মারুফুল আলম - এর কবিতা | মিহিন্দা



আমাদের অমর প্রেমকাহানী কিম্বা না কবিতা,না গল্প




০.
একদিন আমিও ছিলাম তার সাঙ্গপাঙ্গদের 
একজন।তার মানে তাহার,আমার গুরুর!
দক্ষিণের এই সীমান্তঘেঁসা শহরে 
কবি হিসাবে তার সুখ্যাতি এবং কুখ্যাতিও 
কম নয়! তদুপরি,দারুণ তাপদাহের পর 
প্রকৃতিতে অপরূপা বর্ষা সমাগত... 
আর সেই হেতু,মেঘের ঘনঘোর গর্জনে 
মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে 
বজ্র-বিদ্যুতের অলৌকিক আলোকরেখায় 
তিনি বৃষ্টিফোঁটার অপরিমেয় সম্ভাবনা 
খুঁজে পেতেই ইউরেকা চিৎকারে 
ঘোষণা করলেন যে,তিনি লিখিবেন,
তবে কবিতা নয়,গল্প!

০১.
আর কে না জানে,গুরুর সেই গল্পটি হয় আমার 
তথা এই অভাজনেরই ভালোবাসার গল্প।
হ্যাঁ,যে রকম হয় আর কি!
একই প্রতিষ্ঠানে ছিল আমাদের পড়ালেখা।
সে বিজ্ঞানে আর আমি নরমালে।
লেখাপড়ার শেষপর্বে আমাদের মাখামাখিটা 
অনেকেই আর মেনে নিতে চাইছিল না।
কারণটাও ক্যাম্পাসের সকলেরই জানা,
আর সেটি হলোঃ আমরা দুজন ছিলাম দু'ধর্মের।
ও ছিল সনাতন হিন্দু ধর্মের আর আমি 
ইসলামের। তা কেউ না মানে,না মানুক –
তাতেই বা আমাদের কি আসে যায়!
হ্যাঁ,সিদ্ধান্ত নিলাম পরীক্ষাটা শেষ হলেই 
আমরা পালিয়ে যাবো।

০২.
স্টেশনে পৌঁছুতে কিছুটা দেরিই হয়ে গেল।
ট্রাফিকজ্যামে হা-হুতোশ করা ছাড়া আর 
কিছুই যেন করার নেই কারো!
আমার ধারণা,এশহরের সকলেই ভয়াবহ 
ধৈর্যশীল কিম্বা অস্বাভাবিক, 
হয়তোবা আমিও কিছুটা!

তো,ভেতরে প্রবেশ করতেই 
আমিও বেশ চিন্তায় পড়ে গেলাম।
সুবিশাল স্টেশনের সব ক'টি প্লাটফরমই শুন্য।
কিছুটা দূরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর 
সদস্যসহ একদল মানুষ জটলা করে দাঁড়িয়ে আছে।
চলন্ত ট্রেনের নীচে ঝাঁপিয়ে পড়ে 
তবে কি কেউ আত্মহত্যা করেছে?
করলে করুক,তাতেই বা আমাদের কি?
তবে আমি ঠিক কি করবো? –আপাতত তা যেন 
বুঝতেই পারছিলাম না।
ওয়াশরুম,বিশ্রামাগার,পত্রিকাবিতান,টি-স্টল...
পুরো স্টেশনের সর্বত্রই আমি তাকে তন্নতন্ন করে 
খুঁজতে খুঁজতে কাউন্টারে ট্রেনটির খোঁজ নিতেই 
আমার মাথায় পুরো আকাশ ভেঙে পড়লো।
আর জানা গেল,যথাসময়েই 
ট্রেন তার গন্তব্যের পথে ছেড়ে গেছে।

০৩.
আচ্ছা,তাহলে কি সে স্টেশনেই আসেনি?
নাকি আমাদের যৌথ পরিকল্পনার 
আঁচ পেয়ে তার বাবা তাকে আটকে 
রেখেছে? নাকি অন্যকিছু?
এইসব ছাইপাশ-অশুভ চিন্তাভাবনায় 
ক্রমশ আমি অসহায় আটকে যেতে থাকি,
অসহ বাস্তবতায় – মাকড়সার জালে!

০৪.
অনন্তর,আমার এই অমর প্রেমকাহানী 
শ্রবণপূর্বক ধৈর্য্যচ্যূত গুরুজী এতক্ষণে 
বিরক্ত বদনে কহিলেনঃ
গর্ধভ,তোকে দিয়ে কিসস্যু হবে না!
যেভাবে বলেছিস,রেখেছি তো সেভাবেই –
ইহাকে বানানো বা শেষ করিবার  দায় 
নিতান্তই গৃহপালিত লেখক-পাঠকের,আমাদের নহে!

০৫.
আর সেই হেতু,
আজ অবধি উপরোক্ত ঘটনাটি সমূহ সম্ভাবনা সত্বেও আদৌ গল্প কিম্বা কবিতা কোন কিছুই হয়ে 
ওঠে নাই,হয়তোবা উঠবেও না কোনদিন!

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন