সোহিনী মুখার্জী এর কবিতা | মিহিন্দা



বিপন্ন কৈশোর উত্তরণের খোঁজে



আজ থেকে অনেক শীত বসন্ত আগে
এমনই এক প্রাগৈতিহাসিক শহুরে গম্বুজ,
পাথুরে গুহা, করি বরগা আর সিংহ দুয়ারে
অন্ধকার বেষ্টিত ফ্লুইডে আমার প্রাক শৈশব,
হটাৎ একটা নিয়ন আলোয় ধূর্জটিকা,

রং পেন্সিল কাগজে আঁকি বুঁকি,ঝিনুক বাটি,
মুঠোয় ভরা অন্ন ,আর ইঁদুরের গর্তে ফেলা দাঁত নিয়ে আমার শৈশব,
বাল্যকালে মানুষ হওয়ার তাগিদ, পিঠ ঝুঁকে যাওয়া ইঁদুর দৌড়, আর দাঁত খোঁজার সময় হয়নি,তবে মাঝে মাঝে মাঠ টুকুর দর্শন পাওয়া যেত,

যাঁতাকলে পা পরে গেছে,মাঠ ও আর ডাকেনা হয়তো আর ডাকতে চায়না, ইমারতের ভিড়ে নীল আকাশ লুকোচুরি খেলে, তবু মনের ভালোলাগা গুলোও জানান দেয় মাঝেসাঝে ,গলার কাছে তাদের আটকে রেখে দেয়া বড়ই কষ্টের ,কারণ দৌড়ে যেতেই হবে পা সামলে,
তবু মাঝে , মাঝে পিছলে যায় লোকে বলে বয়সের দোষ!
আর কিছু অবাঞ্চিত অযাচিত ভুল যার ইয়ত্তা না পাওয়া শাস্তি আমার অমিকে দোষী সাব্যস্ত করে,
ঝড়ঝঞ্ঝা মুখরিত না সামলে ওঠা আমার কৈশোর,

যৌবনের কঠিন বাস্তবতায় মাটি ভিজে যায়,
আমার আমিকে বড় অচেনা লাগে,বেমামানসই পরিনমন ,স্বপ্নময় রাজকীয় সড়ক হতে অবচেতনের হাতছানি আর ভাঙা মন,
গড়তে না পারা সম্পর্কের বেদনা,

সময় কাউকে ক্ষমা করেনি,কাঁপা কাঁপা হাত
টলমলে পা সাহায্য না চাওয়ার অঙ্গীকার,
অনেক না পাওয়ার যন্ত্রণা, সত্তাকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করি,
শৈশব থেকে বাল্যকালে সামলে ওঠা ধাক্কা,

তবু আমার বিপন্ন কৈশোর আজও করে চলেছে উত্তরণের খোঁজ।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন