অনিন্দ্য তুহিন এর কবিতা | মিহিন্দা



কথাদের কথা


এভাবেই কথারা জমা হয় কথার পিঠে...

বোবা মেঘ কাশফুল ছুঁয়ে যে উল্লাস করে
পলাশের বনে তা আজ দাউদাউ রক্তসিঁদুর।

তানপুরার ছেঁড়া তারে লাশের মিছিল...

বোবা মেঘ উড়ে আসে কথার সমাবেশে
কথারা জেগে থাকে কথাদের পাড়ায়।




ইহকাল পরকাল- প্রেমকাল


প্রস্থান যদি হয় ফিরে আসার
তবে তুমি যাও চলে-
আশ্বিনের উষ্ণতা এ বুকে নিয়ে
অগ্রহায়ণের প্রতিক্ষায় কাটাবো
একাকিত্বের ঝরা সময়পালক।

দেহের ওম নিয়ে অনুরাগে-ঊর্বরে
দিন বদলের রাজ সাক্ষী মিলনের ধারাপাত;
এবঙ বেতফলের মতো বেচে থাকা
আমাদের সময়ের ফসিল প্রার্থনা জপে,
তোমার নামের জিকির তসবিতে।

অথচ তুমি বালিকা প্রেমের ধ্রæপদী সেজদায়
ভালবাসা বেঁধেছো নিরন্তর।

আজ ইহকাল পরকাল
সবই তুমি আমি।




যৌথ পাপের বিবৃতি


দরদের জল চুয়ে একফোঁটা গরল
আতশ আলোয় মহাকালের বুকে
আসমুদ্র নোঙর করে প্রত্যাবর্তনে।

অথচ তোমার অপত্য স্নেহ-আদর
নুনের শরীরে বেড়ে ওঠা জলৌকা।

আর আমি উজ্জ্বল্য হারানো বিবেকÑ
যৌথ পাপের পানসিতে ভাসা বিবৃতি।

দিনে দিনে বাড়ছে দূরত্ব-
ভালো থেকো পৃথিবী।




দৃশ্যের ওপারে মুগ্ধতা
[কবি সুমন সৈকতকে]



অথচ জোছনার বিষবাষ্পে
মিশে গেলে
রাত কাঁদে...

হুতোমপেঁচার পালক
শিশির ছুঁয়ে
নির্জনতার দিগন্তে
হারায় বিবাগিসুর...

তখন পড়শির ঠোঁটেরা
হাওয়ার পালকিতে
দোল দেয়-
প্রাচুর্যের বনসাই হয়ে
তোমার দৃষ্টির মন্দিরে।

‘দাস-অনুদাস বৃত্তান্ত’


আজ কবিতার প্রতিমা
আমাকে মুগ্ধ করে
ভক্তির নমস্কারে।




এভাবে, আজীবন



অশ্বগন্ধার বুক জুড়ে সুমহান উষ্ণতা
জেগে থাকুক, আমার শেষ নিঃশ্বাসেও।

চুম্বন সময়ের উঠোনে আঙুলশস্য
উন্মুক্ত মধ্যরাত পোয়াতির মতোন।

তবু চমকে ওঠা ভাঁটফুল হৃদয়ে
আয়ুর অসীম তাঁবু টাঙাও
সাতরঙ জীবনে।

এভাবে বেঁচে থাকা অন্তহীন, অমলিন।




প্রিয় বান্ধবী সমীপে


[যার হৃদয়ে চাষ করি- অনাদিকাল সবুজাভ প্রেম]

এই ঠোঁট ইজারা দিবো
প্রেয়সির ঠোঁটে।
.
.
.
.
.
ফুটনোটঃ আমি ধূমপান করি না।




বৃষ্টি বৃষ্টি ইবাদত



এভাবেই মেঘেরা জমাট বাঁধুক-

বিরহ বিলয়ে অদৃষ্টের সমূহ স্মারক
অভিসন্দর্ভে তোমায় প্রেমময় করুক।

আর আমার সকল প্রার্থনায়
বৃষ্টি বৃষ্টি ইবাদত।

তোমার বৃষ্টি ধোয়া প্রকৃতি
ভাল লাগে জেনে
আমি বৃষ্টির প্রতীক্ষায় থাকি
এক মহাকাল।



অন্ধকার ভাল লাগে


শীতকুয়াশায় বিন্দু বিন্দু শিশির
অগ্রহায়ণে যে নবান্ন নিয়ে আসে
তা পৌষ ও মাঘেরই মৃতদের তেলোওয়াত।

একদিন বয়সের রেহেল ন্যুজ্ব হলে
বন্ধ হবে জমা-খরচের হালখাতা
কিংবা হর্ষ-বিষাদের সকল হরফ।

ভোরের নিঃসঙ্গতায় সারারাত
জেগে থাকা আগুন পাখির ডানায়
জীবন ও মৃত্যুর সমূহ শূন্যতা।

তখন-
অন্ধকার ভাল লাগে, যেভাবে ভাল লাগে
শ্মশান কিংবা গোরস্থানের নীরবতা।



আমাদের তওবা


অতঃপর এই দেহ বিলীন হবে
প্রভূর পাঠশালায় আমরা তখন
পাঠ নিবো জীবন নামতার।

চেয়ে দ্যাখো, ফেরারি সময়ের হাওয়ায়
নিমগ্ন অবহেলার উৎসবে আমাদের
অস্তগামী সূর্য লাল লাল সুরায় ভরা
সমবেত পূণর্মিলনী।

এরপর আমরা প্রার্থনা করি, কামনা করি
এক বিশাল সামিয়ানার,
আশ্রয়ের ঝান্ডা হাতে নিয়ে দিক্বিদিক
দৌড়ে বেড়ায়- অনুশোচনায়।

আর অঙ্গীকারের দলিল দেখিয়ে
আমাদের মহান জ্ঞানী প্রভূ
আমাদের পাঠ নেয়,
আমরা পাঠে মনোনিবেশ করি-

লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা
ইন্নি কুনতু মিনাজ যোয়া লিমীন।




অকৃতজ্ঞ মেঘ অথবা মানুষগুলো


পাখিদের কসম ওরা তোমাদের
প্রতিপালকের কথা বলে।
বেতুলফল কিংবা সূর্যমুখীর সিজদাহ
তোমাদের প্রতিপালকের কথাই বলে।

অথচ নেয়ামতের নিমক খেয়ে
একদিন তোমরা বলেছিলে-

‘মার ওষ্ঠে যাপনের তৈলচিত্র
আমাদের জীবনচরিত’

দূরবাসী অদৃশ্য মহান
স্পষ্টতই ঘোষণা করেÑ

“ফাবিয়্যায়ি আলা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান”



Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন