হোসাইন মাইকেল - এর গদ্য | মিহিন্দা

 



মরনেরে ঘিরে এ মোর সপ্তপদী   




সহস্র আমি'কে অতিক্রম করে দূরবর্তী কারো ডাক পরিশোধ করতে বেরোই। হৃৎপিণ্ডে ঘোড়ার খুরধ্বনি বাজে। অতলান্তে জমে থাকা কান্নায় মানুষের চোখের মতো একেকটি মার্বেল এসে জড়ো হয়। ধীরে ধীরে অদ্ভুতরকম বিমূর্ত হয় আমার ক্রন্দনশিল্প। এরপর একটি একটি করে বিলীন হতে থাকি, এবং সে-ই তো প্রত্যাবর্তন করি আত্মহননের মুখোমুখি।
হাড়গোড়, তরল-অতরল, আর ঝলসানো প্রাণ— এ শরীর-সংসারে প্রাণ কি সত্যিই আছে!?

বোধের দরোজায় নিয়মিত একটি কুকুর বিভ্রান্তির ফেনা চেটে খায়। ক্ষুধার্ত তারও আছে সজ্জিত সিংহাসন। মার্কিনী ব্যবস্থায় আমারই হলো না কিছু। পরিস্থিতি এমন— এখানে বাঁচাটাই যেন নিন্দনীয় অপরাধ। আর আমি অসহ্যরকম একটা অপরাধপুষ্ট প্রাণ নিয়ে কোথায় দাঁড়াবো ভাবছি। প্রাণ কি সত্যিই আছো?

প্রাণ পরমাত্মাকে প্রশ্ন করি, কোন সে উপায়ে বাঁচে তার স্থপতি? তারও হৃদয়ের ভেতর রয় নাকি বিক্ষত আর্কেডিয়া, একজোড়া বাদামী বিস্কুট, বেদনার এক-সমুদ্র পুরাঘটিত অতীত, দ্বীপওয়ালী এক উদ্ভ্রান্ত শৈশব? সে কি মাটি জানে, মাটির আঘাত, সেও কি জানে বার্বোটাইন কলঙ্ক? মানুষ তো নয়, মানুষের থাকে প্রতিসাম্য প্রেম, বিকৃত বাসনা, অবাক ভালোবাসা থাকে— ভালোবাসার কুণ্ঠিত আদালত। ইচ্ছে করে, অন্যকোনো উপায়ে নয়, ভালোবাসা খেয়ে মরে যাই। অথবা মানুষের রূপ নিয়ে যে সমস্ত যন্ত্র চলে, সেইসব যন্ত্র-ণা, ট্রাম— ট্রামের ধাক্কায় একদিন মরে যাবো নির্ঘাত। ঘটনা, দূর্ঘটনা, হত্যা কিংবা আত্মবিসর্জন— যা কিছু হোক, মরে যেতে চাই। বুকের ভেতর মরবার চিত্রধারা।

ইদানীং সাড়ে তিন হাতের অনিবার্য কামরাটির ইন্টেরিয়র নিয়ে আমার যতো চিন্তা। চিন্তার বিহঙ্গ কাঁপে, অবসান নেই। ডিজাইনটা অবশ্যই উত্তর আধুনিক হওয়া চাই। নয়তো পদ্ধতির বিতর্ক হবে তুমুল। ঘাসে—নক্ষত্রে, নামে—অস্তিত্বে, আয়োজনে—প্রয়োজনে তুমুল বিতর্ক হবে— দেবতার সাথে দেবতার।
আমার শীত-বসন্ত কিংবা ঋতু বোঝার প্রথম সালে— একদিন কুয়াশায় ভেসে এলো পঁচা লাশের গন্ধ। শোনা গেলো নগ্ন দেবতার মতো বাঁশবনে ঝুলে আছে গদা। ময়না তদন্তের নামে গ্রামে উদয় হলো প্রতারক পুলিশের ভ্যান। মুগ্ধতার সাথে কিছু সংশয়, আর লোকের যতো আনাগোনা ঠেলে আমিও সেবার দেখতে গেলাম— বাঁশবনে ঝুলে আছে গদা। গদার হলো না সাড়ে তিনহাত ঠাঁই। শুধুই বিতর্ক হলো, সুইসাইড নাকি মার্ডার। সে যাইহোক, আমার তো চাই সাড়ে তিনহাত কামরা। নয়তো রঙ হবো— ক্যানভাসে কৃষ্ণতিলক, শব্দ হবো— স্বরযন্ত্রের ধ্বনি, ঘাতক হবো— আত্মঘাতী জোৎস্না, পাপ হবো— মানুষের পাপ। কিংবা কিছুই হবো না, হবো না কিছুই। একেবারে মিশেই যাবো অবাক শুন্যতায়।

'পাই নাই কিছু, ঝরা ফসলের বিদায়ের গান তাই
গেয়ে যাই আমি, মরনেরে ঘিরে এ মোর সপ্তপদী'

2 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন