সুশান্ত হালদার এর কবিতা | মিহিন্দা




ঠোকর


ভালোবাসতে চাইলেই কি ভালোবাসা যাবে?
এই মেয়ে ঠোকরাবে কি পত্র শূন্য বৃক্ষ ডালে?
যে দাঁতে ভেঙেছিলে পাথর ভাঙার জিদ
সেখানে এখন হাড় কাঁপানো মাঘী পূর্ণিমার শীত

ভালোবাসতে চাইলেই কি ভালোবাসা যাবে?
মরচে পড়া তলোয়ারে কি যুদ্ধ করা যাবে
নাকি খাপখোলা তলোয়ারে বুক পেতে দেবে?
নদী আছে জল নাই,পুকুর আছে পদ্ম নাই,আকাশ আছে নীল নাই
নাই নাই কিচ্ছু নাই
বধির হয়ে শুনি শুধু হাড় ভাঙার শব্দ তাই

ভালোবাসতে চাইলেই কি ভালোবাসা যাবে?
বুকের কাঁপনে যদি ঝড় ধেয়ে না আসে
পুষ্প মঞ্জরিত শাখ যদি মধুকর না ডাকে
ওষ্ঠের আলিঙ্গন যদি অধরোষ্ঠ না বুঝে
তবে তো বৃথাই জীবন! ভালোবাসবে কি মেয়ে?
পাপড়ি ঝরে গেলে অজানা পথিকও আর তাকায় না ভুল করে!




জাহ্নবী


কোথায় যাবে?এত তাড়া কিসে?দু'দণ্ড বসো
দেখি অপলক নয়নে
অনুসন্ধিৎসু চোখে কতটা ছিল অবিশ্বাস
খোঁপার বাঁধনে কতটা ছিল উলঙ্গ বাতাস
কতটা বেখেয়ালিতে খসেছিল বক্ষবাস
কতটা রক্ত ঝরে অধরের সর্বনাশ
দেখি, স্তনবৃন্তেও কি ছিল ভ্রমরের অধিবাস?
ভুরু কুঁচকালেই বুঝতে পারি কতটা ছিল কাঁটার আঘাত

যাবে বললেই কি যাওয়া যায়?
স্নান শেষে কে কবে নদীকে ভুলেছে
পথ কি ভুলে পথের বাঁকে এসে 
নাকি গতস্য নাস্তি বলে নিভে যাওয়া প্রদীপও জ্বলে  উঠে? 

দিন শেষে রাত্রিও কাছে আসে
মৃত্যু ভয়ে কে কবে নিজেকে তুচ্ছ করেছে? 
বসন্ত আসেনি বলে ফুল কি কেঁদেছে নিনাদে
নাকি আশার বাসরে বসে যুবতীকন্যাও বিচ্ছেদের প্রহর গুনে?

যাবে বললেই কি যাওয়া যায়? 
নাকি অমাবস্যা রাতে পূর্ণিমা দেখে শিহরিত হবে
যেমন হয় বসন্ত পত্র পল্লবিত ডালে, 
ভালো যদি বাসো ; আসো
মৃত্যু ভুলে হারিয়ে যাই জাহ্নবী তীরে!




সঞ্চিতা 


ভালোবাসি বলেই নাম দিয়েছি সঞ্চিতা 
অথচ রুদ্র তেজে তুমিও আজ বিদ্রোহিণী চণ্ডিকা, 
স্বজনই বুঝে স্বজন হারানোর বেদনা 
অথচ দেখো!
কবরে শুয়ে স্মিত হাস্যে রোদন করছে অভিজিৎ অনন্ত জাহানারা 
অনার্য বলে ভেবো না সঞ্চিতা 
ভুলে গেছি বিপ্লবী চে,মাও সে তুং কিংবা মায়াকোভস্কির কবিতা 

ভালোবাসি বলেই নাম দিয়েছি সঞ্চিতা 
অথচ তুমি!
দু'হাতে সরিয়ে দিলে জঞ্জালে ভরা পৃথিবীর সব আবর্জনা 
আশার আলোতে ভরে তুলবে বলে ভিক্ষুণীর জায়গা, 
পেয়েছো কি খাঁখাঁ চৈত্রে শ্রাবণের বৃষ্টির ধারা? 
'উলুবনে মুক্তো' সেও কি পেয়েছো ভর দুপুর-বেলা? 
নাকি ভরা-কাটালে গাঁ ভাসিয়ে ছেড়ে দিয়েছো মাঝিমাল্লাহীন নৌকা? 
তা যদি না হয় তবে জেনে রেখো সঞ্চিতা 
কাপালিক বলেই ভালোবেসেছি আরণ্যক-জীবনের দূর্ভেদ্যতা 
যেখানে তুমি আজও গণ মানুষের মনুসংহিতা 

ভালোবাসি বলেই নাম দিয়েছি সঞ্চিতা 
অথচ তুমি চাতকের বুকে এঁকে দিলে একখণ্ড মেঘের ভেলা
জল সিঞ্চনে তাইতো আমি ফুটিয়েছি গোলাপ যুঁই মাধবীলতা,
মৃত্যুর মিছিলে যদি দেখো হারিয়ে যাচ্ছে আঁধারে ভোরের প্রদীপ-শিখা 
তবে জেনে রেখো 
মুক্তির মিছিলে একাত্তরেও পিতা উদ্ধত তর্জনীর করেছিল ইশারা!



আহবান 


কতটা বেসেছি ভালো বলবো না মুখ ফুটে 
যা বলার বলে দিয়েছি মেঘাচ্ছন্ন শ্রাবণের অবগুণ্ঠনে 

দেখার ইচ্ছে যদি হয়, দেখে নিও
ভরা ভাদরে কতটা ছিল উত্তেজিত গাঙ
কতটা বিচ্ছেদে গুমরে উঠেছিল প্রাণ 
কতটা আগ্রাসী হলে ধনুক ভাঙার করেছিলাম পণ 
কতটা ভালোবেসে বক্ষবাসে দিয়েছিলাম টান 
কতটা শিৎকারে তোমাকেই করেছিলাম ধ্বংসের আহবান 

কতটা বেসেছি ভালো বলবো না মুখ ফুটে 
যা বলার বলে দিয়েছি প্রত্যাখ্যাত ভিক্ষুকের কাছে 

দেখার ইচ্ছে যদি হয়, দেখে নিও 
আচমনে সন্ন্যাসী করপুটে কতটা নিয়েছিল জল 
কতটা বিবাগী হলে মানুষ ছেড়ে দেয় নিরাপদ আশ্রয়স্থল 
কতটা অভিমান হলে অস্তগামী সূর্যও ডুবে যায় অকুস্থল 
কতটা নির্ঝর হলে অপ্রেমে নদীরও নিস্তরঙ্গ হয় জল 
কতটা নিথর হলে পাহাড়ের বুকেও নেমে আসে আষাঢ়ে ঢল 

কতটা বেসেছি ভালো বলবো না মুখ ফুটে 
যা বলার বলে দিয়েছি প্রেমে অপ্রেমে যেদিন টেনেছিলে কাছে!



Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন