এটাই শুধু ভেবে এসেছি,
যদি আমি নিপুন ভাবে ঘর সাজাতে পারি কিংবা সকলে  যদি আমার রান্নার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়, তাহলে সেটাই হবে আমার যোগ্যতার প্রমাণ।
 কিন্তু আমি বুঝতে পারিনি যে,
আমার যোগ্যতা প্রমাণের জন্য, আমি ঐ এভারেস্ট জয় করতে পারি।
কিংবা  মহা আকাশ,
চাঁদ বা মঙ্গল আরোহনের মধ্য দিয়েও আমার যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারি।

আমি সারাজীবন বুঝে এসেছি যে,একজন সুপুরুষ স্বামী,সুস্থ পুত্র সন্তান প্রাপ্তি হওয়া আর সবকিছু মানিয়ে নিয়ে, সংসার করায় আমার জীবনের  এক মাত্র স্বার্থকতা।
কিন্ত..
আমি বুঝতে পারিনি যে,
চীনের মহাপ্রাচীর, মাউন্ট এভারেস্ট  কিংবা অ্যামাজনে ভ্রমণ করে,  অ্যাথলেটিকে মেডেল জিতে কিংবা
চমকপ্রদ কিছু আবিষ্কার করেও আমার জীবন স্বার্থক হতে পারে।

আর এই বোঝা না বোঝা,জানা অজানার মাঝেই হয়তো আমি মেয়েমানুষ হয়েই রয়ে গেলাম, আমার হয়তো আর মানুষ হওয়া হলো না!

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন