ইবনে শামস এর কবিতা | মিহিন্দা




কবিতার মুখোমুখি কাব্যগ্রন্থ


ব্যবসার সংজ্ঞা আর বৈশিষ্ট্য নিয়া বাগডম্বর লোকগুলারে একবার দ্যাইখা মরতে চাই।

২০০৬ থেকে কেউ ব্যবসা নিয়া পড়ালেখা কইরা কবিতার ঈশ্বর সাজতে সাজতে আমাদের বইলা বেড়াই 'নো ওয়ান' তাদের ঠোঁটগুলাও একবার দ্যাখবার লাগে মওলা

কতোটা পবিত্রতা বুকে নিয়ে ঠোঁটে করে নিয়া আসে বিষের চাতুর্য।

পৃথিবী সমস্তই একটা বাজার

ঈশ্বর তুমিও বা বিক্রি না হইয়া আছো কৈ?

মসজিদের মিম্বারে বইসা বইসা তোমারে বিকিয়ে সূর তুলে মৌলভী।
প্রসাদের নাম করে বিক্রি হয়নি এমন কোন দেবতাও হিন্দুপুরানে নাই।

তাহারা চেচাইয়া বলে, ব্রোথেলে গিইয়া কিইনা আনি বেশ্যার ভালোবাসা।

টাকা
টাকা
টাকা

এই টাকারে তোমার বিপরীতে দাঁড় করিয়ে দিয়ে মাতৃদুগ্ধ পান করতে করতে মুখ কেলাইয়া বইলা ফেলে, পণ্য খাইতাছি।

তাদের কাছে
ছাগদুগ্ধ=গাভিদুগ্ধ=মাতৃদুগ্ধ=পণ্য

এইসব সহজ সমীকরণ আমি বুঝিনা বলেই আমি নো ওয়ান অব লিটারেচার।

(একটা ব্যবসায়ীক জ্ঞানালাপ

commodity
kəˈmɒdɪti/Submit
noun
plural noun: commodities
a raw material or primary agricultural product that can be bought and sold, such as copper or coffee.
"commodities such as copper and coffee"
synonyms: item, material, type of produce, product, article, object, thing, artefact, piece of merchandise;

স.স : এইখানে সিনোনিমে ব্যাবহৃত Article শব্দের অর্থ বস্তু, সামগ্রি, প্রবন্ধ না।

এইবার আসি পণ্যের বৈশিষ্ট্যে:
১. Core
2. Tangible
3. Augmented feature

এইগুলার অর্থ দাঁড় করাতে হবেনা। কারণ এসতেলাহী শব্দ বলে একটা কথা আছে, যেই শব্দগুলার অর্থ দাঁড় করাইতে গিলে মূল হারাইতে হয়।)

এইবার আসুন, প্রথমত একটা কবিতার কখনো কোর থাকেনা, থাকে কাব্যগ্রন্থের। গানেরও থাকেনা, থাকে শুধুমাত্র গানের ক্যাসেট বা গাণকে ধারণকৃত ডিভাইস বা স্টোরেজের।

অনুরূপভাবে টেনজিবলও না কবিতা, গান এসব শিল্প, আছে ধারণকৃত বস্তুুর। যেমন গিটার টেনজিবল কিন্তু গিটারের যে সুর তার এই টেনজিবলিটি নেই।

অগমেন্টেড ফিচার কবিতা, গান এবং অন্যান্য শিল্পেরও আছে।
কিন্তু একজন শিল্পী শিল্পটাতে যে অগমেন্টেড ফিচার ফিল করেছেন সেটা একজন শ্রোতা, পাঠক এবং অন্যান্যরা পায়না।

তাহলে ক্যামনে বলতেছেন, কবিতা বা শিল্প পণ্য?

আই রিপিট ডিয়ার স্কলার, কাব্যগ্রন্থ পণ্য, কবিতা না।

শেষ কথা : এরপরো না বুঝলে আপনি ধান্দায় আছেন, আপনারে আর বুঝানো যাবেনা। জাইগা যদি ঘুমের ভান করেন আমি আর কি করতে পারি মহাশয়?


অতপর দ্যাখি,
কাব্যগ্রন্থ বিক্রি করতে এসে বুক চিতায়া বইলা দেয়, কবিতা বেইচা আসছি জনাব।

বউ কিনতে গিয়া কিইনা নিয়া আইসা পড়ে ভালোবাসা!

কবিতার মুখোমুখি দাঁড়ায়ে মুইতা দিয়া চইলা আসতেছে কাব্যগ্রন্থ
ওহে মধ্যাঙ্গুলীর ইশারাই সুড়সুড়িপ্রবণ যৌণতাবাস, তোমরা কি দ্যাখো এইসব? নাকি দ্যাখার জ্ঞানটাও বেইচা আসছো বেশ্যার ক্লিভেজে?




আত্মহননের মুহুর্তগুলো


(১)

দুইপাশে শিশুগাছ৷ দাঁড়িয়ে আছে৷ বাতাস শব্দ খুঁজে পাচ্ছে তাদের স্পর্শ করে৷ একটা বিষাদের সূরের মতো করুণ শব্দ।
মাঝখানে একটা সরু রাস্তা; দৌড়াতে দৌড়াতে নদীর পাড়ে গিয়ে চুপ হয়ে মরে গেছে। কোন মানুষ থাকেনা এইখানে। সকালে ক্ষেতের কাজে মানুষ খুব হয়৷ রাত হতে হতেই সবাই বউ বাচ্চার কাছে ফিরে যায়।

খা
রা
লে

আমি এখানে হাঁটি; পথটির মতোই এগিয়ে যেতে যেতে মরে যাই নদীর পাড়ে। চুপচাপ বসে থাকি। পাশেই নদীর ভাঙনের গোঙানি। হঠাৎ চুপ হয়ে যায়। আবার ভাঙন শুরু৷ ওজানের শিৎকার। আমি চুপ হয়ে শুনি৷ বাতাস আগুনের মতো পুড়ায়। এই পুড়ানোতে আনন্দ হয় খুব৷ চোখ বন্ধ করে নিই। মুখ তুলে রাখি আকাশের দিকে যেন আমি

দে
খি
তে
ছি
কা

চোখ বন্ধ রেখেও।  অনুভব করি আমার ভিতরে একটা আকাশ ভুল চিঠির মতো কচলিয়ে ছুঁড়ে দিচ্ছি। কদ্দুর গড়িয়ে আকাশ পড়ে আছে আবর্জনার মতো। কৈ গেলো চাঁদ আর কৈ গেলো নক্ষত্র- দুঃস্বময়ে সবকিছুই একলা ছেড়ে যায়।  জীবন, যৌবন, বউ, বাচ্চা এমনকি ছায়াও। চারপাশে শুধু অন্ধকারেরাই মত্ত থাকে হননে। 

পা
ভি
জে
গে
ছে
দী

জলে। কেমন থিরথির কেঁপে উঠি৷ এতোটা শীতল। এতোটাই শক্তিশালী স্পর্শ। অনায়াসে সুখের ঘুরে রেখে খুন করতে পারে। দূর বহু দূর থেকে ছুটে আসছে আলো। মাঝপথে তার কতোবার মৃত্যু হলো সে হিশেবে বারবার ভুল করে আত্মনিমগ্ন হই জলের আতঙ্কে।  কতোটা সুনিপুন ভাবে ভাসছে জল নদীর যৌবনে খননে খননে।


(২)

শীতকাল দীর্ঘ হলে বছরের আমেজে ঘুন ধরে। 

তোমার ঘুম আসেনা জানার পর আমি আর হাঁটতে পারিনা- পথ সরে যায়। 
শীত একটা বুলেটের নাম যা প্রেমিকার স্নো মাখা মুখ থেকে ঠিক খুঁজে নেয় ব্যর্থ প্রেমিকের বুক। 
অবিবাহিত যুবকদের মতোই নিনাদ থাকে বউহীন পুরুষদের- যদি সে ব্রোথেলে না যায়। 
সন্ধ্যা কতোটা মগ্ন হলে ভুলে যায় রাতের কথা আমার জানা নাই কিন্তু প্রকৃতি কখনো শীতের আগমনে ভুলতে পারেনি গ্রীষ্মের কথা। 
চাঁদ উঠেনাই, কখনো সখনো উঠলেও তা আঁড়াল করে রাখে কোয়াশা, দুধ যেভাবে ভাসিয়ে রাখে সর - অনুরূপ বাতাস ভাসিয়ে রাখে কোয়াশা। 

আমার কিচ্ছু ভালো লাগেনা, কিচ্ছুই না। 
কারণ আমি বেখাপ্পা এই খবর ভিতরে এতো বেশী গেঁথে দেয়া হয়েছে উঠানোর মতো কোন গোলাপযন্ত্র নেই।





মহামারির দিনে


ঘরের ভিতর থেকেও ভেনাসের কথা ভাবি। মানুষগুলা বাঁচার জন্যে লড়ছে৷ বেলকনিতে দাঁড়াইয়া গান গাইতেছে। পরষ্পরে প্রাণ সঞ্চার করতে চাইতেছে।  

কতোটা অসহায় হয়ে দুর্ভিক্ষের অপেক্ষা করছি তা কেবল আমিই জানি। ফুল ঝরে পড়ার শব্দে কোথাও আতশবাজি,  উৎসব কিংবা কান্না লুকাবার ভান রপ্ত করছে অস্থমজ্জা৷  

ভ্যাঁপসা অন্ধকার
মহামারির দিনগুলাতে
ফুলে ফুলে আর্তনাদের গন্ধ


হাসপাতালগুলা অনিশ্চয়তার 
ট্রিটমেন্ট দিচ্ছে না
জ্বর, কাশি, গলা ব্যাথা
ডাক্তাররা দেখছে না 
সংক্রমণের ভয়ে
তাদের সেইফটি নাই
তাদেরও বাঁচবার অধিকার তো আছে
 
বউ তিনদিন ধরে ঘরে
আমার বাচ্চাগুলাও
দিনদিন মেনে নিচ্ছি 
মরণের সত্যটা।  

কেবল আমরাই নিয়ে আসতে পারছি এই মহামারিকে ধর্মের গণ্ডিতে এমন দম্ভে ফেটে যাচ্ছে কুমড়ার সতীত্বপনা৷ যদিও ভাবতে ভালো লাগে
কবিতার কাছে রেখে যেতে চাইছি ডেথ সার্টিফিকেটের লিটারেচার, নিরাময়হীনতা, আকাশের হাসি, মাটির কান্না, মায়ের আচল, বউটার দিশাহারা দৃষ্টি, রোগের সিম্পটম, বাচ্চাগুলার ভবিষ্যত যা অনিশ্চিত মহামারির কাছে৷ 

নিজের হাত নিজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেছে, নিজের কান্না নিজেকে সান্ত্বনা দিতে পারছে না, পথে পথে শিকড়ের বিস্তারিত ঘুম ভাঙার কান্না। 

মহামারির দিনগুলাতে সঙ্গনিরোধ আমাকে আরো কিছুটা দিন সবুজের কাছে কাঁদতে শিখিয়েছে৷ আলিঙ্গনহীনতা পেট্রলের মতো, কারারুদ্ধ প্রেমিকের মুখে হলুদের ঘ্রাণ।


কোন কোন বাড়িতে মাংশ রান্না হচ্ছে, আমার হাড়িতে হাড়গুলা ভাজবো ভেবে ক্ষুধাকে অবদমিত করছি, যে হাড় মহামারির দিনগুলাতে না খেয়ে তৈয়ার করেছি৷ 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন