আকাশ সাহা এর কবিতা | মিহিন্দা




ময়ুরভঞ্জ



ময়ুরভঞ্জ থেকে দুটি রাস্তা দুদিকে বয়ে চলে
এমন কোনো মানুষ নেই যার সাথে আমি একা কোনো পথ চলতে পারি

চৌরঙ্গী বাজার থেকে নতুন কিছু পণ্যসামগ্রী কিনে আনি
আজ যেখানে তোমাদের সাথে দেখা
সেখানে মুহুর্ত সময় আর কিছু ক্ষণ থেমে আছে

মুরুং কে নিয়ে চলি নিজের সাথে
এখান থেকে বহুদূর কাঠের বাড়িতে আলো জ্বলে আছে
মাংস পুড়িয়ে ফেলার গন্ধে অবসন্নতা আসে

কোনো বাজার ঘাট আলোবাতাসের ভিতর নিজেকে সুন্দর করে তুলে ধরা যায়
বড়ো পাহাড়, ভাঙা শীত, বেতারের ঝংকার

নতুন মানুষের জন্য আমার ভিতরের হাড়গুলো স্পষ্ট দেখা যায়

আজ ময়ুরভঞ্জ থেকে যে রাস্তা তোমার বাড়ির দিকে যায়
সেখানে আম্রপল্লব ফুটে আছে

বসে থাকি নিসর্গ বেদনার ওপর

মুরুং নিজেস্ব ভাষায় যা বলে তার থেকে দূরে সরে যায় সংযোগ।।।





জলগাছ থেকে



জলের ভিতরে কিছু গাছ থাকে
জল আমাদের কোনো অপরাধ নেই

কে জানে আজ অনন্ত কথার ভিতরে তীব্র অবসাদ নিয়ে একা বসে থাকে পশ্চিমের মেঘ

অবধারিত যে বাড়ি একদিন আমাদের ছিলো

যে বাড়িতে বাবার পাশে বসে লাল মাটির ভিতরে
সুপারি চারা আর বিষাদ আগুন পুঁতে রেখেছিলাম

সেখানে বিদ্যুৎ এর ঝলকে সব ভেঙে চুরে যায়

কোথাও কথা বলার কেউ নেই

বুড়ি ঠাকুমা আর আমি উঠোনে এসে দাঁড়ালে

আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায় গভীর জল

শুনেছি জল থেকে পদ্মগোলাপ এনে আমার মুখ দেখেছিলেন দাদু

তাই জলের ভিতরে যে গাছ থাকে

সেখানে কোনো হাওয়া নেই
এক অনন্ত শপথ পড়ে আছে।।।



1 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন