আরিফ রায়হান এর কবিতা | মিহিন্দা




কোন এক দুপুরে শুয়ে আছি আমলকি বনে।
পৃথিবীর কোলাহল মিটে গেছে বহু আগে,
বাতাসে তবু কর্পোরেট নারীর শ্যাম্পু করা চুলের সুবাস।

আমার ঠিক উপরে একটা উঁচু আমলকি গাছ।
মাথা ভর্তি আমলকি উকি দিচ্ছে
চিড়ল পাতার ফাঁক দিয়ে।

আকাশ দেখা যাচ্ছে না।
তবু আকাশ দেখার চেষ্টায় আছি।
আরো কিছু অমূলক চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে,
অপেক্ষা করতে হবে মাথার উপরটা নগ্ন দেখবার।
উপরে নীল, নীচে কালচে সবুজ
এমন একটা ছবির জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

সময় যাচ্ছে না যেন।
মানুষের ঘড়িতে আটকে গেছে যে সময়
তা এখানেও স্থবির।

বাতাসে এখন কস্তূরীর সুবাস।
কস্তূরীমৃগ উপেক্ষা করে,
অদূরে একটা মায়া হরিণী
দাঁড়িয়ে আছে আমার পানে চেয়ে।
আমি তাকাচ্ছি মায়া নিয়ে,
তার দৃষ্টিতে মায়া নেই।

দ্বিপাক্ষিক অপেক্ষার সমাপ্তি,
হরিণী আমলকি খেয়ে নিলো।




যখন এই প্রত্যাবর্তনের সময়
প্রকৃতিতে ফিরছে সব,
কুয়াকাটার লাল কাকড়া থেকে পতেঙ্গার ডলফিন।
তুমিও যদি ফিরে আসো,
তবে তোমায় স্বাগত জানাবো?
নাকি পায়ে পিষে রুদ্রমূর্তি আমি বলবো, "
গো টু হেল বিচ"!

তুমি না হয় ফিরলে সেন্টমার্টিনের কচ্ছপের মতো।
বালির নিচে সযত্নে যে ডিমগুলি লুকিয়ে রাখে,
তেমনি হৃদয়ে রাশি রাশি ভালোবাসা সাজিয়ে তুমি ফিরলে।
আমি কী তোমার বালিঘর ভেঙে দিবো,
নাকি হাতে হাত রেখে সুখের সাগরে ভেসে যাবো?

তুমি না হয় ফিরলে ঘৃণা নিয়ে,
আমি ভালোবাসায় তখনো নিমজ্জিত।
অথবা তুমি ভালবাসতে বাসতে চললে,
আমি ঘৃণায় ঠায় দাঁড়িয়ে।
বড্ড দোটানায় তোমার আমার এ ভালোবাসা।
তোমাকে ছাড়তে পারছি না,
আবার ছুতেও পারছি না।
ভালোবাসা আর ঘৃণা এক সরলরেখায় মখোমুখি দাঁড়ানো,
উভয়ের কাছে আসার তীব্র আকুতি
কিংবা ফিরে যাওয়ার পথ উন্মুক্ত।


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন