সায়মা ইসলাম - এর ছোটগল্প | মিহিন্দা

 



জাল বন্দি ঘোলাস্রোতে


রাতের আকাশ তার অন্ধকারের জাল টেনে নিচ্ছে ধীরে ধীরে । সেই সাথে উত্তাল পদ্মার বুক থেকে রাতের শেষ জালটিও নৌকায় টেনে তুলল তমিজুদ্দিন, রবিউর আর পরান মিয়া। নৌকার নিবু নিবু বাতির আলোয় জালে আটকা পড়া চকচকে রুপালি আঁশের মাছগুলোর দাপানি দেখে রাত জাগার অবসাদ দূর হয়ে জ্বলজ্বল করে ওঠে নিদ্রাহীন আরক্ত চোখগুলো। আজ মেলা ইলিশ পড়েছে জালে, জলে ডুবতে ডুবতে ঘোলা হয়ে যাওয়া কালো হাতগুলো দ্রুত জাল থেকে মাছ ছাড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।


ভোর হতে আরও কিছুক্ষণ বাকি, আকাশে এখনও দু’চারটে তারার ফুটকি দেখা যাচ্ছে। জাল থেকে ছাড়িয়ে নৌকার খোলে মাছ ফেলতে ফেলতে পরান মিয়ার চোখে তার নতুন বউয়ের মুখটা ভেসে ওঠে। সাড়ে তিন মাস হলো বিয়ে করেছে পরান। বিয়ের সময় পাখিকে বিয়ের শাড়ির সঙ্গে একটা হলুদ সুতির শাড়ি দিয়েছিল পরান, পাখিদের বাড়ি থেকে দিয়েছিল দুটো। পাখিকে শাড়ি পরলে দারুণ দেখায়, কিন্তু শাড়ি পরতে চায় না পাখি। সারাদিন দশ হাত কাপড়ে পেঁচিয়ে থাকতে নাকি দমবন্ধ হয়ে আসে তার। সালোয়ার কামিজ কিনে দেওয়ার আব্দার করছে দু’মাস হলো। আজ ফেরার পথে দীঘির পাড় হাট থেকে মায়ের জন্য একটা সুতির শাড়ি আর পাখির জন্য দুটো সুতির থ্রিপিস কিনে নিয়ে যাবে পরান। ‘কিগো পরান মিয়া, পুবের আকাশ লাল হয়া আসলো, হাত না চালালি বাড়ি গিয়া কচি বউয়ের বুকে মুখ গুঁইজা ঘুম দিবা কেমনে?’ নৌকার হাল ধরে বসা হেলালের দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে একবার কটাক্ষে চেয়ে  দ্রুত হাত চালায় পরান ‘ শালার পুতের খালি বদ চিন্তা। দুই দুইটা বউ ঘরে, মাইয়া বিয়া দেওনের বয়স হইছে, এহনো একফোঁটা রস কমে নাই! খালি পরের বউয়ের গতর নিয়া তার কতা ’ এসব কথায় নৌকায় চারজনের মধ্যে বয়সে সব থেকে ছোট, চৌদ্দ বছর বয়সি রবিউলের শিরায় শিরায় রক্তের দাবড়ানি বেড়ে যায়। পরান ভাইয়ের বউ, পাখি ভাবির সোমত্ত শরীরখানা ভাসতে থাকে তার চোখজুড়ে, ‘সারস পাখির মতো কী সুন্দর দেখতে মাইয়াটা, বিয়া হইল কালা চিমসা, হারগিলা পরানের লগে। বয়সে পাখি তার চেয়ে দেড়, দুই বছরের বড়ো। বয়সে ছোটো না হলে সে অন্য কারো লগে পাখির বিয়া হইতে দেয়! কেন যে দুই, চাইরটা বছর আগে জন্মাইল না সে!’ পরানের শ্যাওলা রঙের উতলা মুখের দিকে চেয়ে আফসোসে রবিউলের শরীর মন বিষাদে ভরে যায়।


এসব হাবিজাবি কথায় অন্যদিন গলা মেলায় তমিজউদ্দিন। আজ তার মনমেজাজ ভালো না, কোনো কথায় কান না দিয়ে একমনে কাজ করতে থাকে তমিজ। জলো বাতাসে পতপত করে উড়ছে মহাজনের পতাকা। সেদিকে চেয়ে তমিজের কপালের ভাঁজ আরো ঘন হয়। নদীর ঘাট দেখা যাচ্ছে,  নৌকা ঘাটে লাগাবার সঙ্গে সঙ্গে মাছ বুঝে নেবে মহাজন। খরার মৌসুমে মেলা টাকা ধার হয়ে গেছে তমিজের, সুদে আসলে এ কয়মাসেই তা দ্বিগুন। তমিজের তিন মেয়ের পর এক ছেলে। বড়ো মেয়ে, শাবানা গতবছর বিধবা হয়ে বাপের বাড়ি ফিরে এসেছে। জামাই ফরিদ গরীব হলেও ছেলে ভালো ছিল, তমিজকে মেলা তোয়াজ করে করে ঘরে তুলেছিল শাবানাকে। ফরিদের হাতে মেয়েটাকে তুলে দিয়ে তমিজও বেশ খুশি ছিল। শক্ত সমর্থ পরিশ্রমী ছেলে, তার চরিত্র নিয়ে জেলে পাড়ায় একটা খারাপ কথা কেউ বলতে পারবে না। গতবছর আষাঢ় মাসে চার মাইল উজানে মাছ ধরতে গিয়ে আর ফিরল না জামাই। ডাকাতের কবলে পড়েছিল ট্রলার। ট্রলারের পাঁচজনের মধ্যে তিনজন প্রাণে বেঁচে ফিরেছিল, একজনের লাশ ভেসে এসেছিল পাশের গ্রামে। ফরিদের লাশের কোনো হদিস মেলেনি। মরে গেছে না বেঁচে আছে কে জানে? শাবানার একটা ছেলে হয়েছে তিন মাস হলো, বাাচ্চাটা বুকের দুধ পায় না ঠিকমতো। মায়ের বুকে দুধ আসবে কোত্থেকে? মেয়েটাকে পেট পুরে তিনবেলা ভাত দিতে পারে না তমিজ। সারাদিন সারারাত ক্ষিণ ¯^রে এ্যাঁ এ্যাঁ করে কাঁেদ বাচ্চাটা। সারারাত মাছ ধরে বাড়ি ফিরে ঘরের মধ্যে চোখ বুজে একদন্ড  শান্তিতে ঘুমানোর জো নেই তমিজের।


মেজো মেয়ে সাবিনাকে বিয়ে দিয়েছে গত শীতে। বিয়ের সময় জামাইয়ের মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা সুদে ধার করে এনে যৌতুক দিয়েছিল তমিজ। খেয়ে না খেয়ে এই ধার শোধ করতে তমিজের বছর তিন চার কেটে যাবে, তবু ভালো। রাতভর নদীতে জাল ফেলে মহাজনের জালে আটকা পড়ে  ধুঁকেধুঁকে জীবন পার করার চেয়ে একবার বিদেশ পাড়ি দিতে পারলে হয়। সেদেশে শরীর খাটাতে পারলে নগদ পয়সার ঝনঝনানি। জামাই বিদেশ থেকে টাকা পয়সা পাঠানো শুরু করলে মেয়েটা তার ভালো খাবে, ভালো পরবে; সেই আশায় ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বুক বেঁধেছিল তমিজ। কিন্তু বছর পার না হতেই মালয়েশিয়া থেকে ফেরত এসেছে জামাই। দেশে ফিরে নতুন সুর তুলেছে, এবার নাকি কুয়েত যাবে । আবার টাকা জোগাড় করে দেবার জন্য সাবিনাকে দিয়ে চাপ দিচ্ছে। সাবিনা বাপের বাড়ি এসেছে সপ্তাহখানেক হলো। আজ জামাই আসার কথা সাবিনাকে নিতে। পয়সা যায় যাক, মাঝারি গোছের একটা ইলিশ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে আজ।


মহাজনের কাছে মাছ বুঝিয়ে দিয়ে তরতাজা একটা ইলিশ নিয়ে হাট থেকে দরকারি কিছু সদাইপাতি কিনে হেলাল মিয়ার সঙ্গে বাড়ির পথে নৌকায় উঠে বসে তমিজ। নৌকার হাল ধরে ছইয়ের ওপাশের গলুইয়ে বৈঠা ধরে বসা তমিজকে জিজ্ঞেস করে হেলাল ‘সাবিনারে কি আর শ্বশুরবাড়িত পাঠাইবানা তমিজ ভাই?’ ‘হ, পাঠামু না ক্যা? আইজই জামাই আইব নিতে’ হেলালের কথার উত্তর শেষ না করতেই খুঁক খুঁক করে কাশি ওঠে তমিজের, কাশির সঙ্গে কলজেটা ছিঁড়ে বেড়িয়ে আসতে চায়। নৌকা থেকে নেমে মাইল দেড়েক পায়ে হাঁটা পথ পাড়ি দিয়ে বৈলতলী গ্রাম। আশ্বিনের সকালের নরম সূর্য গরম হতে শুরু করেছে। ঘাট থেকে কাঁচা সড়কে উঠে হাঁটতে হাঁটতে কাঁধের গামছাটা মাথায় পেঁচিয়ে নেয় তমিজ। পথের ধার ধরে সারি সারি কাশবন। নরম তুলোর মতো রেশম সাদা কাশফুল আশ্বিনের সাদা মেঘের সাথে মিশে গিয়ে নীল আসমানে ওড়ার বাসনায় মাথা তুলে ডানা মেলে দিয়েছে বাতাসে। পথ দিয়ে হাঁটার সময় মাঝে মধ্যে দু’একটা নরম ডগা হেলে গিয়ে পথিকের চোখে মুখে আদরের পরশ বুলিয়ে দেয়। তমিজ চোখমুখ কুঁচকে, এক ঝটকায় কাশফুলের ডগা সরিয়ে দিয়ে দ্রুতপদে আনমনে হাঁটতে থাকে তমিজ। দূরে কালচে গাছগাছালির ভেতর ছোট ছোট কাঁচা বাড়িগুলোর দিকে তাকিয়ে নানান চিন্তা ঘুরপাক খেতে থাকে তার মাথায়।


তার মায়ের শ্বাসের ব্যারাম। প্রতি রাতেই তার টান উঠে মরার ঘরে পৌছে যাবার দশা হয়, কিন্তু জানটা তার ম্যালা শক্ত।  শাবানাকে নিয়ে গাঁয়ের মানুষের আলগা চিন্তার শেষ নেই। শাবানার বয়স এখনো আঠারোও পার হয়নি। বিভিন্ন বয়সি ছেলেপেলেরা ছোঁক ছোঁক করে ঘুরঘুর করে বাড়ির আশেপাশে। নাতি হবার পর তমিজের কপালের দুশ্চিন্তার নতুন ভাঁেজ নানা হবার আনন্দ ঢাকা পড়ে গেছে, অভাবের সংসারে আরও একটা মুখ যোগ হয়েছে কেবল।


মেজো জামাই দেশে ফিরেছে মাসও পার হয়নি। বাপের বাড়ি আসার পর থেকেই সাবিনা খুব কান্নাকাটি করছে, শ্বশুরবাড়ি ফেরত যাবে না বলছে। জামাই নাকি রাতে কিসব ট্যাবলেট খায়, তারপর মেয়ের ওপর রাতভর অত্যাচার করে। সেসব সহ্য করতে পারছে না মেয়েটা। সাবিনা তার মাকে, দাদিকে তার গা ভর্তি আঁচড়, কামড়ের দাগ দেখিয়ে বলেছে, ‘ও বাড়ি ফেরত পাঠালে এবার সে মরে যাবে।’ সাবিনার মায়ের কাছে এসব শুনেছে তমিজ। এতগুলো টাকা খরচা করে মেয়ে বিয়ে দিলো। এখন জামাইয়ের কাছে ফেরত যাবো না বললেই হয়! সাবিনার বয়স কম, মাত্র চৌদ্দ শেষ হয়ে পনেরোতে পা দিয়েছে। মেয়ে এখনো অবুঝ, কিছুদিন গেলেই সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে। পাঁচজনের সংসারের উপরে নাতিসহ এক বিধবা মেয়ে নিয়েই জ্বালা যন্ত্রণায় অস্থির তমিজ, এর মধ্যে আবার আরেকজন! জামাই নিতে এলে তার সাথে যাবে না বলে গত সন্ধ্যায় সাবিনা পাশের ঘরে মায়ের সঙ্গে কোঁদল করে কাঁদছিল। তমিজ তখন মাছ ধরতে বের হবে। রাগের মাথায় মেয়েটার গায়ে দু’চার ঘা বসিয়ে দিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে এসেছিল তমিজ। তমিজের শক্ত হাতের চড়ে মেয়েটার ঠোঁট, গাল দাঁতে কেটে বেশ রক্ত পড়েছে। মেয়েটা আজ চলে যাবে, সে কথা মনে করে তমিজের মনটা কেমন কেমন করছিল।


বাড়ির কাছাকাছি যেতে রাস্তার উপর চোখ পড়তে মেজাজটা আবার খারাপ হয় তমিজের , ছোট মেয়ে সেফু পাড়ার ছেলেমেয়েদের সাথে পথের উপর এক্কাদোক্কা খেলছে সাতসকালে । সেফুর বয়স এগারো বছর, এবার ফাইভে উঠেছে। জেলে পাড়ায় মেয়েছেলে নিয়ে নানান অঘটন নিত্যই ঘটে। গত মাসে নিমাইদা’র তেরো বছর বয়সি মেয়েটা হঠাৎই উধাও হয়ে গেল। দু’দিন পর তার লাশ ভেসে উঠল পুব পাড়ার বিলে। তমিজ মেয়েকে ডেকে ধমকে তার হাতে ইলিশ মাছটা ধরিয়ে দেয়, ‘পোলাপানের লগে রাস্তার উপরে খেলতে তরে নিষেধ করছি না? যা, দৌড়ে বাড়ি যা, মাছটা তর মায়ের হাতে দিয়ে জলদি পাকসাক  সারতে ক। আমি তর জব্বার চাচার বাড়ি থিকা ঘুইরা আইতাছি’।


ইলিশ মাছের দিকে চেয়ে সেফুর কালো মুখে হাসি ছড়িয়ে চোখদুটো চকচক করে ওঠে, মাছ হাতে নিয়ে ঝকঝকে সাদা দাঁতগুলো বের করে ফিক করে হেসে সদাইপাতির ব্যাগটা নিয়ে বাড়ির দিকে দৌড়ায়। চোখের পলকে মেয়ে মেয়েটা ডাগর হয়ে উঠছে, আর বছর দু’তিন গেলেই তার বিয়ের জোগাড়ের চিন্তা মাথায় চেপে বসবে। মেয়ের দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে জব্বারের বাড়ি যেতে খেতের আলে নেমে পড়ে তমিজ। তমিজের ছেলেটার বয়স সবে আট। কবে সে বড়ো হবে, কবে নদীতে জাল ফেলে চারটে পয়সা ঘরে আনবে, সেই অপেক্ষায় এখন দিন গুনছে সে।


জামাইয়ের সাথে মেয়ের বিষয়ে সরাসরি কোনো কথা বলতে পারে না তমিজ। জামাইয়ের সঙ্গে দু’চারটে কথা বলতে চাচাত ভাই জব্বারকে সাথে নিয়ে বাড়ির কাছাকাছি হতেই হৈচৈ কানে আসে তমিজের। জব্বারকে পেছনে ফেলেই দ্রুত পায়ে এগিয়ে যায় তমিজ, তার বড়ো ঘরের সামনের একফালি দাওয়ায় একটা টুলের উপর গোমড়া মুখে বসে আছে জামাই। তার থেকে কিছু দূরে ও...ও...করে শাবানার ছেলেকে কোলে নিয়ে কান্না থামানোর চেষ্টা করছে সেফু। তমিজের বউ, মেয়ে শাবানা সমানে ঘরের দরজায় বাড়ি দিচ্ছে ‘ও সাবু..দরজা খোল, কেউ তরে জোর কইরা জামাই এর লগে পাঠাইব না, দরজা খোল মা...।’ পাশের বাড়ির দু’চারজন বৌ ঝিও হট্টগোল শুনে হাজির হয়ে শাবানার মায়ের সাথে হাত লাগিয়ে গলা চড়িয়ে দিয়েছে। তমিজকে ঢুকতে দেখে শাবানার মা দৌড়ে আসে, ‘এই যে আইছেন; দ্যাখেন, জামাই আইবার পরেই মাইয়া সেই যে ঘরে দোর দিছে, আর তো খোলে না।’ তমিজ এগিয়ে গিয়ে ঘরের দরজায় জোর হাতে বাড়ি দেয় ‘সাবু কপাট খোল কইতাছি, এইসব রংঢং করলে কোনো লাভ নাই। জামাই বাইরে বইসা আছে, দোর খুইলা জামাইরে ঘরে নিয়া বইতে দে কইতাছি।’ কোনো শব্দ না পেয়ে তমিজের মাথায় রক্ত চড়ে যায়, ‘বজ্জাত মাইয়া কোনহানকার! এক্ষণে ঘর থন বাইর না হইলে দরজা ভাইঙ্গা আইজ তরে কচুকাটা কইরা নদীতে ভাসাইয়া না দিছি! তরাতরি কপাট খোল কইলাম।’


তমিজের জোর দুই লাথিতে হাঁট করে খুলে যায় ঘরের নড়বড়ে কপাট। ঘরের একটা মাত্র ছোট্ট জানালা বন্ধ থাকায়  সকালের আলোতেও ঘরের ভেতর আবছা অন্ধকার। বাইরের রোদ ঝকঝকে আলো থেকে ঘরে ঢুকে তমিজের চোখের আঁধার কাটতে সময় লাগে কিছুটা। বাশের মাঁচায় পাতা বিছানার দিকে তাকিয়ে মেয়েকে ঠাহর করতে না পেরে ভালো করে তাকাতে মুহূর্ত পরে এক জোড়া ঝুলন্ত পা ভেসে উঠে তমিজের চোখের সামনে। তমিজের ঘাড়ের বোঝা কমাতে গলায় দড়ি দিয়ে চালের আড় কাঠ থেকে ঝুলছে তার মেয়ে। ঝুলন্ত দেহটার দিকে নিষ্পলক চোখে চেয়ে সংসারের ভারে তমিজের নুয়ে পড়া মাথাটা নিমেষেই শক্ত হয়ে কেমন ভারহীন, শূন্য, ফাঁকা হয়ে যায় গোটা পৃথিবী।



Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন