শরীফ আহমেদ এর কবিতা | মিহিন্দা




কোনোমতেই তোলে দিতে পারছি না



দেখ, কোনোমতেই তোকে তোলে দিতে পারছি না তার হাতে
এই দুঃখে বনে যদি লেগে যায় দাবানল লাগুক
পতিত পবন মানুষ পশুপাখি না হয় কিছুদিন কাঁদুক
খুব ছুঁয়ে যায় মনে, ছিঁড়ে যায় পিঞ্জরের টুকরো
এসব খুচরো ব্যাপার নয়, জানিস তো জীবন কতটা ভীরু সাঁতারু
জানিস তো লিখতে গিয়ে তোকেই লিখি,
বলি তবু মুছে ফেলেছি
দেখতে চেয়ে তোকেই দেখি, বলি তবু তোকে দেখিনি
এদিকে এসে গেছে লকডাউন, দেখিনি আগে কখনো
মানুষে মানুষে কি যে বিশ্রী একটা আভাস লেগে গেছে ইতোমধ্যে
শারীরিক কিংবা সামাজিক যাই বলছে না কেন
এসব অসহ্য! পারছে কি মানুষ ছেড়ে যেতে নিজের গাত্রকে?
তেমনি পারছে কি সে তার প্রবৃত্তির মতো দীর্ঘদিন ধরে লালন করা আসঙ্গ সঙ্গকে ত্যাগ করতে?
যখন বিরত থাকছে মানুষ কর্ম থেকে, নিভৃত থাকছে মানুষ প্রিয় সঙ্গ থেকে
তাতেই ফুটে উঠছে উত্তরাধুনিক বিষাদ
পৃথিবী ব্যাপী যে অভিজ্ঞতা ছিলো না তাই আজকের বাধ্যতা!
এই ভেবে তুলে দিতে পারছি কী আমিও তোকে মন থেকে
চারদিক ঘোর আঁধার জেনেও ধ্রুব আলোয়
তার মুখ ভরাবি নিশ্চয় আজ রাতে
এই ভেবে হাত ফসকে পড়ে গেছে চাঁদ
চোখ থেকে পড়ে গেছে তেজস্বী সূর্য
এখন আমার রাজ্য ঘিরে কেবলই লকডাউন লকডাউন
হামাগুড়ি দিয়ে উঠে একটি পরাবাস্তব প্রেম
আর এক প্রান্তিক মানবী
যার হাতে ব্যস্ত এখন ফটোকপি করা ন্যাশনাল আইডি কার্ড।



অত্যন্ত একা যে মহিলাটি


অত্যন্ত একা যে মহিলাটি
সেও হেঁটে যায় কোলাহলময় রাস্তায়
তার ধীরতর হাঁটার সাথে একার কোনো ছাপ পাওয়া যায় না
বরং সকলের গতির সাথে একাত্ম হয়ে গতিময় হয়ে গেছে
তার শ্লথগতি।
সে ফেলে এসেছে বহু পুরনো গ্রামোফোন রেকর্ডের গান
কাঙখার বিগলিত প্রেম
হয় তো এখনও নিত্য বহমান।
বিশ্বজুড়ে যখন চারদিকে সংকটকাল
তখন অই ভদ্র মহিলাটির একাকীত্ব 'র মতো
নির্বাণ চেয়ে বসলো যেন জীবন আমার!



ভিন্ন আঙ্গিক



নিরঙ্কুশ এই অভ্যাস আমার
সুন্দরের প্রতি নতজানু হতে দ্বিধা নেই
কখনো
প্রমিত ভঙ্গিমা যার আছে, কামিনীকাঞ্চনে প্রবল থিতু হলেও দোষ খুঁজিনা
সঙ্গ দোষে যদি ভাসে লোহা, তবে সুন্দরের প্রতি আমিই সেই প্রথম আকরিক ধাতব পিণ্ড
পুরুষের ভাণ্ড বলতে যেহেতু কিছুই নেই
বিলিয়ে দেই তাই সন্ধ্যায়, রাত্তিরে
গোপনে হতে চাই প্রণিধানযোগ্য, তার নিকট
এক আজলা জলের পিপাসা তার হস্তেই মিটাতে অপার।
অথচ লোকে বলে সুন্দরের রয়েছে অভিন্ন আঙ্গিক
আমি তাকে নাকচ করে দিই
সুন্দর কোথাও কেন্দ্রীভূত নয়
তার রয়েছে সচেতন স্বাধীনতা
দূরের রোদ্দুরে শস্যক্ষেতে ফসল কর্তনে রত যে নারী
তার সৌন্দর্যের কাছে ভিড়তে পারেনি আজও প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার
এমনকি আজকের কবি
কোলে নবজাত শিশু নিয়ে যে নারীটি ত্রাণের দীর্ঘ সারিতে দণ্ডায়মান
তার লুকিয়ে ফেলা লজ্জা এবং বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়ানোর যে সাহসিকতা তার কাছে নতজানু আমার সম্পূর্ণ কবিত্ব।
নিরঙ্কুশ এই অভ্যাস আমার
আমৃত্যু সুন্দরের সঙ্গ দোষে তাড়িতে হয়ে
ছেড়ে দিতে চাই প্রথাগত এইসব হালচাল।



Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন