অমোঘ রায় এর কবিতা | মিহিন্দা



বিশ্বাস


বিশ্বাস'কে হাতের মুঠোয় রেখে-
আমার বুকে সুড়ঙ্গে তোমার প্রতি ছুড়েই
দিলাম অবিশ্বাসী ফুল।
পাপড়ির ভেতর ভুলের গন্ধ-
ভুলের ভেতর তুমি।
তোমার ভেতর ডুবছি কেবল-
আমার অন্য-আমি।
শাহবাগ,কমলাপুর,হুডতোলা রিকশা-
জীবনের ছাঁচে আমাদের বিরহী সুর-গুলো
তাল-লয়হীন সমাজবদ্ধ বিদ্রুপ'কে ভালোবেসে
ফুটন্ত ভাতের মতো উপচে পড়ছে।
অথচ আমি জানি-
আমাদের কিছুই করার নেই।
আমাদের হাত বাঁধা,পায়ে পরানো শেকল।
শেকলের ভেতরে ক্রোধগুলো আমরা আমাদের ভালোবেসে
ভাঙতে চাই-
অথচ সেই শক্তি আমাদের নেই।
তবুও আমাদের ভালোবেসে আমরা-
ঠোঁটে তুলে নিয়েছি গুল্মলতার প্রচেষ্টা-
উত্তপ্ত চোখের ভেতর রেখেছি-
স্পন্দিত বরফ-
বরফ গলে গলে হয়েছে পানি।
পানির শরীরে পেশাদার খুনির
পৈশাচিক প্রাণবন্ততা নিয়ে-
এক-এক একচ্ছত্র অনুরক্ত
অভিযোগের তামাটে কালোয়
আমরা ডুবে ডুবে হয়েছি ক্রমশঃ
ক্ষয়শীল।
বিশ্বাস'কে হাতের মুঠোয় রেখে-
অবিশ্বাসী তুমিই সেই রক্তাক্ত ফুল-
যাকে ভুলের ভুলে ভুল হতে দেখে
আমি অপরাধ বনে যাই প্রিয়তমা।




কবিতায় আঞ্চলিক জ্যামিতি 


এক অসম্পূর্ণ ছায়ার ওপর হামাগুড়ি খাচ্ছে কয়েকটুকরো জৈবনিক রোদ।ক্রমশঃ ক্ষতবিক্ষত  মাটির গড়নে উজ্জ্বল হচ্ছে আঞ্চলিক প্রভেদ।
দোঁ-আশ মাটিতে তুলো ভালো জন্মে, সাথে কবিতাও। 
এঁটেল মাটি তুলো ও কবিতা চাষের অনুপোযোগী। 
বেলে-দোঁআশে ও ভালো জন্মে কবিতা। 
এখন শাহবাগের মাটি কোন মাটি তা-শনাক্তকরণে 
পাওয়া যাবে কতিপয় খ্যাতনামা কবি,যাদের 
জন্ম খুব সম্ভবত এঁটেল মাটিতে৷ 



বিপ্রতীপ বোধ 

ভুল তাড়নায় দেবে গ্যাছে পথ, 
শোকাবহ সঙ্গীত যেন ডানাকাটা 
পাখির ডানায়৷ 
কে জানে কোন রঙে!সরোবরে ফোঁটা পদ্ম 
কোন পূজারীর থালায় মানায়! 



স্বেচ্ছা মুক্তি 

একটি কাক নিচে নেমে এলে-
আমার উড়তে ইচ্ছে হয়।
মা'য়ের শাড়ির আঁচলে ঘামের গন্ধ বলে দেয়-
উপেক্ষার 
তীব্রতা-চূড়োয় কেবল হাসির শব্দ শোনা যায়। 

পুরুষ
মন্ত্র জপে পৌরষ দ্যাখায়-
নারীরা 
এক  হলে হয় নারীবাদ। 

আমার কি?কাক নিচে নেমে এলে-
আমার উড়তে ইচ্ছে হয়। 



একদিন দ্যাখা মানে 


একদিন দ্যাখা মানে-
এক জন্ম দ্যাখার ইচ্ছে বুকে চেপে 
শত-সহস্র রাত জেগে থাকা। 

একদিন ঝুম বৃষ্টিতে আপনাকে দেখেছিলাম, 
অথবা ইজিচেয়ারে বসে ক্লান্ত হাতে করগুণে 
দেখেছি-
সপ্তাহে ৭ দিনের হিসেব৷ এ কেমন
বেখেয়ালি সময়। 
আপনি বলবেন-
কবিতা কেবল শব্দের সমাহার,
মাটির দলায় যেমন গড়ে ওঠে প্রতিমা। 

আমি আপনাকে গড়ছি। দিন-দিন, প্রতিদিন। 
আপনাকে দেখছি-
সবুজ পাতার শিরাবিন্যাস,অথবা সন্ধ্যের ব্যাবচ্ছেদ, রক্তের ভেতর জমে থাকা নির্ভীক 
প্রকাশ-
যাকে সাব্যস্ত করেছিলেন শো-অফ!
আপনাকে গড়ছি, ভাঙছি, পুনরায় গড়ছি।
মদ ছেড়েছি। বহুদিন গাঁজা খাইনি৷
রাস্তার পাশে শুয়ে থাকা অনাহারী রাত-
আমায় টানে না।
বর্ষিত রাত দুঃখ বোঝে, উত্তাপ বোঝে, 
রক্ত বোঝে। চোখের ভেতর চোখের 
আঘাত। 

একদিন দ্যাখা মানে-
শত জন্ম দ্যাখার ইচ্ছে বুকে চেপে 
জীবনের দামে মৃত্য কিনে নেওয়া। 


Post a Comment

أحدث أقدم