আলোক আজম এর কবিতা | মিহিন্দা



ফাগুনভাবনা


ফাগুনভাবনা কখনও ছিল না।
কখনও দোলায়নি মন দখিনা বাতাসে।
রাঙেনি ধূসর পৃথিবী ফাগুন রঙে।

তবে আজ কেন কেঁপে ওঠে বুক
কারও ভাবনায়?
কে তুমি হেঁটে যাও হৃদয়ের আল ধরে?
লাগাও দখিনা হাওয়া, বাজাও কঙ্কন?

রক্তচূড়ায় রঙ দিয়ে
কে তুমি রাঙাতে চাও ধূসর পৃথিবী?
দেখাতে চাও সুখার্ত রক্তক্ষরণ?



তোমার চোখে আমার পৃথিবী


ধীরে ধীরে এসে লাজুক হেসে বসলে,
দীঘল দুটি চোখ আনত;
যেন মাটি খুঁড়ে খোঁজে পালাবার পথ।
অথচ, চোরা চাহনিতে গাঁথো আমাকে,
যেন তীর; নাকি লুকোচ্ছ
এককোটি প্রেমের আগুন?

এদিকে
ক্রমশ আঁকছি তোমার চোখে আমার পৃথিবী।




চুরি


যত্নে বোনা বাসার ফটকে
রাগী চোখের দশাসই দারোয়ান।

অন্দরে প্রবেশ দুষ্কর।

অন্দরে সাজানো কামরা।
কামরায় সাজানো খোপ।
খোপের ভেতর সোনার পায়রা।
পায়রার চোখে উড়াল-স্বপ্ন...

একদিন ভোরে জেগে দেখি,
কামরা ও খোপের দরজা খোলা।
পুরোটাই খা খা।

সাধের পায়রা নেই।

খুঁজি হন্য হয়ে...

অকস্মাৎ দেখি মেঘের উপর দাঁড়িয়ে তুমি;
তোমার হাতেই ডাকছে আমার পায়রা বাকবাকুম।




নির্বাক ভাষ্যে



বলতেই চেয়েছি।

তথাপি
শুকনো ওষ্ঠাধর
কেঁপে ওঠে থেমে গেছে বার বার।
লজ্জায় নুয়ে গেছে চোখ।

তোমারও আমারও।

অতঃপর
দুজনেই পান করেছি দুঃসহ মৌনতা।

যদিও হয়নি বলা শব্দময় প্রকাশ্যে;
তবুও যেন বলেই দিয়েছি নির্বাক ভাষ্যে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন