জিললুর রহমান এর কবিতা | মিহিন্দা



১.

প্রতীক্ষা



না, আমাদের পুকুরঘাটে কোনোদিন

বাঘ এসে জল খেয়ে ঢেকুর তোলেনি।

এমনকি কুকুরগুলো আমাদের ঢিলের তাড়ায়

সাহস করেনি আজো উঠোনে বেড়াতে।


বুটিদার হরিণ শাবক নেই সারাটা ল্লাটে,

গরুগুলো ভাঙেনি ক্ষেতের বেড়া খায়নি ফসল,

গাছগুলো কেটে কেটে যে দিবসে দালানের জন্ম,

গ্রাম শব্দটিকে ভুলে যেতে যেতে যেসকল দিনে

পৌরসভা গঠন করেছি সবে মিলে

জোনাক পোকার দল আমাদের ছেড়ে চলে গেছে।


তবু মা আমার বলেছিলদেখিস একদি

সবকিছু পাল্টে পাল্টে যাবে,

বাঘে  গরুতে মিলে জল খাবে আমাদের ঘাটে,

আবার পাখির কলকাকলিতে ভরবে ভূবন।

সেদিনের প্রতীক্ষায় চেরাগী পাহা নামে

একটি ইটের স্তম্ভ ধরে বসে আছি চারশ বছর।


বদর পীরের নামে যদি নামে সেই রহমত,

সেই বিদ্যা যদি দিতো বাবা শাহ মিসকিন,

তাহলে ঘুড়ির পাল্টি মানুষ উড়তো কতো ঈষানের কোণে,

কতো পাখি বৃক্ষশাখে নেচে নেচে শোনাতো সঙ্গীত,

হরিণ শাবক কতো চাঁদরাতে মেতে উঠতো 

বাঘেদের সাথে জীবন বাজির দৌড় প্রতিযোগিতায়।

মায়ের ভবিষ্য বাণী নিশ্চয় ফলবে একদিনসে আশায়

চেরাগীর বাতি ধরে জেগে আছি চারশ বছর...


পূর্বাহ্ল :৩২

৩০ এপ্রিল ২০২০



২.

ভোরবেলা



ভোরবেলা হাঁটার অভ্যাস যতো বুড়া 

সূর্যকে জলের মত্ত জোয়ার থেকেই উঠে আসতে দেখে। 

কেউ কেউ বলে ওরা সূর্যটাকে 

টানতে টানতে তুলে আনে ভোরে।

তারপরতারপর তারা খুব ক্লান্ত হয়,

হাঁপাত হাঁপাতে ওরা ডাব খেতে যায়।

ডাবের জলের পরে ওদের লেয়াই খাওয়ার খুব সখ

কেউ কেউ অনেক অনেক গল্প করে হাসি  হল্লার। 


তাদের মধ্যের কেউ একদিন আর সূর্ তুলতে যায় না

তখন দু:খের গল্প কিছু হয়তবে 

বয়স বাড়লে সব লোক ভুলোমনা হয়ে পড়ে। 

আবার নতুন সূর্য তারা টেনে তোলে পরের প্রভাতে

আর ডাবজল পান করতে করতে 

দূরে থাকা কিংবা না থাকা বাচ্চাদের নিয়ে 

অনেক অনেক গল্প সত্যি করে বলে যা 


পূর্বাহ্ণ :০৩

২৬ এপ্রিল ২০২০



৩.

শামুক খোঁজেন, শামুক!



শামুক খোঁজেনশামুক!

তাতে কী আর

মুখটা বুঝি বন্ধ রাখার

জো রেখেছে যোচ্চোর আর দুর্মুখ!


শামুক খোঁজেন শামুক।

গতি যে তার শম্বুক অতি

বুঝাই যায় না মতি গতি 

সে যার মাথায় ইচ্ছে বাসা বাঁধুক।


তবুও লোকে তীব্র খোঁজে শামুক

পাগল ডাকে পাড়ার লোকে

মূর্চ্ছাও যায় কেউ তো শোকে

তার ফাঁকেও ফন্দি ফাঁদে কামুক।


শামুক খোঁজেনশামুক?

বুকের ভেতর গুটিশুটি 

প্রেমেও তার এন্টেনাটি

এমনভাবে মারে যেন চাবুক!


শামুক খোঁজেনশামুক!

আড্ডারু আর মাতালেরা

ঘর ফিরেছে সাত বেহারা

দু:খে তবু দীর্ণ যতো মধ্যবিত্ত মুখ


শামুক যতো আমজনতা শামুক

এর দেয়ালে ওর চোয়ালে

অভাব কিংবা খামখেয়ালে 

ত্রাণের ডালে দানের চালে উন্মুখ 


সব হারামী ঢুকলো ঘরেকী সুখ!

ক্ষণে ক্ষণে বাদাম চিবায়

খবর শুনে করে হায় হায়

বলেভেজে আনতো দুটো শামুক!


সকাল ১০টা

১৮ এপ্রিল ২০২০

2 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন