কাউ হান্ট এন্ড অ্যানালাইটিক্যাল সুইসাইড : ইফতি আরিফ | গদ্য | মিহিন্দা

 


আমি একটি কাছিম। কোন এক কদর্য কালে দৌড়ে হারিয়েছি খরগোশকে।এরপর কতবার হেরে গিয়েছি। এখন আমি লজ্জায় ভীত। হাইওয়ে-মেট্রোয়, রেললাইন-সিলিংয়ে, সায়ানাইড-বিষে আমি মৃত। অথচ আমার মৃত্যুর জন্যে কেউই দায়ী নয়।

ডিয়ার কমরেড,

প্লিজ ধৈর্য্য ধরুন, দুঃসময় কেটে যাবে। আপনারা আপনাদের আত্মহত্যা স্থগিত রেখে একটি বিপ্লব আনুন। গল্পটা আপনার, নিজেকে মেরে ফেলার চেষ্টায় ব্যর্থ আপনারই। মৃত্যুটা (যদিও) আপনার একান্তই ব্যক্তিগত। (তয় আমার এত দুঃক্ষ দুঃক্ষ লাগতাছে ক্যারে..)

আপনার আত্মহত্যায় বরং একটি পুলিশি তদন্ত হবে। তদন্তে একটি হাত কাঁটা শার্টকে মশারীর স্টান্ডে নরকের দূতের মত সোজা; সাজিয়ে দেখানো হবে। দৃশ্য বদলাতে থাকবে। শোক সভা ভেঙ্গে হেসে উঠবে জেন্স সেলুনের রমেসের আঙুল। রমেসের ক্ষুর কিছুক্ষনেই দাড়ি ছেটে গলায় নেমে বলবে-‘ এই হারামজাদা , মরবি নাকি বল।‘ এপিগ্লটিসের লালার ফোটা শুকিয়ে যাবে ভয়ে। তয় ঝাপটে ধরে হত্যা করতে পারিনা নিজেকে।

যাদের খসে পড়ায় এপিটাফে চাপ আছে তাদের আত্মহত্যাই প্রশংসনীয়। আত্মহত্যার প্রশংসায় রোমাঞ্চিত হয়ে আত্মহত্যাকারীর জন্যে কোন এপিটাফ হবেনা। নরকের স্বাদ জীবিত নিয়ে স্বর্গকে করে নিয়েছে তারা স্বর্গীয়। তবে বেঁচে থাকার আর্জেন্সি যেমন মাননীয়, সুইসাইডের নিডি সেখানে লকলকে পাঁকুড়ার মত।

নুডুলসের জঞ্জালের মত দুঃক্ষ এসে হাল চাষ দিচ্ছে যাদের হৃদপিন্ডে, সুইসাইড তাদেরকে হাপড়ে দিচ্ছে নির্ভার নরকে। সেটিস্পাইড সুসাইডের স্বাদ হচ্ছে পুরোনো মোজার অম্লীয় ঘ্রাণের মত যাকে পঞ্চইন্দ্রিয়ের কোন ধারা দিয়েই সংবিধিবদ্ধ করা যায়না।  নরকের শনিবার প্রসঙ্গে বিশ্লেষাত্মক ব্যাখ্যায় মন ভুলা হয় নীল স্কটি পড়া মেয়েটিরো। তয় টিকটিকির কলিজার মত আত্মহত্যা করার মত দুঃসাহস যাদের নেই, তারা প্রত্যেকেই একেকজন অ্যানালাইটিক্যাল সুইসাইডার।

জন্ম থেকে প্রত্যেক কবি এবং কবিতা একজন অ্যানালাইটিক সুইসাইডারের আওতাভুক্ত। আওতাধীন সুইসাইডের এ সিরাম শিরায় পুশ করে হৃদপিন্ডকে ইঞ্জিনের সমতাপে গরম করে নেয়। যার শিহরন প্রতিটি নার্ভওয়ার পেরিয়ে লোমকূপকে কাধ ঝাকিয়ে জানায় নমস্কার। ক্রমাগত বয়স বাড়তে থাকা মনোয়ারা দুঃক্ষকে যখন ঋনাত্মক রেখায় গ্রাফিতির সাজ দিতে চায়, অসম্পূর্ণতার এ  দেয়ালে তখন আরো একটি দাগ পড়ে সুইসাইডের।

নিবন্ধিত ট্রেডমার্কে বলতে গেলে অ্যানালাইটিক্যাল সুইসাইড ইজ দ্যি থিওরী অফ রিলেটিভিটি বিটুয়িন ম্যান্টাল এন্ড ফিজিক্যাল ডেড। তবে থিওরী অনুযায়ী সুইসাইডে আপনাকে অবশ্যই ব্যর্থ হতে হবে।

অস্তিত্ব সংকটে যারা ভুগছেন, তাদের কাছে সুইসাইড একটা আর্টের মত। আমার কাছে মনে হয় সুইসাইড ইজ দ্যা রয়েল জুস অফ ডেড। ক্রোধের মত যে কখনো বুড়ো হয়না।

সম্ভবত আমরা নিজেরা যতটা একা থাকি,তার চেয়ে একা ভাবি। ম্যান্টালি ডেড হলে মানুষ অনুভূতিহীন অসাড় হয়ে যায়, ফিজিক্যালি ডেড হলে বলে পুতে ফেলো, গন্ধ ছড়াবে। আর যে ব্যাটা জন্মান্তরে পুলসেরাতের কাফেলা থেকে ঝাপ দিতে পারছেনা তার প্রেমিকার কী হবে। তারপর… হয়তো অনেকদিন পর একদিন  ইথার ওয়ালেটে মানি স্লিপ না এসে সুইসাইড নোট  পৌঁছে যাবে তার প্রেমিকার জরায়ুতে। 

আজ বাইশ অক্টোবর। জীবন দু'হাতে দু'থোকায় চারটি করে আটটি ডাব নিয়ে মৃত্যুকে নিমন্ত্রণ করতে গিয়েছিলেন। অথচ  ট্রামের সাথে জীবনানন্দের কারণ বসত সংঘর্ষ হলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তা দূর্ঘটনা নামেই চালানো হয়েছে। জীবনের মত হন্য হয়ে অনেক আমিই ট্রামের অপেক্ষায় আছি, কিন্তু স্টেশনে একটি বাষ্পইঞ্জিন থেমে আছে।


চারদিকে-খবরে, মিডিয়ায়-চ্যানেলে, মুখে মুখে ছিনতাই-রাহজানি,খুনখারাবি,মামলা মকদ্দমা,ধর্ষণ-তদন্ত। প্রথম আলো মনে হবে প্রথম অন্ধকার, কালের কন্ঠে কাক ডাকছে ইত্যাদি ইত্যাদি। এমন অসময়ে স্রোতের মত মৃত্যু এসে মিলিয়ে যাচ্ছে বিলে।  আসুন, আত্মহত্যার বেলচা দিয়ে সেচ দেই সেই জলে।

ঠিক দুবছর পর আত্মহত্যা করব। জীবনানন্দ, আপনি আমার গন্তব্য, প্লিজ আমাকে বাঁচান।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন