শাহানাজ মৌ এর কবিতা | মিহিন্দা




শিকারী



যদি গাছ আঁক ছায়া ছাড়া,তুমি এক খুরধার ঘুঙুড়।
স্পর্শ খুলে মোহের পুথি পড়ো সুরে সুরে।রেহেলের কাঠে বাজাও হ্যামিলনের বাঁশি।

গন্ধম সেও শব্দ,তীব্র কিছু ঘুম শেষে ডানা ঝাপটায় আনন্দ।তবে,শিকড় ভাঙা রঙে যার মুদ্রা নাচ হয়ে ওঠে তার নাম শিকারী।

পাখির ভঙ্গিমায় উড়াল শেখাতে শেখাতে বসন্ত গড়িয়ে দেয় শীতভর্তি আকাশে।

আর বিস্ময় বেহালাটি সেই বসন্ত রাগ নিয়েই হয়ে ওঠে শিশির।।





সমীকরণ



নিউটন নামে আমার দুজন বন্ধু ছিল
একজন আপেল নিয়ে খেলতে খেলতে বিজ্ঞানী হয়ে গেলো
আর একজন রক্ত নিয়ে খেলতে গিয়ে হল কবি

আপেল, রক্ত দুই- ই লাল

লাল > বিজ্ঞানী, লাল > কবি

বিজ্ঞানী / কবি = দার্শনিক

এ থেকে বোঝা যায়-
লাল হল সেই সমীকরণ যাকে সমাধান করতে হলে
কয়েক নিউটন বুকের উপর চাপিয়ে রাখতে হয়




শীতকাল



জৌলুশ চিরস্থায়ী নয়।
গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে চকচকে কমলালেবু।
ফেটে যাওয়া রসে সাঁতার দেখে দর্শন।
আমি এক সাঁতারু,মুদ্রায় পচন ধরলেই বুঝি শীতকাল।
আগুন পোহাবার মালা নেই যার সে আমারই মত অসহায়।


কমলালেবু খাবো না,রেখে দেবো।
গন্ধে নেচে যাবে কমলাবৌ।

তার নগ্ন শরীর একটি পৃথিবী।
সেখানে সাজানো আছে ফেটে যাবার উন্মাদনা।

আমি পাগল নই,শিল্পী।
প্রতিদিন শীতকাল উৎযাপনই কমলা।
জমে যাওয়া ফুসফুসই নিখাদ শিল্প।


পথে পথে কমলালেবুর খোসা
কারা এই ইশারা আঁকে?
শীতের নামতা শিখিনি বলে চিরকাল শীত আমার।

গভীর পিপাসায় এত যে গন্ধ বাজায়,
তারা কি বোঝে না-
হৃদযন্ত্রের ওঠানামায় আমি এক কাতর দর্শক!




ইতিহাস



গাছ বিষায়ক কবিতায় শিকড় থাকবেই
শিকড় জন্মায় স্থায়ী ঠিকানায়

যে চাষী চাষের জমিই পেল না-
তার বীজে পিঁপড়ার বাম্পার ফলন দেখে
দীর্ঘ-শ্বাসের গাছ দাঁত বের করে

চাষীর চোখে স্থায়ী ঠিকানা গড়ে -জমকালো অন্ধকার


রাজ্য সরকার খাজনা বাড়িয়ে দেয়
মাছিদের একজোড়া ডানা দশজোড়া হয়
অার রুগ্ন চাষীর গায়ে ফুটে উঠে ২০৬ টি হাড়ফুল


থুথু ফেলব না, গলা শুকিয়ে যাবে
ঘৃণার বীজে কেবলই বিষ

সেচের জল সেও অনেক দামী
ঘৃণা বেঁচলে ভাত ফুটবে না হাঁড়িতে


রোদ ফুরায়

এ গল্প নষ্ট বীজের মতো। পানি চুষে পঁচে যায়।
অঙ্কুরোদগম দেখবে বলে যে চাষী রাত জেগে ছিল
তার বদনামে মাছিরা ভীড় জমায়।

মূলত,ইতিহাস সফলদের গায়ে জড়ানো চকচকে গহনা





প্রাচীন কোরাস



কী তুমুল প্রত্যয়,
সোম বললেই এঁকে ফেলো দীর্ঘ উড়াল।

তুমি পাখি নও, বাঁশীওয়ালা।
শীতশীত বাতাসের কাছে বাজাও বসন্তবেলা।
ভাঁজে ভাঁজে মধুবনী সুর, যাদু ও বাস্তবের বিহু নাচ।

বিস্ময় সুড়ঙ্গ খুলে যায়, যৌথ ডানায় বদলে যায় মুদ্রা।
এলাচ গন্ধের বর্ষাকাল লাল হলে গলা মেলায় আত্মজ।

প্রাচীন কথায় ছড়িয়ে পড়ে আমাদের নিজস্ব কোরাস,
এক + এক = তিন।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন