সুমি চক্রবর্তী এর কবিতা | মিহিন্দা




অনুরোধ


তুমি ছেড়ে যাচ্ছো মনে হলেই
পৃথিবীর সমস্ত ব্যামো আমার উপর ভর করে; কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে!
আর কিছু না হোক
অন্তত কপোলে আঙুল ছোঁয়াবার ছুতোয় প্লিজ থেকে যেয়ো পাশে!



অসুখ


সব ক্ষতই একদিন শুকিয়ে যায়, কিন্তু প্যাপিলোমা ছোঁলে তাকে বয়ে বেড়াতে হয় আমৃত্যু!
তুমি আমার সেই দুরারোগ্য অসুখ, এক পা এক পা করে রোজ যে শ্মশানের দিকে এগিয়ে নিচ্ছে নিত্য!



মাথার দিব্যি


আমার জন্যে একবার কাঁদবে প্লিজ?
গভীর বিরহের তীব্র যন্ত্রণায়,
হারানোর বিষম ভয়ে অথবা প্রচণ্ড সুখে?

ছোটবেলায় একবার ভীষণ অসুখ করেছিল বলে
বাবা কেঁদেছিল খুউব, বেশ মনে আছে!
মাও কেঁদেছিল হয়তো লুকিয়ে, আমি দেখিনি
তখনও আমি ভালোবাসাকে বুঝতে শিখিনি।

এরপর, বহুকাল গত হলে ভালোবাসাকে বুঝে উঠতে না উঠতেই
আমি নিঃশব্দে কাঁদতে শিখে যাই!
বুঝলাম, প্রকৃতির ধারণক্ষমতা নেহাত অল্প,
নিয়মের চেয়ে সামান্য কিছু বাড়তি হলেই তা উপচে পড়ে,
ভালোবাসার ক্ষেত্রেও হয়তো তাই!

এই যে আমি, রোজই তোমার জন্যে কাঁদছি
ইচ্ছেয়-অনিচ্ছেয় অভিমানে-অভিযোগে কাঁদছি
রাগে-অনুরাগে কাঁদছি, সুখে-বিরহে কাঁদছি
অসুস্থ হলে, এমনকি মান ভাঙাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে
হারানোর ভয়েও অঝোরে কেঁদে বুক ভাসাচ্ছি,
বালিশ ভেজাচ্ছি যখন তখন!

অথচ এক মহাকাল সময় পেরিয়ে
আজও তো কেউ আমার নামে দুফোঁটা চোখের জল খরচ করেনি!

আজকাল দেখার বড় সাধ জাগে মনে,
আমায় যে ভালোবেসে চোখকে করেছে নীল আকাশ
সেই আকাশের তারাগুলো আমার নামে কতটা নির্দ্বিধায় খসে পড়ে!
কতটা ভারী হয় প্রতিটি জলকণা!

আমায় ভালোবেসে একবার কাঁদবে প্লিজ?
সজোরে ধেয়ে আসা উল্কাপিণ্ডের মতো 
তোমার আকাশের তারাগুলোকে আঙুলের ডগায় নিয়ে 
একটিবার তাদের ঝলক ছুঁয়ে দেখবো! 
মাথার দিব্যি, কাঁদবে প্লিজ?



একচোখা 


কিছু ভালোবাসা প্রকাশ করতে নেই কাউকে বুঝতে দিতে নেই কাউকে দেখাতে নেই
ছোঁতে দিতে নেই 
হৃদয়ের প্রকোষ্ঠে চন্দন কাঠের বাক্সে তালাবন্দি রাখতে হয় গভীর রাতে বাক্স খুলে টুংটাং শব্দে নেড়েচেড়ে দেখতে হয় অশ্রুজলে ধুয়ে সতেজ রাখতে হয়
 
কিছু ভালোবাসা একতরফাই হয়, একাই বাসতে হয় কিছু ভালোবাসা ভীষণ নিঃস্ব আর অসহায় হয় কিছু ভালোবাসা আত্মভোলা আর পথভোলা হয় কিছু ভালোবাসা খুব বেশি ভালোবাসাহীন হয়



তুমি : পুরুষ অথবা প্রকৃতি  


নিমিষেই কেমন করে সকল মৌনতা ছিনিয়ে নাও!
 হঠাৎ দক্ষিণা হাওয়া বয়, শুকনো মড়মড়ে পাতাগুলো উড়ে যায়, কে জানে কোথায়! ঢেউয়েরা ছুটে চলে হেলেদুলে, মাঝি গান গায় আপন তালে। শুকনো গাছে নতুন কুঁড়ি আসে, ফুলেরা হাঁসে শাখায় শাখায়। পাখিরা গান গায়, প্রজাপতি আর ভ্রমরেরা ফুলের সঙ্গমে দিশেহারা।  
কেউ চাইলেও আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না, কিছুতেই পারে না। ভালোবাসার শীতল হাওয়ায়, প্রেমের সোনালি রুপোলি পরশে আমি পারি না, কিছুতেই পারি না, ওই হাওয়ার মাতাল হাঁসির তালে বুকের ধুকপুকানি সামলাতে। আমি পারি না দেহের রক্তকণায় অট্টহাসির উচ্ছ্বাস সামলাতে।  
উফ্, তুমি নিজেও জানো না কী যে দিয়ে যাও নিজেরও অজান্তে!

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন