ইফতি আরিফ এর দীর্ঘ কবিতা | মিহিন্দা




লকডাউন



সমবেত সকলের সামনে আমি কখনো বক্তৃতা দেইনি।
হাহা, এখন আমি এখানে বলতে এসেছি- 
আমি প্রধানমন্ত্রী হতে চাই।

সমবেত সকল, 
আপনারা সবাই একটু মনোযোগ দিয়ে শুনুন-
এই লকডাউন শেষে,
আমি প্রধানমন্ত্রী হতে চাই, 
আপনারা কেউ আমাকে বাধা দিতে আসবেন না।
এই লকডাউন শেষে,
আমার অনেক কিছু জানার,দেখার এবং করার আছে, 
প্লিজ আপনারা আমাকে বাঁধা দিবেন না।

এই লকডাউন শেষে, 
আমি রাজনৈতিক মাঠে-
'জয় বাংলা' শ্লোগান বন্ধ করে দিতে চাই।
এই লকডাউন শেষে, 
দশ টাকায় চালের প্রজেক্ট-
আমি বন্ধ করে দিতে চাই।
এই লকডাউন শেষে, 
প্রতিটা গার্মেন্টস সৈনিকের প্রেমালাপ-
আমি বন্ধ করে দিতে চাই।
এই লকডাউন শেষে, 
আমি অংপুরের-
সুদারু ব্যবসা বন্ধ করে দিতে চাই।
প্লিজ, আপনারা কেউ আমাকে বাধা দিতে আসবেন না।

এই লকডাউন শেষে-
আমি বলে দিতে চাই, 
তপ্ত রোদে কৃষকের পিঠ পুড়েনা, 
পুড়েতো বাংলার পঞ্চাশটি অক্ষর।
কৃষকের নাক বেয়ে পড়া নোনা জলে-
সে সোনা অঙ্কুরোদগম-ফসল।
পঙ্গপালে খায়নি তা বঙ্গপালের কালে..

সমবেত সকল সাক্ষী থাকুন,
এই লকডাউন শেষে, প্রধানমন্ত্রী হলে
সংসদে আমি প্রবৃদ্ধি নিয়ে কখনো প্রশ্ন তুলবোনা।
এই লকডাউন শেষে, 
বাংলাকে কেন তারা ভালোবাসেনি তাও জানতে চাইবোনা।
এই লকডাউন শেষে, 
গুণতে চাইবোনা পার্লামেন্ট বাজেটে সাকো সেতুর সংখ্যা কত দাড়াল।
এই লকডাউন শেষে সমবেত সকলকে আমি বলবো,
আপনারা যারা বাংলাকে ভালোবাসেননি,
আপনারা এখান থেকে আসতে পারেন..
আপনারা আমার মতো এতটা নির্দয় হতে পারেননি,
হয়ে ওঠেননি  এখনো।

সমবেত সকল-
এই লকডাউন শেষে, যদি আমি প্রধানমন্ত্রী হই,
পার্লামেন্টে আমি বরাদ্ধ নিয়েও কোন প্রশ্ন তুলবোনা।
এই লকডাউন শেষে, 
বরাদ্ধ চোররা কেন বাংলাকে ভালোবাসেনি
এজন্য ট্রাইব্রুনাল গঠন করবোনা।
সমবেত সকল, 
এই লকডাউন শেষে, 
শুধু আমি আপনাদের শিরায় একটা সিরাম পুষ করে 
বিদ্রোহ দেখতে চাই,
একটি শ্লোগানে আপনাদের ক্ষুধার প্রতিফলন দেখতে চাই,
সাত মার্চের জয় বাংলা শ্লোগান দেখতে চাই, 
এই বলে যে- 
বরাদ্ধ-চোরদের রুখে দাও,
হাংড়ি জনতার ভাত দাও।

যদি কেউ বাধা দেয়, প্রশ্ন তুলবেন- 
আমার যুদ্ধে জেতা লাল রক্তের স্বাধীনতা নিয়ে।

এই লকডাউন শেষে 
আমি সংসদে প্রমাণ করে দিব,
 হাসিনা ছাড়া-
 বাংলাকে কেউ বোকার মত ভালোবাসেনা, 
কেউ ভালোবাসতে পারেনা।
এই লকডাউন শেষে 
আমি প্রমাণ করে দিব, 
আমলা আর রাজনৈতিকবৃন্দের প্রেম কতটা গভীর হলে,
হাসিনা খাওয়াতে পারেনি সাত কোটি হতদরিদ্রকে।
এই লকডাউন শেষে প্রমাণ হয়ে যাবে,
আমরা পায়ের নিচে পিষে ফেলতে পারিনি 
গাউন চেয়ারে বসা দ্রব্য-মূল্যকে।
এই লকডাউন শেষে প্রমাণ হয়ে যাবে,
আমরা পূরণ করতে পারিনি 
জনগণের বিশুদ্ধ বাংলা চাওয়াকে।

সমবেত সবাই প্লিজ আপনারা বসুন,বুঝুন-
এই লকডাউন শেষে, 
ভোট হবে আবার পেটের নেশায়
এই লকডাউন শেষে, 
চেয়ারম্যান হবে চালতেলের আশায়
এই লকডাউন শেষে,
 আবার বরাদ্ধ হবে
এই লকডাউন শেষে, 
বাজেট জুন মাসে
এই লকডাউন শেষে,
 আমার ছাত্রত্ব থাকবে
এই লকডাউন শেষে, 
মিড,প্রফের প্যারা লাগবে
এই লকডাউন শেষে, 
প্রতিটা সেশনে জট আসবে
এই লকডাউন শেষে, 
পরিচ্ছন্ন ঢাকা আন্দোলন থাকবে
এই লকডাউন শেষে, 
শহীদ চাচার মেয়ে বড় হবে
এই লকডাউন শেষে, 
হাসানের বাপের পায়ে গুলি দাগ থাকবে
এই লকডাউন শেষে, 
কৃষকের ক্ষুধার্ত পেট থাকবে
এই লকডাউন শেষে, 
BCS-এর রেজাল্ট হবে,
গার্মেন্টস সৈনিকরা ফিরে আসবে, 
কাক আসবে এই শহরে, প্রেম হবে,
 সংসার ভাঙবে..

কিন্তু এই লকডাউন শেষে, 
মানুষগুলো মানুষ হবে কিনা, 
আমি আপনি তাই জানিনা।

সমবেত সকল-
এই লকডাউন শেষে, 
আমরা সবাই মৃত্যুকে ভুলে যাব, 
ঠিক আছে..?
যেমনি ভুলে ছিলাম গতকালও।
অথচ এই লকডাউন শেষে , 
আমি আপনাদেরকে-
একটি কান্নার কথা মনে করিয়ে দেব।।

এই লকডাউন শেষে,
 আমলার ছেলে ঘুড়ি উড়াবে, 
 কাকুর মেয়ে আম ভর্তা খুঁজে-
আমাকে রিক্স নিয়ে হারিয়ে যাবে-
আপনাদের সমবেত এই বিশাল জনসমুদ্রে..

সমবেত সকল 
আমার করিডোরে থাকা প্রিয় প্রেমিকা 
এখানে উপস্থিত নেই,
তাকে বলে দিবেন আমি নিখুঁজ। 
তাকে আপনারা আমার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার 
অপেক্ষা আশ্বাস দিয়েন..

আমার হয়ে আপনারা তাকে বলে দিয়েন..
প্রিয় প্রেমিকা,
এই লকডাউনে তোমার আমার দেখা হওয়ার কথা,
এই লকডাউনে তোমার আমার প্রেম হওয়ার কথা
এই লকডাউন শেষে, 
হয়তো তোমার আমার প্রেম হবে,বৃষ্টিও হবে শহর জুড়ে
এই লকডাউন শেষে, 
সেলুনগুলো খুলে যাবে, মানুষ হবো তোমার টানে,
এই লকডাউন শেষে, 
সাইরেন বাজবে বের হবার, তুমি যাবে কারো সাথে
এই লকডাউন শেষে, 
তেতুল চাটবে সৈনিকগুলো, আমি শুষবো তামাক, 
বাংলা থাকবে আমার বুকে, গরিব মরবে অনাহারে, 
আর আমার একা তুমি মরবে প্রেমে..

সমবেত সকল-
এই লকডাউন শেষে, 
আমরা সবাই মৃত্যুকে ভুলে যাব,
যেমনি ভুলে ছিলাম গতকালও।
অথচ এই লকডাউন শেষে , 
আমি আপনাদেরকে আবার -
একটি কান্নার কথা মনে করিয়ে দেব।।

Post a Comment

أحدث أقدم