মলয় দত্ত এর কবিতা | মিহিন্দা





দক্ষিনে যাবো
আরো দক্ষিনে
দোতারা সারিন্দা লই'য়ে

নারীগন, বাপের বচন না জানি,শুনি, আজ্ঞার তোয়াক্কা নাই, দক্ষিনে চলো
আরো দক্ষিনে, সানাই বিউগল লই'য়ে

দক্ষিনে যাবো
আরো দক্ষিনে
বেশ্যাগন, স্থানে স্থানে ফের নাচতে নামবো তোমাদের সাথে, বহুমুল্য শাড়ি খোপায় ফুলের দল.. দক্ষিনে চলো, আরো দক্ষিনে.

নারীগন, আজ্ঞার তোয়াক্কা নাই, বেশ্যাগন, কি দোষ করেছি মোরা জানে কার খোদায়

দক্ষিনে চলো
আরো দক্ষিনে
সমুদ্রের ও শেষে
উড়ে যাক পরান
তোমাদের মনোহর নিতম্বে রাখি হাত...





ঘুমের ভেতর ত্রিশ কিলোমিটার জুড়ে মেয়েদের শোবার ঘর ঘাস মাটি লতা পাতা বস্তুত যৌনকাতরতা নয় হতে পারে তা সাবানের জল বা আমার প্রানে এসেছিলো রবী ঠাকুরের গান আমি বড় দীর্ঘ শীতের দিনে ঘুমের মাঝে তোমাদের পিঠে সাবান দিয়ে দিলাম আর গেয়ে শুনালাম আনন্দধারা বহিছে ভুবনে তোমাদের ঘুম ভেঙে গেলে নিমিষে উড়িয়ে আদর্শ ম্যাজিক আশ্রমে ফিরে যাও আমি ঘুমের মাঝে চারদিন ত্রিশ কিলোমিটার জুড়ে মেয়েদের শোবার ঘরে দেখি যততত্র সরীসৃপ তিনটি ছাগলছানা ডাকছে আর ডাকছে..... বিমুঢ় বাতাস গা ছমছম হে অন্তর্নীল নিঃসঙ্গতা হে হাওয়ার তথৈ নাচ!




ফ্যাসিজম
আমার
মাথা ফাটিয়ে দেয়

শরীরে গেথে দেয় আয়ুহীনতার বীজ।

ফাটা মাথা সেলাই করবে কে
ভাবার আগে চোখ বুজে আসে

জানি এটা সম্ভব নয়,তবুও স্বপ্ন দেখি,

মার্ক্স আর লেনিনের ঘুর্নির মাঝে আমি আর আমার ছাত্রীরা সবাই মিলে অর্থহীন শিস দিতে দিতে চকলেটের পর চকলেট খেয়েই চলেছি...






অবিরল বৃক্ষের নিঃশ্বাস ঝরছে
যার বুক হতে
সে আমার শশ্মানবান্ধবী
আমি তার
আশায় বসে থাকি
চুপচাপ
কবে সে এসে
ভাত রেধে খেতে দিয়ে বলবে
খেয়ে নাও
এরপরে চুলায় তোমায় চড়াবো




হ্যালো ইয়াং পোয়েট, হ্যালো, আপনার লেখা আমরা এখনো পাইনি, প্রতিষ্ঠানের নিষেধ আছে নাকি? নাকি আপনি বুঝে গেছেন বড় কবিদের ছোট পত্রিকায় লেখা দিতে নেই, আমরা অন্তত এখন বুঝতে পারছি কিভাবে যীশুর গভীর হৃদয় ছিন্ন করে উড়ে যায় পাখি কেনো শক্তি বা জয় কবিতা আর স্বাক্ষাৎকার দিতে শেষমেশ রাজি হোলোনা হ্যালো ঢাকা হ্যালো চট্টগ্রাম, এই আলস্যশাসিত সময়ে তোমাদের বলতে ভালোলাগে আমার বাবা বাংলা কবিতার চোর আমিতো চোরের সন্তান, তোমরা কাঠি করছো করো, হ্যালো শোনা যাচ্ছে কথা? হ্যালো ঢাকা হ্যালো চট্টগ্রাম, ধীরে ধীরে সরে যাবে প্রকৃত অন্ধকার আর আমার পিছনে কাঠি করো, করতে থাকো যুগে যুগে, স্বপনরঞ্জনের কথা শোনো, " আমার বাপ সুবিমল মিশ্র, যার পেচ্ছাপের ধারায় তোর মত বালছাল ভেসে গিয়ে পৌরসভার ড্রেনে থুতু - পরিত্যাক্ত প্যাডের সঙ্গে জড়িয়ে মড়িয়ে ভেসে থাকে জলের উপরিতলে।
হ্যালো ইয়াং পোট, লাইন কেটে যাবার আগে লিখে রাখুন ঠিকানা, আমি মলয় দত্ত
ফাসির আসামীর ঘুমের ভেতরে ঘুমিয়ে পরি আমার ঘুমের ভেতরে পাতা কুড়োয় শুকু মিয়ার সেজ মেয়ে, আমি তাকে মাটির হাড়িতে রেখে দেই আর শুকু মিয়া'কে বলি স্নেহবশত আমিও তার পিতা আর আমি তাকে যেকোনো মুহুর্তে অন্যের ভাষায় বলে দিতে পারি " চলো বিবাহের দিকে যাবো " বা ওগো তুমি আমার মুখে মায়ের মত স্তন গুজে দেও গুহার ছায়ায়....




অকালে ঝরিবো ফুল


পৃথিবীর স্রোত আমাদের জানালার পথে বয়ে আসেনি আজ ও অজিত বাবু আপনার কবিতায় বিশ্বাস করেছিলাম তবু আজ ও সে স্রোতে নীলাভ শরৎ ভেসে আসার কোনো সম্ভাবনা আমরা অন্তত দেখতে পাইনা, আমরা বলি, বলতে থাকি, স্বচ্ছ শুভ্র রাতের কনিকা ঝরে পরুক আপনার মাথায় আপনি এরকম আরো অনেক কথা বলুন যেসব কথা আমাদের বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করবে অথচ বিশ্বাস করতে গিয়ে দেখবো, না আর বিশ্বাস করা যাচ্ছেনা, এত এত লংজার্নি শেষেও আমরা কখনো বলতে পারবোনা দুঃখের গভীরে পৌছে কিযে সুখ, বিনুনি দোলায় আমাদের সোমা আর না বলতে পারায় সময়ের বিশাল হাতের মাঝে আমরা অকালে ঝরে যাবো জানতে পারবো বা পারবোনা ব্যার্থ ফুল নিজস্ব সুর বা স্বরলিপি ভেঙেচুরে একদিন পৃথিবীর সমস্ত রুপ নিয়ে কোথাও ফুটে উঠছে পশম রুপে তখন আমার বা আপনার যে কারো জ্বরের মধ্যে বেজে চলেছে নিখুত হুইসেল.. বা মা আমার ক্ষত সারানোর জন্য খুজতে বেরিয়েছে ঠিকঠাক সেলাইকল..




রবীন্দ্রনাথ আমাদের জন্য যেসকল সমস্যা তৈরী করে গেছেন সেসব নিয়ে রোজ রোজ কথা বলি আরো বলি মাথার মধ্যে অসংখ্য খুন নিয়ে সংবাদপত্র পড়তে ইচ্ছে করেনা, আমরা তবু শুনতে পাই, পিয়াস বলে, পাথর রান্না করতে করতে মা তার সন্তান'দের বলছে ধৈর্য ধরো এমন টাইটেলে নিউজ এসেছে আমাদের তখন মনে হয় সংবাদপত্র বাদ দিয়ে ভালোই হয়েছে আর যারা এখনো পড়ে তাদের প্রতি করুনা হয় কেনো যে তাদের জটিলতা টানে আমরা কেউ কেউ বুঝতেই পারিনা আমাদের বন্ধু বা প্রতিবেশী'দের, তখন মনে হয় পৃথিবীর না দেখা আলোর মাঝে আদর মাখছে দুটি আপেল, আর বেদনা যেন একটি আপেলেরই নাম। আমাদের খিদা লাগে, আমরা আপেল খেতে পারি বা শাহীন কে বললেই দু'পেগ বাড়িয়ে নিতে পারি অথচ আমাদের ধৈর্য ধরতে হয়, চুলায় যেনো পাথর বসানো কতকাল ধরে আর মা একনাগাড়ে দশ বছর চুলায় কাঠের পরে কাঠ দিয়ে যাচ্ছে আর বলছে ধৈর্য ধরো এই ধৈর্য ধরতে ধরতে আমার বয়স ২৪ বছর, সময় ফুরিয়ে আসছে ভাবলেই উদযাপনের কথা ভাবি আর উদযাপন করতে গিয়ে আমরা কথা বলি রবীন্দ্রনাথ আমাদের জন্য কি কি সমস্যা তৈরী করে গেছেন, কেনো উনি আমাদের মাথার মাঝে রেখে গেছেন দীর্ঘ শালবন ওহ অনিদ্রা! ওহ ভগবান!






আত্মহত্যা এক বিষাদ রঙের পাখি –  যা উড়ে আসে জুলিয়ার গায়ে মাখা সাবান হতে পৃথক পৃথক বেদনা নিয়ে আমার মৃত মার্বেল মার্কা চোখের দিকে – পরাজিত শোকে । জানি ,আমি জানি এসব পাখি ছুটির ঘন্টার মতন নিদারুন ছন্দে ছন্দে গিলে খাবে আমার আশ্চর্য সব দীর্ঘশ্বাস । ফ্রি সাইজ রাতে শীতল মর্গে ওড়াবে ফানুস । তবু আমি , খেয়ালি চেহারা নর্তকীর কর্কট ছায়ায় থামবো না বলে চলেছি মাটিগন্ধ মিশেছে যে অনন্ত সংকেতে – প্রথমকান্নার সুরে ।
দ্যাখো জুলিয়া , এ কোন কালকেতু রাত – এ কোন ব্রম্মচারী ঘুনপোকা – সাদামাটা গায়ে বনেদী পোষাক – করে অনন্ত মুর্খামি । আটকায় আমার আজন্ম নিশ্বাস ফসল দুরাগত শশ্মানগামী সুরে । তোমার শরীরে মাখায় চন্দন – ডুবায় আমায় গলবধি । আমাদের যৌথ খামারে করে ভুলচাষ ।
জুলিয়া , এমন কাউকে কি চেনো  জানো তুমি ? আসে খেয়ালে ? ভাগ্যের রেখা উড়ে গেছে যার হাত হতে – হাঁসের ডানায় খোজে হেমন্তের ধানগান – ব্যাকুল গন্ধ – শুয়ে থাকা মেঘ সে । খুজে আনো তবে তারে  বা শোনো –

শোন জুলিয়া শোন , বিসর্গজাতীয় গাছের আগায় উড়ে আসে যত শীতপ্রজন্মের পাখির দল - তাদের ভীড়েই লুকানো আছে খেয়ালি চেহারা দর্জি পাখির বোন – যে পাখি বুনে দিতে পারে নিশ্চিন্ত শয়নকালে অরন্যের নাভিমূল আর শিমুল তুলোর শিশু – হরিন শাবক চেনে তার কান্নার ঘ্রান । শোন জুলিয়া শোন , ত্রিকালদর্শী কাছিমের ধ্যানের ভেতর হতে বেরিয়ে পড়ে অদ্ভুত চার রাক্ষস – ক্লিভেজ দেখে মন্ত্র আনে  - শস্যহীন জিভে পোড়ায় অশান্ত দেবদারু – চতুর ঘুঘুস্বর । তবু কি পোড়ে সব ? নাভির নিচেই থেকে যায় বর্ষার বন – হাটুর নিচে তুমুল হাহাকার – পায়ে’তে দুঃখের পাতাবাহার ।

নির্জলা উপোস শেষে হঠাৎ যে তীর্থের ঘাটে পথ হারিয়ে ভাবছি মৃত্যুর পুথি । এ মরন ও তো দুর্নিবার মিছিল এক – যা পৌছে গেছে খুব আগে তোমার সাজানো সর্বনাশে – কোমড়ের চতুর তিলে । শিরার সেতারে বৃশ্চিক রাশি আমার – নরকের বীজ ট্যাটু হয়ে আছে হাতের জন্মজড়ুলে । জুলিয়া , তুমি নিজেরই নিয়মে খুলে বসো বিয়োগের খাতা – দ্যাখো তুমি অকাতরে বয়ে যাওয়া মলয়ের মুখ খাতার নদীতে উন্মাতাল । সেখানেই রাখো অন্তিম পেরেক দাবানল গতিতে – তুমি হে বৃন্দাবনী কাঠুরে । ক্লান্ত শ্বাসের শেষে শশ্মান চঞ্চলা আলোয় খেলা করো মিথ নিয়ে প্রবল । ত্রিফলার রসে ভেজা বুকের খাদে জোয়ার এলে মাথায় তোলো ঘোমটা ।

জুলিয়া , এমন কাউকে কি চেনো জানো তুমি ? দিগন্তের দেয়ালে আঁকে দেশী নায়িকার ভাঁজ করা উরু – শান্ত দিনগুলি উড়ায় ভুলের সুগভীর মিছিলে । ভালবাসায় বরাবরই প্রাপ্য ধনুকের বিষ –বন্ধুহীন গাছ ।  খুজে আনো তবে তারে বা শোনো –

আলেয়ার রুপরেখা , বহু ধুমকেতু , আর লাখ খানিক দেবতা জেগে থাকুক পাড়ার মাস্তান হয়ে – হোক , বাধ্য প্রহরী তোমার বাড়ির গেটে । শীত সন্ত্রাস ও পুজারীর বেদনা স্থগিত হতে হতে সময় চেঁচিয়ে চলে গেছে কালান্তর । অলংকারী ধ্রুবতারা নিয়েছে বন্ধকী নতুন তেরো নদী  - চেয়েছে নিস্তব্ধ জোয়ার ভাটায় একান্ত সংলাপ – ঘরকুনো মাদুর আর স্বকল্পিত অনুরাগ ।
এইসব দৃশ্যের বিনীত পৃথিবীর সকল দেশে ছুটে একটাই মাত্র ট্রেন – প্রতি কামরায় বাজে বিচ্ছেদের গান – মর্ত্যের যুবতীরা সব ভয়ংকর টিকেট চেকার ।
এইসব দৃশ্যলোকের মধ্যে আমাদের অজান্তে আরো শুয়ে থাকে এক বাউলি স্বভাব গোপন দৈত্য । বিষন্ন বিকেলে কবিদের কবরে বসে যে ঘড়ি ধরে কাঁদে তুমুল – লেখে মরে যাবার সহজ উপায় মানুষের জন্য । জুলিয়া আমাদের বন্ধ ঘড়ির কসম অমূল্য মানো –অনাবিল আশ্রম খুলে দ্যাখো কি গভীর তৃষ্ণা আমার – এই ওষ্ঠ চেনে তোমার ঘামের কোলজঘর – দূর বালুচর । হীন – সমুদ্র স্পন্দন ।  

জুলিয়া , এমন কাউকে কি তুমি চেনো জানো ? রঙে আর গন্ধে ? যে যায় নতুন ক্যাপসুলের পাতা বাদে অন্য পথে ? খুজে আনো তবে তারে বা শোনো – 

ব্যাপক ব্যাথার বাদামী করিডোরে অস্থায়ী বাস যে ধুলিকনার,তারা জানে জুলিয়া , জানে দুপুরের ঘন শ্বাস – দুপুরের লবনাক্ত স্বাদে আমার অনন্ত আত্মসমর্পন । সাবেক রোদ্দুর ঘ্রান আর বিপন্ন পতনের শব্দ খেলা করে যে অন্ধ জরায়ু কোলে –দুরবীন দুরত্ব হতে আমি হেটেছি এমন অদৃশ্য আস্তাবলের দিকে । জেনেছি শুন্যতার ও আছে তীক্ষ্ণ দাঁত ছাইরঙা চোয়ালে ।এমন অনেক কথপোকথন আছে বাকি আর রক্তে ব্যাপক দোলাচল । আরো আছে তোমারই মতন কিছু সাবলীল আনন্দ – শঙ্খরঙ আকাশ । আছে বিষাদের বিছানায় খুলে বসা বিভ্রম – রোদের কারুকাজ । 

জুলিয়া , এমন কাউকে কি তুমি চেনো ঘরকুনো কবি সে – পান করে রঙ আর শীতের ছুটিতে ছুরি দিয়ে শ্যাওলা তোলে স্নানঘরে – নির্ঘুম রাতভর একাকার । খুজে আনো তবে তারে – সুর্যের দংশন হতে এই আমারেই আর শেষবার শোনো - 

কি ভীষন খিদের অবেলা দুপুর নিঝুম বাঁশিআলা সেজে ফিরে যায় সহস্রমুদ্রায়। 
ঘুঙুর পায়ে নাচতে নাচতে উৎফুল্ল চোখের ভেতর ঢুকে পড়ে বধির ক্ষয় – শেখায় কুয়াশার গন্ধ – আর দীর্ঘশ্বাসের জলস্মৃতি সুত্র । আচমকা সন্ধ্যা প্রদীপের লোভ দেখিয়ে – ঘুমের ঝিলে শুইয়ে রাখে নদীগন্ধ মেখে অনন্ত । 
জুলিয়া , শোনো জুলিয়া  আত্মহত্যা এক বিষাদ রঙের পাখি –    যা উড়ে আসছে এখন আমার প্রতিটি নিশ্বাস হতে খুব – কোরাস হতে শোনা গেল তার ডাকাডাকি ওই । তেপান্তরের ফুল গতি দাও আরো তারে ভাঙারাতে কানের কাছে পাঠ করে যে করুন সুরে গোপন দৈত্যের প্রথম পান্ডুলিপি – “মরে যাবার সহজ উপায় ” । 






মায়ের কান্নার মতন গভীর যে বিষের কৌটা – আষাঢ়ের ভেজা হাওয়ায় ঘোরগ্রস্ত আমি তাকিয়ে ছিলাম সারাদিন মৃত্যুমধুর প্রেম নিয়ে – সেই অস্থিরতায় , সেই বিষের শ্লোকে – নাকের উপর ঝড় দিয়েছে বোবা বোনের দীর্ঘশ্বাস খুব । 

ও বিষের কৌটা – এগিয়ে দাও অগ্নি কলস এক্ষুনি ,এইসময় । নাভিতে বুলিয়ে দাও তীক্ষ্ণ জিভের ডগা – তুলে আনো সুখের ভেতর হতে বেদনার অশোকবন – আর যত জাদুগাছ প্রথমরৌদ্রের তলায় তোমার করতলে হেসে হেসে লুটোপুটি খায় –তাদের ভয়ালমিছিল ধবংস করো এই এক্ষুনি –সাজাও তুমুল উল্লাসের শাড়ি ছায়া ।
নাকের সামনে খুলে দাও আউশের ঘ্রান – সাজাও ,সাজাও নতুন করে তামাম আদিম গ্রন্থ কবিতায়, গদ্যে – ঝরাপাতার সুরে বেদম । দেবতাদের টেনে নামাও মর্ত্যে – ডাকো ,তাদের ডাকো উচুস্বরে – উড়াতে আমার শশ্মানের ছাই শিরীষের বাগানে । নিয়ে যাক , নিয়ে যাক আমাকে – ঠোঁটে তুলে ফেলে আসুক তারা জরায়ুর মতন কোন কবরে – বিশাল ক্রোধে । 

আমার গৃহত্যাগী পিতার মতন বেপরোয়া আর উন্মাদ যে বিষের কৌটা – শ্রাবনের সুদীর্ঘ হেঁসেলে তুমুল লু হাওয়া – আর আমি তাকিয়ে ছিলাম সারাবেলা  ।  শুয়ে ছিলাম নিবিড় – সেই বিষের বর্ষাকালে – বালিশের নীল পোশাকে ।

ও বিষের কৌটা –
ও নিভৃতসুন্দর আপন আমার - 
এই ছদ্মঘুমের ভেতর তুমি ঝলসে দাও যেটূকু যা বাকি আছে আমার । ক্ষুধিত জঠরে ,মগজে , আরো বেশী ছড়িয়ে দাও তোমাকে । বান্ধবী বাতাস তুমুল খেলা করুক তোমার ওই করুন হাতে – অচেনা যুবতীর চশমার মতন দুর্বোধ্য যে জলের ভাষা – অমন জলাঘাতে আমাকে ঘিরে ধরো হে তুমি । ছড়িয়ে যাও স্পিডস্টার ফাস্ট বোলারের গতিতে মজ্জায় মজ্জায় –শিরায় আর বেবাক ক্লান্তির ওমে ।

ও বিষের কৌটা – মার্ক্স লেনিনের তোতা কথায় ফের কাঁপাও আমাকে থরথর – বাজাও এক বন্ধ্যা সানাই জনমের সুখে –ক্ষতের সুরে । আর নেচে নেচে  তুখোর অভিমানে গুড়িয়ে দাও খরার আকাশ তলে অনর্থের ভুগোলে রাত্রিদিন শবাসন । ছুটে যাও , ছুটে যাও তুমি আবহাওয়া অফিসের বিষবাস্প পথে – ডেকে আনো অলৌকিক বৃষ্টি আনন্দ ক্রমে ক্রমে – কসম খোদার ,পৃথিবীর আরো নিচে চলে যাবো বীজের শরীরে । ও বিষের কৌটা – ও তুখোড় জুয়াড়ী – মরাকান্নার মুখোস খুলে ভিতরে বাইরে সর্বত্র বসাও আমার নারীদের – মৃত আমার স্বপ্নে পিকনিকে পাঠাও বেবাক ছায়াহরিন নারী – দেখে নিতে প্রেতীনীর প্রখর দারোয়ানি সমেত জাদুঘর – যদি কেউ খুজে পায় না লেখা এপিটাফ – ছিড়ে ফেলো শান্ত পুকুর , প্রিয় তুমি ছিড়ে ফেলো মাতাল স্বরলিপি – দোহাই আমার ।

আমার সহোদরের সাইকেলের মতন গতিময় যে বিষের কৌটা – শোন ,ভাদ্র আমার জন্মমাস ।  মরে যেতে আমার সাধ হয় এই বৃষ্টিসন্ধ্যায় – তবু নম্র ভাষনে লেগে থাকে ভয় –হাটুভেঙে বসে পড়ি লিমুর উজ্জ্বল ঘুমশয্যায় – পায়ের কাছে । যার ক্ষতচোখের পথ ধরে একলা ওড়ে জীবনপাখি । তবু ,উপেক্ষা করে মরা স্ম্রৃতির বান – তুলে আনি মাটিগন্ধ গহ্বরে লুকিয়েছো তামাম দুনিয়ার দুঃখের যত গান তুমি হে বিষের কৌটা –

ও বিষের কৌটা – 
ও বরফের নদী – 
স্রোত হও গলায় তুমি –আমার সব প্রেমিকার বিষাদকে দিয়ে দাও আমার বড় আদরের ডাকনাম । ওদের শ্বাসবায়ুতে জানান দাও – তোমার ও আছে অফুরান সুবাস আর ছাতিমপাতার ছায়া ঘ্রান । শিল্পকলার গাছ্গুলির মগডালে ঝুলাও আমাকে হে তুমুল বিষ – হে মেঘের পালকি – দেখাও , দেখাও আমাকে প্রতি বিকেলে বদলে যাওয়া ভালবাসার রঙ – বৃত্তের বাইরে চুম্বনের ক্ষন আর ওই নিখাদ অন্ধকার ।
দেখাও আমাকে – সেইসব ভিখিরিদের ঘর –যারা তাস খেলে ,মদ খায় ফ্রিতে , আর খালিপেটে মাস্টারবেট করে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে রোজ – স্বপ্নে যায় নায়িকার ভাঁজ করা উরুদেশে মৃত্যুহীন -তালে তালে বাজে পাঠার চামড়ার ঢোল – আলোর মড়কে রেখে আসো আমাকে তাদের পাশে শুইয়ে – দূরে , দূরে  রাখো আমাকে নতুন পরিচয়ে ।

ও বিষের কৌটা –
ও নিভৃতসুন্দর আপন আমার - 

নিয়ে চলো , নিয়ে চলো আমাকে সেই ব্রোথেলে যেখানে ভাড়াখাটে – সোমবারে মাছ ভাত খায় – প্রাক্তন সব প্রেমিকার বিয়ের কার্ডে উড়ে আসা প্রজাপতিগুলি । অচিন বাতাসে ছাইমাখা চাদরে বিছানা সাজিয়ে ডাকো তাদের আজ রাতে –দরজার বাইরে অপেক্ষা করো স্তব্ধভোরের । মাতাল হও তুমি বোতলের মন্দিরে – মরনভয়ে লুকানো আমার ফালতু কারুকাজ প্রবল ঝাপসা করো হে প্রিয়তম বিষ – হও , আরো তুমুল মাতাল । হও তুমি রাজতন্ত্রের মতন ধোকাবাজ । হও তুমি দুর্যোধন বা রাবন – আরো বেশী নিষ্ঠুর । হও তুমি আমার বাল্যপ্রেমিকার মতন সুন্দর আদিমপাপ–বেশী, আরো বেশী বেঈমান। 

ও বিষের কৌটা –
ও নিভৃতসুন্দর আপন আমার - 

ও গন্ধহীন বিদেহী বাতাস – 
ও অপরুপ মিছিল – সুদীর্ঘ হাহাকার
ভাদ্র’র বাসনালগ্ন রাত কে পরীক্ষা হলে আনকমন পাটিগনিত মনে হয় এমন অনেককিছু বলে ফেলেছি তোমাকে – এই সহজ ভাদ্র মাসে । চুপ করে থেকোনা আমার নির্বোধ সুন্দরী ছাত্রীর মতন – হে গন্ধহীন ভুল । হও তুমি কোন একরাতে ভীষন বৃষ্টি – জলাঘাতে ভাঙো এ সহজ জানালা –হও তুমি তুমুল স্রোত গলায় আমার – মৃত্যুর শীতলতা । 

ও বিষের কৌটা
ও তেপান্তরের সহজ ফুল –
চির আপন কন্ঠস্বর –

ও বিষের কৌটা – তুরুপের অন্ধ তাস 
ঝিমধরা গ্রাম – ধুলির ঘ্রান 

হও তুমি কেবলই বিষেরই মতন ! 


১০

পৃথিবীর সব আছে পৃথিবীরই মতন চরম আড়ষ্টতায় । ছেড়ে যাওয়া রেলের পাঁজরের ভাষা এখনো দুর্গা শ্লোকের মতন ঠোটস্থ আমার । ভাসমান আপ্লুত দিনগুলি ঘুরে ফিরে উড়ে ঠিকই আসে বেহালার ছিন্ন সুরের মতন চেনা জানা রামধনুপথে । ছদ্মবেশে লুকানো ধুসর বিবর্ন সব তরুনী হাত দহনে পোড়া ঊষার আধারে দূর থেকে দূর মশালবনে অনিবার্য টানে আমারে । আগুনপাখির সন্তান এখনো আসে দুরন্ত হরিনের বেশে নিঃশব্দ – কলিজার গা ঘেষে দাঁড়ায় ছদ্মবেশী সবুজাভ মৃত্যুঘুমে নিখুঁত । অন্ধ ছায়ায় নোঙ্গর হতাশায় কাঁদতে থাকা রক্তহীন শাঁখা এলার্ম বাজায় প্রখর – মনে করায় নিহত সিঁদুর ছিলো প্রিয়নারী আমার । যারা একেছিল নিমগ্ন ষড়যন্ত্র – আর এখনো টানে প্রবল ফের অবিরত । 


এখন ও জলরেখা ছুয়ে উড়ে যায় অগনিত ঢেউ – অনিমেষের মৃত্যুবার্ষিকীর দিন জুলিয়া অযুত নেত্র মেলে দাঁড়ায় জীবনের বিপরীতে – থাকে খোলাপায়ে আলতা । ঘৃনায় পোড়ায় শাদা ডানা – উড়ে উড়ে যাওয়া বক দেখে বলে হায় ভগবান নিয়ে চলো বৃক্ষবাকলে ঝুলে থাকা মৃত গান ভুলিয়ে  চক্ষুহীন পথে – বক এখনো অবুঝ আগেরই মতন । উঠোন হতে তুলে নেয় ও মলিন শাড়ি ছায়া – নদীর ক্ষুধা সাক্ষ্য দেয় এই ষোড়শীর হয়ে এখনো প্রতিটি বিষাদের গান দেবতা সমান ।

বাঈজিবাড়ির কলতলা এখনো জ্বালায় মৃত্যুমধুর শাদা অঙ্গার । অন্ধনাচে নির্জন শঙ্কা উড়ে বেড়ায় চাপকলের নৈশব্দে । সিড়ি ভেঙে উঠি আমি – আদতে নামতে থাকি সমুদ্র ছবির তলদেশে । কিছু মুর্ছিত বিদ্যুৎ দ্যাখে হয়ত  স্তুপভস্মে বাঈজির দু হাত আর কম্পিত শিখরে ছলকে ওঠা আধার । দ্যাখে না ?
জলসাঘরে শেষ চুমুকে বাঈজীর ক্লান্ত চোখের পাতা করাল গ্রাসে গেলে আমার অচিন আকাশের অমানিশায় মগ্ন তারা । গহন জুড়ে প্রবল বাজে তার রাতের নুপুর । জারুলের মতন আলোয় সে হিম ধারালো ছুরি হয়ে কেবল কাটে ভ্রমনের মাতাল প্রহর । বিলাপের করুন শীতল বরফে কেবলই করে তুখোর জমিদারী – বন্যসুখে অট্টহাসে সে আমার নিবিড় জাদুকনা ।

এখন ও মৃত পুরুষের সম্ভ্রান্ত রোদ নারীর নদী স্রোত মিছিলে করে শুস্কতার প্রতিনিধি – ঝরা হলুদ পাতা হয়ে বিস্মৃতির মিথ্যাচার । পাথরের জমাট নিদ্রায় টানে ওই দুরের জলপাই সুখ । পাড়ার মোড়ে বুড়ো জাদুকর মগজে জমায় অলীক আহ্লাদ ফল – কাঠের চালান শেষে মুছে দিতে বাকির খাতার নক্ষত্র । অগ্নি দহনের নির্জন দ্রাঘিমা রোজ করে দুরত্বের ঐকিক – বাধ্য ছেলের মতন । ঘোরতম রাত্রির প্লাবনে মৃত্যুর মতন পরিপুর্ন মৃত্যু সরে যায় দূর থেকে আরো অসীম দূরে । এখনো টেলিভিশনের মেয়েগুলি থাকে টিভির মধ্যে একঘরে আর স্থির – টিভি খুলে রেখে বিষ খেলেও পাশে এসে বলেনা “বেঁচে থাকো” । দিকভ্রান্ত বিষন্নতার রাতেও ক্যালেন্ডারের মেয়েগুলি ঝুলে থাকে দেয়ালে – খুলে দেয়না ফিনফিনে রাত পোষাক – কেবল তাদের রৌদ্রগন্ধ নাভি স্বপন হতে উড়ে আসে ছায়ার গান আর জনপ্রিয় সাক্ষাৎকারের ভোর ।

এখন ও এই সমুদ্র শশ্মানে খুজি হারানো ভায়োলিনে বেজে ওঠা ব্যার্থ  লেনদেন । চেয়ে দেখি প্রেমের প্রবল কীর্তন পথ কেটে ঘরে ফেরে লিমুর কুয়াশাঘন নিশ্বাস – নিঝুম বরফ দ্বীপে মৃত্যুর আচড়ে আঁকে নিজের মুখচ্ছবি । সেতারের ছেড়া তার আর অসহ শোনিত শিলা গলা মেলায় ছায়ার গানে লিমুর সাথে । যে গান থেমে গেছে প্রাচীন জাহাজের পাটাতনে – যে সুর নাই হয়েছে বেলাভুমির ঝড়ে – শুন্যতা ঘিরে থাকা শেষ দেবালয়ে । বিচুর্ন যে লেবুগন্ধ দিনে পৃথিব হরেক হাজার উদযাপন বলেছে তাকে – এ জনমের মতন যাই তাহলে ।

পৃথিবীর বেবাক লাভ ক্ষতির হিসাব নিয়ে জেগে আছে যে মৌসুমী বিস্ময় অসীম দর্পে ডাহুকের বেখাপটা ডাকে ওই দূর বনভুমে – দিন রাত ওষ্ঠে বাজায়  তামাটে যুগের গান – তার বুকে নেমে আসো মাছরাঙা তুমি – ভুলে যাওয়া বিস্মিত গানগুলো টেনে তোলো ঠোঁটের কারুকাজে – নিশিথ কাজল মাখা লোভাটূড় চোখ টপকে আলো ফের আঙ্গুলে আকুলতা – এই মণ্ডপ নিরালায় । মাছরাণা তোমার প্রাচীন পালকে ফসলের ঘ্রান মেখে জানলার ঘন জালে স্পষ্ট করো সেই জেগে থাকা মৌসুমী বিস্ময় । দেখি তারে চোখ ভরে – যেভাবে দেখেছিলা রুপকথার পক্ষীরাজ ভুলে যাওয়া গাঢ় ঘুমের ভেতর – দেখেছিলাম অশোকগাছ তলায় ঋষির ঘুম । নিশ্চিত পতনের আগে দূর অন্ধকার হতে মৃত্যুপ্রবন গানের মতন ফিরে আসুক দুরাকৃত প্রিয় মুখগুলি আর বাদামী রঙের বিষপাত্র । ওরাও দেখুক – অস্তিমিত সবুজ দ্রাঘিমার অদ্ভুত হামাগুড়ি আর সেই মৌসুমী বিস্ময় স্পষ্ট । যে দাঁড়িয়ে আছে মৃত্যুর পর ও করোটির মাঝে নিয়ে তামাম লাভ ক্ষতির হিসেবে । 

ওরা ও জানুক –
পৃথিবীর সব আছে পৃথিবীরই মতন চরম আড়ষ্টতায় । 
পৃথিবীর   সব   থাকে  পৃথিবীরই মতন চরম গতিময় ! 




১১


আমাদের মেসে এসেছে 
নতুন অতিথি 
পা দুটো তার কম্পাসের কাটার মতন
ছড়ানো দুপাশে।

সুবীরের মুখ যার যোনীর কাছে 
অরন্য আদিম তমাশায় ।
শীৎকারের পাশে ফিকে হওয়া 
পুরনো সিনেমার পোস্টার 
মুছে যাওয়া মানুষগুলো 
আর নায়িকার পরিবর্তনশীল সিঁথি ,
কি অদ্ভুত !

আমাদের মেসে এসেছে 
সুবীরের নতুন বান্ধবী 
পুরনো বিষের মতন যে আসে 
সুবীরকে নিয়ে যেতে সফল সঙ্গমের শেষে

এসময় আমাদের বিষাদ হয় তীব্র 
মনে হয় , সুবীরের বান্ধবী বাদে 
বাকি সব গোরস্থান ।
এমন লাগে ,যেন , মৃত্যুর পরেও খুলির ভিতর –শব্দহীন কবির যন্ত্রনা ।
নগ্ন চোখে মেসের রক্তমেঘ কৃষ্ণাকাশ । 

আমাদের মেসে হতে – চলে গেলে সুবীরের বান্ধবী 
সুবীরের মুখে শুনি ,
এসব মতিভ্রম আমাদের –লুকিয়ে দেখা বন্ধুর সঙ্গমদৃশ্য ।
লাল চশমা পড়ে নীল আকাশ দেখতে গিয়ে - স্রেফ ঠকেছি।
কমিয়ে ফেলতে হবে কথা ব্রাউন টেলিফোনের তারে 
সঙ্গম ব্যার্থতায় স্বমৈথুনে ভেবে নিতে হবে মতিভ্রম দৃশ্য ।
অপেক্ষায় ;
এ দৃশ্যের ও হবে প্রতিস্থাপন 
সুবীরের নতুন বান্ধবী এলেই ।




১২


আমি নই - প্রেমিকার লাশের গন্ধ নিয়েছে ঈশ্বরের মাটি – যেন এ মাটির স্তুপ কফিন কে চেঁচিয়ে বলছে চিয়ার্স ! 

আজ এই দুঃসময় (?) একটা কবিতার জন্য আমি ছুটে গেছি – বিগত সব পুন্যের কাছে – জন্মের দিকে দ্রুত , ঈশ্বর কে খুজেছি ব্রাউন টেলিফোন তারের ওপাশে – চিৎকারে বলেছি -এভাবে নয় ,বরং আরো যন্ত্রনা দাও আমাকে – শিরাপথে গুজে দাও অমাবস্যার হাসি – আর নয় ছায়া ফেরি – কবর দৃশ্যের আগে করোটি থেকে উপরে নাও চোখ – আমাকে বিচ্ছিন্নবাসে রাখো প্রখর দারোয়ানি সমেত ।

অথচ ,
আমার ব্রাউন টেলিফোনের তারের চিৎকার পৌছায়নি ঈশ্বরের ধারে কাছে 
আর , আমি ও তো মানুষ – গনতন্ত্র নই 
ঈশ্বরের জেলখানায় দেখেছি প্রেমিকার লাশ আরো ভালো মতন – ছুয়েছি পায়ের আঙুল – দাঁড়িয়ে থেকেছি গোরস্থানে – কফিনের গা হতে চুরি করেছি ফুল ।

তারপর , 
যেখানে শহরের সুন্দর বুকের সব মেয়ে – কোলাহল করে গনতন্ত্রের মতন – সেই রাস্তায় রাস্তায় দু হাত শুন্যে ছুড়ে বলেছি – বিউটিফুল ফ্লাওয়ার্স , অনলি টেন !




১৩


আগামী পৌষে মানুষের মাংস ছুয়ে ছুয়ে সুর হয়ে নেমে যাবো ক্রমশ আমন ধানের ক্ষেতে। আমাদের শীতকালীন সঙ্গমের মাঝে পোষ মেনেছে যত মোমরঙ পায়রা - খুলে দেবার আগে তাদের বেড়ি জোর করে বসাবো ঝুরঝুর করে ভেঙে যাওয়া চক্রব্যুহে। যেখানে নদীফুড়ে জেগে উঠেছিল ঘনকালো স্তন - আর বেজেছিল আমন ধানের প্রাচীন সুর।

আগামী পৌষে একজন কামারের মুখ মনে করে করে আমি হাটবো ইরি ধানের জলজ ক্ষেতে আর পুড়িয়ে ফেলবো হাতের তালুতে গজিয়ে ওঠা কামারশালা। আমার কান্না পাবে জানি - জলভরা মাঠে ডেকে উঠবে মহিষের দল আড়ড় আড়ড় শব্দে। ধারেকাছে লোনাঘ্রান শোকের পোশাক পরে নারীগন সেলাই করবে ক্ষেতজুড়ে ইরি ধানের চারা। তাদের জটিল আদ্র বুকের মধ্যে যাবো - লুকিয়ে কাঁদবো। ছুটে আসবে তাদের পুরুষেরা হইহই বেগে- খুঁজে পাবেনা আমাকে যদি ছিড়েও ফেলে বেবাক নারীদের। 

আগামী পৌষে আলের ধারে শুয়ে থাকবো - চাষার জটলা হতে তুলে নেবে ছোপছোপ রক্ত সমুদ্র।  রঙঝরা গয়নার বাক্স হতে জন্ম নেয় যত পেয়ারা পাতা গন্ধ ফড়িং তাদের সাথে গল্প করবো - হীরক রাজা অতি ভালো।

আগামী পৌষে সঙ্গম আর কবিতার জন্য নতুন ভাষা খুঁজবো - লাগাবো জরির ঝালর বাসর জুড়ে। সারাদিন শাল গায়ে ক্ষেতের হাওয়ায় হাওয়ায় বিষন্ন আত্মার গান গেয়ে ফিরব রাতে ব্যাক্তিগত নারীর জলের তলায় - সঙ্গমে ছড়াবো ঘরময় এলাচের গন্ধ! 

কথা দেবো ফের,
আগামী পৌষে মানুষের মাংস ছুয়ে ছুয়ে সুর হয়ে নেমে যাবো ক্রমশ আমন ধানের ক্ষেতে।




১৪


আনারসের মৌসুম শেষ হয়ে এলে মরিয়মের চোখ হতে অনেকটা দু:খ ধার করে আমি শুরু করেছিলাম চিতার গভীরে মানুষ গাছের চাষ। হাওয়ামহল হতে মৃতবায়ুর যাতায়ত - আর মরিয়মের ক্রম অস্থির আঙুল বুনে দিল মানুষগাছের বাগান - মৃত্যুর মতন দ্রুত।

মরিয়ম বা আমি কেউ জানিনা কখন শেষ হবে মানুষ ফলের মৌসুম। এই না জানার মধ্যে ঈষৎ অন্ধকার উড়ায় স্বর্ণঝরা ছাই আর শস্যকনা - আর আমরাও এই না জানার মধ্যেই ধ্যানমগ্ন গ্রানাইট এক। তবুও লুব্ধ যাপনে আমরা কেবল আশ্চর্যজনক ভাবে বৃদ্ধ হয়ে যাই। আর একদম সাদা ইউনিফর্ম পরা চপল বকের দল উড়ে যায় মানুষ গাছের মাথা হতে বর্শার শুলছন্দে ছন্দে আশাতীত মনোরম আধারের দিকে। এসব ধারালো সান্ধ্যকালীন দৃশ্য ভালো লাগে - দৃশ্যের গভীরেও থাকে শিহরিত গোধুলী আর বুনো মোষের দল। আমাদের এই উদ্যত অভিমান আর যত থেমে যাওয়া চোখজ্বালা কি নামে চেনে ওরা জানিনা - তবুও, দৃশ্যের বনগুলো পুড়ে যায়, বৃক্ষচিতা নিভে গেলে বুনোমোষের ডাক শোন যায় দৃশ্যের গভীর হতে রোজ সন্ধ্যায়।

আনারসের মৌসুম শেষ হয়ে এলে মরিয়মের চোখ হতে অনেকটা দু:খ ধার করে আমি শুরু করেছিলাম চিতার গভীরে মানুষ গাছের চাষ।

আর এখন 
এই বৈশাখী রাতে মানুষ গাছের বাগানে আমি আর মরিয়ম জড়াজড়ি করে শুয়ে থাকি। কল্পনা করি - মানুষ গাছে ফুল ফুটেছে রাক্ষস রঙা আর ব্যাকুল সব পাতারা চিরদিন জেগে আছে বিভ্রম আলো হয়ে। ঠিক তখনই বিপুল দু:খকাতরতা নিয়ে মরিয়মের শরীর হতে খসে পড়ে শাদাফুলের সুর। আমরা বুঝতে পারি এই বৈশাখ মাস মানুষগাছের কেউ না। নির্জন সব সব্ধ্যায় আমাদের শ্রম দিতে হবে আরো - তবে যদি মানুষ গাছে বাসা বাধে আতঁস কাচের আগুন!

আলিঙ্গন আর চুম্বনের আগে আমরা জুয়া খেলি নিয়মিত - অর্ধনগ্ন থাকি। বাজি হেরে কফিনগন্ধ নিয়ে ঢুকে পরি তার ঘুঙুরের মাঝে। আমাদের তুমুল সঙ্গম মাঝে নবজাত বাছুরের উল্লাসে আসে এক ধুম্রশাদা দৃশ্যঘর - উপবনের ছত্রাক ঘিরে সে দৃশ্যঘরে উল্লাস করে যৌনগন্ধী মহিষেরা সব!

আনারসের মৌসুম শেষ হয়ে এলে মরিয়মের চোখ হতে অনেকটা দু:খ ধার করে আমি শুরু করেছিলাম চিতার গভীরে মানুষ গাছের চাষ।
আর আজ বছর দশেক বাদে মানুষ গাছের বাগান হতে আমরা আয় করেছি অনেক রকম দু:খ । যে বিপুল দু:খ জমা রেখে মাটির বাকলে আমরা নতুন করে শুরু করতে পারি নরকের আধারে তরুনী হাসির চাষ। অথচ, এত বিপুল অর্থসমান দু:খ দিয়েই মরিয়ম কিনতে চায় আরবিক এক ঘোড়া। তাকে আমি বুঝাতে পারিনা গতকাল স্বপ্নে এক বুনো টিয়ার গলা চেপে রক্ত বের করেছি আমি - আর বুঝাতে পারিনা আমার বুকের ভিতর নিঝুম রোগের মতন জমে আছে রাগ।

তাকে আমি বুঝাতে পারিনা কেননা -

আনারসের মৌসুম শেষ হয়ে এলে মরিয়মের চোখ হতেই অনেকটা দু:খ ধার করে নিয়ে আমি শুরু করেছিলাম চিতার গভীরে মানুষ গাছের চাষ !




১৫


ধান কাটার গান এসে নিয়ে গেলো অজস্র নারীর উলুধ্বনি। এখন শিমুল পাতায় সুচাগ্র চোখের মতন সন্ধ্যা নেমে এলে আমাদের বিরান দেহ হতে খুলে খুলে পরে পূর্ব-পুরুষের মুখোস। বিলাসী হারমোনিয়ামের পাশে সে সব মুখোসের সোঁদা গন্ধ হতে জন্ম নেয় ফিরোজা রঙের শবভূক পিপড়ের দল। আমাদের ঘিরে তারা হাসে খেলে নাচে গায়।

আমাদের ধানরঙ শোকগুলো খুব বেশী দীর্ঘ হতে থাকলে শেষ অবধি আঙুলে চিত্রিত কানামাছি অরন্যে গিয়ে পৌছায়। সেখানে এক দীঘলকেশী মুখ দেখে শালপাতায়। জ্যামিতিহীন স্বপ্নবৃত্তের মতন সাজায় গ্রামের প্রভাতফেরী। শুধু তার মুখটা দেখতে পাইনা আমরা। হরিতকী বনের ভেতর জমানো বেদনা রঙ স্তব্ধতা হতে শুভ্র পালক বুনোহাঁস বেশে হেটেঁ আসে সন্ধ্যা নামার পুর্বাভাস। কিছুমাত্র আশ্চর্য নেই আমাদের পরিকল্পনা জুড়ে তখন থাকে পালাবার ঘ্রান। পালিয়ে যাবার রঙ মাছরাঙা সাপ।

গ্রীষ্মের দেশ হতে এমন কিছু জলছায়া স্বপ্ন দৃশ্যের মতন বিলাসী স্বপ্নজ্বর স্মৃতি তুলে নিতে জানলে আমরা ও পেতাম খুব বুনো সুগন্ধের অন্য এক গ্রাম।

ধান কাটার গান এসে নিয়ে গেলো লোকালয় মাঠ ঘাট শশ্মান। এখন ওষুধের বাক্সে সুড়ঙ্গ খুড়ে নেমে এলে অদ্ভুত ছত্রাক আমাদের ক্ষুধিত অধর হতে খুলে খুলে পরে ফসলের ঘ্রান। সঙ্গীহীন শশ্মান ছবেদার ছায়ায় ফসলের ঘ্রান হতে জন্ম নেয় উলঙ্গ উড্ডীন বসন্ত বিদির্ন বুক ভেজা ডানা আট পরী। শশ্মানে একাকী পেয়ে আমরা তাদের ঘিরে হাসি খেলি নাঁচি গাই!



Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন