অর্ক এর কবিতা | মিহিন্দা




আরশি রায়




কাক কবে ফেলে গিয়েছিলো রক্তবীজ

ঘুরে ঘুরে মানুষের অন্ধকারে ফলন্ত রক্তের ফসল

দেখে-

দেখে পায়ের শিরা ফুলে ওঠে;

কাক মরে গেছে, কাকের বাসায় মৃত পাখির শেষ

পালক ধুয়ে গেছে বৃষ্টির জলে,

শিশিরের মতো যারা প্রথম আলোয় ফিরে গেছে গোলায়

তাদের হৃদয় এখন ঘুমিয়ে আছে ভেজা পালকের ছায়ায়।

স্বপ্ন ভেঙে গেলে ঘুমের চোখে হরিণীর গায়ের ছোপ লেগে থাকে;

পিয়ানোর মৃদু শব্দের মতো পায়ের তাল ঠুকে- ঠুকে-

কেবলই বিরহের স্বাদ ছড়িয়ে যায় শহরতলির আরশি রায়।

বৃদ্ধ বটগাছের শিকড়ে উঁইপোকা, পিঁপড়ের পাশাপাশি ঘর

পৃথিবী নিকটে আসে পৃথিবীর, হৃদয়ের দূরত্ব বাড়ে

চারপাশে দেয়াল তুলে, ছোট ছোট জানালা দরোজা খুলে

মানুষেরা মুক্তির স্বাদ পেতে চায়, পাখি হয়ে উড়ে যেতে চায় দুপুরের সাদা মেঘে-মেঘে,

কর্মের উৎসাহ, নিজেকে উর্ধে তুলে ধরার প্রবল সাহস ঘামে ঘামে মিলিয়ে যায়

কেউ একা বসে ভাবে অনেকের কথা, অনেক মুখের ভীড়ে আরশি রায়

চুপে চুপে এসে জমানো বরফ না গলিয়ে ফিরে চলে যায়।

মৃত ভাঁটফুলগাছের উপর দিয়ে বসন্ত চলে গেলে রুক্ষ ডালগুলো হরিণের সিংয়ের মতো-

ভাঙা ভাঙা ছায়া নিয়ে প্রফুল্ল কৃষ্ণচূড়ার দিকে চেয়ে দেখে- সন্ধ্যাকাশ,

অস্পষ্ট বাতাসে দুলতে না পারার ব্যথা- বৈশাখের প্রথম ঝড়ে ভেঙে উড়িয়ে নিয়ে যায়

শহরতলির আরশি রায় জীবনানন্দের কবিতায় মগ্ন থেকে, রক্তবীজে

অপরাজিতা ফুটায়

এখন তার উৎকর্ষের কালে, মেঘের ডানার গুঞ্জরন

এসে থামে, যেখানে

পা রেখে স্পর্শ করে সে- তা নক্ষত্র হয়ে ওঠা এক নগরী;

দীর্ঘ উৎসর্গকাল শেষে মানব ফিরে যায় মানবীর গুহায়।

প্রেমিক হরিণ শেষবার ডেকে থেমে যায়; পৃথিবীর পাঁজর থেকে বেরিয়ে আসে রাত

পা-গুলো জড়িয়ে যায় ঘন অন্ধকারে; শরীর থেকে ছায়া খসে গেছে

জানালাগুলো দুলতে দুলতে বাতাসের মতো নিজেকে দোলাতে দোলাতে

ডুবে যায় অমাবস্যার রাতে।

কাকের ঠোঁট থেকে খসে পড়া প্রথম প্রাণের উৎসাহে জোয়ার আসে

আরশি রায়- সব নদী, সকল পৃথিবী পেরিয়ে যায় অনায়াসে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন