আখতার জামান এর কবিতা | মিহিন্দা




গাছ কোনো উদ্ভিদ নয়


পৃথিবী ঘুমিয়ে গেলে
দৌড়াদৌড়ি বেড়ে যায় গাছের
বৃক্ষের পায়ের শব্দে ঘুমভেঙে যায় ঘুঘুর।

পাখি জানে-- গাছ কোনো উদ্ভিদ নয়
সূর্যের ডানায় ভোর নেমে এলে
শুধু দাঁড়িয়ে যায় একপায়ে, অভিমানে।




 দিনদিন কেমন জামার ভেতর সেঁটে গেলাম


দিনদিন আমি কেমন জামার ভেতর সেঁটে গেলাম। অথচ আমি হতে চেয়েছিলাম সেই কাঠুরিয়া যার কোনো জামা নেই।

চাঁদের জামা নেই
সূর্যের জামা নেই
নদীর জামা নেই
পাখির জামা নেই
ঘাসের জামা নেই
গাছের জামা নেই

পৃথিবীতে যার জামা নেই, সে'ই শুদ্ধ। আমি শুদ্ধ হতে চেয়ে মানুষ হয়ে গেলাম। দিনদিন কেমন জামার ভেতর সেঁটে গেলাম!




তোমার না থাকটাই কবিতা


আমার একটা রাজ্য আছে; ভাবনারাজ্য!
সেইরাজ্যে আমি'ই রাজা!
রাণীর খোঁজে যখন আমি চষে বেড়াই দিগ্বিদিক;
নানাসাজে-নানাঢঙে তোমায় দেখি সারাক্ষণ।
আমার কল্প-কবিতায় তোমার অবাধ বিচরণ।

চোখের সামনে যখন ছিলে কবিতা সেজে
পাঁকানো রশির মতো বেণীবাঁধা চুল নিয়ে
কাছঘেঁষে বসতে
কল্পনায় তোমাকে পেতাম না!
আমার চারপাশজুড়ে এখন-- তোমার না থাকটাই সুরম্য এক কবিতা।




 প্রেম


মেয়ে তার বাবার নাম জানে না। মা হয়তো জানে, বলে না। মেয়ে মাকে জিজ্ঞেস করে, মা-- আমার বাবার নাম কী? মা নিশ্চুপ, কোনো কথা বলে না। মেয়ে আবারও বলে--

সিমার বাবা আছে
রিমার বাবা আছে
নিপার বাবা আছে
সিপার বাবা আছে

আমার বাবা নেই কেন?

'তাদের মায়েরা সামাজিক কাবিন কিনেছিলো।'

একথার মানে বুঝেনি শিশুমন। কতো কিছুই বুঝে না, তবুও শিশু থেকে বালিকা হয়ে গেলো। পথের ধারে একছেলে একদিন তাকে প্রেমের কথা বলে। প্রেমের মানে বালিকা জানে না। মাকে জিজ্ঞেস করে-- মা, প্রেম কী?

'প্রেম! ও কিছু না।
প্রেম হলো ফ্রিতে শোয়ার লাইসেন্স।' একথার মানেও বুঝেনি বালিকা। কতো কিছুই বুঝে না, তবুও বালিকা যুবতি না হয়ে মা হয়ে গেলো!




অপহরণ


আমাকে একটি ঘর দেখিয়ে
বাহির চেনানো হলো
তারা জানে না--
পৃথিবী যার ঘর, তার আবার বাহির কীসের!
নম্রস্বরে উন্নত মস্তকে বললাম--
বাহিরে যাওয়ার সামর্থ্য নেই;
বাহির মানে তো মঙ্গল গ্রহ কিংবা চন্দ্রপৃষ্ঠ!

মৃত্যুপুরীও হতে পারে বহির্জগত
যেখানে থাকে কবরভর্তি কোলাহল।
আমাকে হরণ করবে কী
আমি নিজেই গুম হয়ে আছি পৃথিবীঘরে!


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন