এইচ ইমন এর কবিতা | মিহিন্দা




নিরাকার

অবতার-এ নাম নেই, রাখনি কেন ?
সহজ কতগুলো ধূসর পাপপুণ্য
ছুটব কি দ্বিধায় উত্তর, বধির যেন
আদি সিলেবাসে জন্মের হীনমন্য

প্রায়শ্চিত্ত পছন্দসই সমুদ্র সৌম্য
রঙহীন গল্পের নিয়মমাফিক বিরহ
তাহলে কি ধরে নিব বৈষম্য ?
নাকি অযথা গল্পহীন কলহ ?


কতটা দূরে গেলে দৃষ্টি গোচর হবে
যতটা মৃত্যু হয়ছে সমুদ্রের নীলরঙে!
রোদ আসবে জানালা ছিঁড়েফুঁড়ে -কবে?
নিয়মের বৈষমহীন ধাতুতে ভুল-জং-এ


সূর্য ওঠে বিভীষিকাময় অভব্যতায়
দুঃখহীন কাঁদে তরুবীথি কল্প বিষণ্ণ
আত্মহুতি ওঠলো অজস্র পুণ্যতায়
আততায়ী সত্তা নারীর ভূষণে নিষণ্ণ






ফিরুক


ফিরুক কিছু সংজ্ঞাহীন আলাপ -রাত
মাটিতে জমে ভুল কান্নার সুর
দিগন্তে লুটিয়ে পড়া উত্তাপ
নির্বোধ বেদস্ত্তর অসুর

ঘৃণা শিখতে বল বেদুইন !
ভালোবাসা যেখানে ঘন-বিষাদ
শরীরটা নিজের 'পর নিকৃষ্ট ডিজাইন
যোগ্যতা জোগাড়ে সঞ্চিত রেখে সর্বনাশ

আমাকে' চিনতে ধূসর ইউনিকোডে ?
বদ্ধ দুয়ারেও তাড়ানোর ঠিক সুর 
ভিন্নতা আগলে চির আমাকে 
তুমিও ক্রুশেডে জড়ালে 


বিপত্তি আকছার ঘটে
আশাবাদী মানুষের চিন্তাতে
থমকে  সময়ের রাক্ষসী সত্তাতে
বিলবোর্ড ফাঁকা থাকে উরুর বিজ্ঞাপনে




ভোর


ফুল ফুল সরোবর সর্ষে ফুল দোলে
কৃষকের হলুদ মাঠ মাঘের পুরুষত্ব
বার বার পরাজিত  একটি হলদে
সকাল চোখ জুড়ে হেঁটে যায়
দিগন্তের রেখা ধরে , কুয়াশা শিশির স্নানরত
নিথর ঘাসের সবুজ , ডেউয়া রঙের আলো
কবিদের পরাজিত করে কল্পনাহীনতার 
শক্তিতে, প্রকৃতির রাজপুত্র নাকি কিশোরী 
রাজকন্যা কে লিখবে এই উপমা ? 
আমি হয়তো এই সকালকে লিখতাম 
স্বার্থহীন সন্তান হিসেবে
যে সঙ্গমের অনুশীলন পেরিয়ে শেষ বিকেলেও
হাঁটবে নগ্ন কিশোরীর বুকে, ডালিমফুলে
মোহ রঙ যখন কলাপাতায়  প্রতিধ্বনিত্ব 
পাশে অনাদরে বড় হওয়া শিৎকার হীন কুঁড়ইয়ের ঢালে
ভোর কাকের মত বসে, তখন তাকে কুৎসিত দেখায় ভাবছো ? 
একটু তো দেখায়!  
এই কম বয়েসী চোখ যখন শব্দহীনতায় ভুগে। 
ট্রেনের ধাতব শরীরে ভারি খেয়ে সকালটা বৃদ্ধার স্বস্তিতে 
ছলনা করে, নড়বড়ে কলপাড়ে কালবধূর ময়লা শাড়ী পাড়ে
লুকিয়ে থাকা ভোরের কামনা , 
ফেরেশতা'রা কায়দা হাতে ঘুমের ঘোরে কালিমা খুঁজে 
হুজুরের আধপাঁকা দাড়িতে ফুসফুসের পবিত্র কার্বন
হিন্দুবেটির গ্লাসে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসে,
আটপৌড়ে চিন্তার বুড়োর হাড়ে আষাঢ়ের গল্প নামে
উনুন ধোঁয়ায় পিঠাপুলির ঘ্রাণ  
মাতাল বয়স মা'কে ঘিরে বসে কয়েকটি কাক সমেত
মৌ হলদে বনে উড়ে উড়ে সভ্যতার হারানো মধু মাখিয়ে 
বাতাসে স্নিগ্ধ বৃষ্টির হুল ফোটায়, হলদে-সবুজ বনে
আগুন লাগে বেলার দিশাহীন  পাখার ঝাপটায়
কাঁধে বোধ হাতে চিত্ত নিয়ে কৃষক হাঁটে আইল ধরে 
পিছনে আদরের শিশু, সামনে শিশুর মাতৃহীন দুধের যোগান
কুয়াশায় ভেসে যায় সকালের বাজারহীনতার  রম্য রচনা
কয়েকটি কাক মৃদু ডেকে গৃহস্থীর দুঃখের সাথে তাল মেলায়
পাতাহীন গাছের ডালে,চালে  মিষ্টিকুমড়ার মতো সূর্য নিভৃতে, 
ভয়ার্ত কন্ঠে, কিশোরীর  কৌতুহলী  চোখের মত উঁকি দিয়ে দিয়ে  
প্রকৃতিতে সত্য মিথ্যার কুন্ডলী পাকায়,
এভাবে ভোর হয়, হলদে ফুল ভাসে,নীলিমায় একপ্রান্তে  সূর্য ওঠে 
আমি ক্লান্ত হয়, বয়েস বাড়ে প্রকৃতির গর্ভকালীন সৌন্দর্যে
হলদে-সোনালি মাঠ ধূসর বালির রঙে হাহাকার করে 
তখন চিল এসে আমার মাথার একহাত ওপরে দীর্ঘ অপেক্ষা 
আলাপ নিয়ে বাকবিতণ্ডায় উড়ে, আমি তার আলাপহীন পালকে  
"আবদার সমেত আক্ষেপ "লিখে দেই 'কাফনে সকালটা যদি আঁকা থাকত " 



Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন