বিক্রি হয়ে যাবেন না প্লিজ | বিশেষ সংখ্যা সম্পাদকীয়




এ সম্পাদকীয় যখন লেখা হচ্ছে - লাশ আর আতঙ্ক হুহু করে বাড়ছে। মধ্যবিত্তের বাঁচার লড়াই আর উচ্চবিত্তের সেক্স দুইটাই অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে গেছে। উচ্চবিত্তের পরিবার পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে শঙ্কায় মুদি দোকানে কনডম বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্র। 

টেলিভিশনে সকাল বিকাল দেখাচ্ছে কীভাবে মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকা যায়। ত্রানের ফুটেজের নামে চোখের সামনে ঝুলিয়ে দেয়া হচ্ছে রাষ্ট্রীয় মুলা। বিকেলে টেলিভিশনের সামনে বসা যাচ্ছে না বাহারী খাবারের রেসিপির প্রোগ্রামের জন্যে। মধ্যবিত্ত চিৎকার করতে চেয়েও গিলে নিচ্ছে চিৎকার। নিম্নবিত্ত খুঁজছে, কীভাবে আরেকটা দিন বেঁচে থাকা যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভরে যাচ্ছে সাদা সাদা কৃমিতে। উচ্চবিত্তের বখে যাওয়া সন্তানগুলোর মশকরা দেখতে দেখতে ক্লান্তি নয় ঘৃণা আসছে।

জাতীয় দৈনিকের সাহিত্য পাতায় আর বাজারি পত্রিকাগুলোর অনলাইন ভার্সনে নিয়মিত ছাপা হচ্ছে বর্ষার কবিতা। বিশ্ব বিশ্ববাজারে তেলের দরপতনের প্রভাব পড়েছে বাজারি পত্রিকার সম্পাদকের ফেসবুক প্রোফাইলে। ঈদ সংখ্যার আগে বাজারি সবজিগুলো পত্রিকার সম্পাদকের মাথা, শরীর, হাত, পা সবখানে তেল ঢেলে যাচ্ছে। তেলের চেয়ে শর্টকাট আর কোন রাস্তা বোধহয় উনারা এখনো বের করতে পারেন নি।



প্রচ্ছদ : ফারাহ্ সিনথিয়া ঐশী



ক্ষমা করবেন। আমরা আপনাদেরকে সবজি বলছি। দশ টাকা খরচ করে যাদের কেনা যায়, তাদেরকে আলু, পটল,সবজির বেশি অন্যকিছু বলা যায় না। বেশ্যা বলতে পারতাম, বলিনি। শুধু শুধু পেটের দায়ে কাজ করে খাওয়া একটা শ্রেনীকে অসম্মান করার মানে হয়না। সাহিত্যের পথে পথে কাঁটা বিছানো। ভ্যান থেকে কেনা চটি বই পড়ে, অমুক কোচিং এর তমুক কোর্স করে ৩০ দিনে ইংরেজি শেখা যেতে পারে, কবি হওয়া যায় না।

দীর্ঘদিনের স্থিতিশীলতা সাহিত্যের কিংবা সমাজেরই চারপাশে এক উচ্চবিত্তীয় দেয়াল তৈরী করেছে এবং মধ্যবিত্তকে করে রাখছে খাবার আর সন্তান উৎপাদনের মেশিন। মিহিন্দা একটা গ্লাইন্ডিং মেশিন। সকল স্থিতিশীলতা এবং উচ্চবিত্তীয় দেয়াল ভেঙে দেয়ার আরও একটি পদক্ষেপ হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে মিহিন্দা বিশেষ সংখ্যা। তৈরি হোন এক কাঙ্ক্ষিত ভাঙচুরের।

আর হ্যাঁ, বিক্রি হয়ে যাবেন না প্লিজ।




কভার : রিঙকু অনিমিখ



Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন