ইসরাত ইহিতা এর কবিতা | মিহিন্দা




স্পর্শক্রামী


প্রেমের গম্বুজেও স্পর্শ ' করোনা'
আননোন এনিমি অথচ আদিম জ্ঞাতি ট্রিগার
মিউটেড হয়ে রাম যেভাবে রহিম মুহূর্তেই।

বরং মানুষই মানুষের মৃত্যুদূত!
কেননা জেনেটিক গঠনের জন্য
'কোভিড ১৯ 'ভাইরাসের গুড হোস্ট মানুষ!
অথচ মানুষের জন্য মানুষের কিংবা পূর্বপুরুষের সূচিত হওয়ার কথা ছিলো।

গ্লোবাল ভিলেজ! আধুনিক দূর্ভিক্ষ! অর্থনৈতিক ধ্বস!যেহেতু পরিবর্তনের প্রথম বাধার নাম প্রত্যাখান।

হোমোস্যাপিয়েন্সও রাজত্ব ছেড়ে দেবে হয়তো কেবল অণুজীবীয় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মঞ্চে।
আমিত্বের অবিনশ্বরতা মেনে নিয়ে ফিরে যাবো আদিম গুহায়!!




উপলব্ধির বিষক্রিয়া



লোগোহীন। বাতাস বাতাস যোগাযোগ।
ওভারকোটের পকেটে লাফাচ্ছে আদিপাপ।অবদমনের মাঠে রাত্তিরের গন্ধ।
অন্য জীবন অন্য সময়। বাতাস ছেঁকে আসা শত শত জলজ।

কবর থেকে উঠে আসে কুমড়োপটাশ মাথা।জমাট ঘাসের টুকরোর মতো ভাঙা -ভাঙা নাক।কালশিটে  দাঁত।
দখল নিতে অথবা ধেয়ে আসে মেছোবাঘের মতো বিস্তৃত বাহুর দিকে।
লুটিয়ে পড়ে। হাতল ঘোরায় সাবেকী মিথ।

সরীসৃপের হিসহিস!
অমিমাংসিত কথাফুলকে ঝুলিয়ে রাখে কফিন-কফিন হ্যাঙ্গারে।
উপলব্ধির বিষক্রিয়ার জন্য ঈশ্বরের শাস্তি পাওয়া আবশ্যক।



সম্পর্কের ট্যালি 


নিঃশ্বাসে বিশ্বাসে শূন্যতার ছলাকলা গাঢ় বেদনার
পরাবাস্তবতার আড়ালে হাসে মানুষরুপী হায়নার হলুদাভ দাঁত।

সারি সারি স্বপ্ন ছিনতাই হয়ে যায় প্রাচীন অাঙিনায়
হায় সেলুকাস! সত্যিই সেলুকাস!
কাছেই পায়রা অথচ মন পড়ে আছে মগরার জলে
বোধের বৃত্তে ঘুরপাক; হ্যাঙারে ঝুলে থাকি' ব' ফলার মতো।

মৃত ঝিঝিরা হারমোনিয়ামের করুণ বেহাগ বাজিয়ে চলে যায় অন্যবনে অন্যখানে;
দেখি,অমিমাংসিত সম্পর্কের ট্যালি পৃথিবীজুড়ে।
নাগরিক বারান্দায় দেখি পুরোনো অন্তর্বাসের দুঃখগাথা!

মানুষ ভুলে গেছে পুরোনো সম্পর্কের গীত
পাহাড় ও গিরিখাত দুইয়ে মিলে ইসরাত!!




স্পর্শের চেতনা 


স্পর্শকে বলি তুমুল ভ্রমণ!
স্পর্শ করি বিন্দু বিন্দু জমজ ;
বস্তুগত শরীর স্পর্শ ছাড়া
চেতনার স্পর্শ আরও মোহনীয়! 

নৈকট্য ছাড়াই ঘুরে আসা যায় জ্যামিতিক শরীর;
সমুদ্রের এপার থেকে পাই হুবহু বহুবর্নিল ঘ্রাণ।

বরফকুচি সরিয়ে দেই ভ্রযুগল থেকে
যা কুড়িয়েছিলে ভাসমান মেঘ হতে।
সংলগ্ন থেকে যদি ছুঁয়ে যাই মাছি-মৌমাছি নয়
পথের পারাপার শেষে বেঁচে থাকে বিস্ময় ;
কেনো ইহলোকে মৌমাছি হয়ে আসি!

এক ঝাঁক ইঁদুর দৌড়ে আসে এবং এক টুকরো
পুরানো স্মৃতি কাটতে থাকে দাঁতে;
দ্বিগুণ পরিপক্ব, শতছিদ্র প্রকৃত পনিরের মতো।

বৃত্তহীন অন্ধকারের বিপরীতে ব্যাসার্ধের আধখানা কোমল মুখ মাপতে পারি আদিম কাঁদার শ্লেটে।



মাটির ময়না 


মোরগের ডাকে মাটির জাহাজ থেকে জানিয়েছিলাম মিহি সম্ভাষণ।দেয়নি জবাব বদ্ধ কপাট।
পাতার পোশাকে ঘাসবালিশের মখমলি ওমে ঘুম।বুনোফুলের সাজপোশাক। 
তোরণে দুইজোড়া সাদাপায়রা তবুও
প্রোটোকল ভেঙে কেমন করে শুনলে কবরের নীরবতা!

তোমার সন্তানেরা ফাঁকা-ফাঁকা মাঠের শূন্যতা;
একা!আদিবাসী গাঁয়ের ভবঘুরে ধোঁয়ার কুণ্ডলী। রসুইঘরের পেছনে তোমার সংসার রিফু করে 
বধূ-মাতারা।

দেবদারু,ইউক্যালিপটাস আর পাম গাছের ফাঁক গলে গলে ঝরে পড়ে ঝরাপাতার আদিম দুঃখ।
পৌত্রী ঘুঘুপাখিরা নিকানো আঙিনায় খোঁজে 
মাটির ময়নার ঘ্রাণ!!


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন