‘কে যেন আছে’ | পাণ্ডুলিপি পাঠ থেকে | মিহিন্দা

কাব্যগ্রন্থ : কে যেন আছে
কবি : মঈন ফারুক
প্রকাশকাল : বইমেলা ২০২১
প্রকাশনী : চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন




শব্দকে কবিতার শরীর বলা হয়। সুনির্বাচিত শব্দের সুন্দর বিন্যাসেই সৃষ্টি হয় একেকটি সার্থক কবিতা। মঈন ফারুক এমন এক কবি, যাঁর বসবাস শব্দের সঙ্গে। শব্দকে কখনো ভেঙে, কখনো যুক্ত করে, কখনো তার সঙ্গে নানা অনুপ্রাস-অলঙ্কার সন্নিবেশিত করে মাধুর্যময় করে তোলেন অপরূপ লালিত্যে। তাঁর কবিতার আঙ্গিক ও উপস্থাপনায় স্বাতন্ত্র্য উল্লেখ করার মতো। তিনি সমাজ রাষ্ট্র প্রকৃতি প্রেম চেতনা নিয়ে বলেন কবিতায়। কখনো ছন্দে, কখনো ছন্দহীনতায়। কখনো গল্পের মতো করে, কখনো সুরের নিরবচ্ছিন্ন ঐন্দ্রজালে। পাঠক কবিতা পাঠের সময় একটি গল্পের ভেতরে ঢুকে কবির আত্মচরিতের পাশাপাশি নিজেকে খুঁজে পায় অনিন্দ্য সৌন্দর্যে।

‘কে যেন আছে’ মঈন ফারুকের অপূর্ব সৃষ্টি। প্রাঞ্জল ভাষা, কাহিনির চিত্রায়ণ, স্বভাবদক্ষ বুনোট ও বক্তব্যের স্বচ্ছতা কবিতাগুলোর অনন্য দিক। আজকের তুচ্ছ আখ্যান ও অনুভবকেও কবি মঈন ফারুক কাব্যের শরীরে বিমূর্ত করে রেখে দিতে পারেন, যা আমাদের প্রীত করে। তাঁর সৃজন-অন্বেষা আমাদের আশান্বিত করে।  

রাশেদ রউফ
কবি, শিশুসাহিত্যিক, সংগঠক



আমি যেধরনের কাব্যবোধের ভেতর প্রয়াত হতে পছন্দ করি, তার খুব কাছাকাছি গুঞ্জরণের রেশ নিয়ে এই কবিতাগুলো উড়তে দেখলাম।  এভাবে ওরা আরও দূরের দিকেও যেতে পারে।

ফ্রি-ভার্সের ভেতর সকল ছন্দশৃঙ্খল ভাঙার বিপজ্জনক আবেগ ও বেগ থাকে, মঈন ফারুকও ওই ঝুঁকি নিয়েছেন। ব্যক্তিতার ডানায় ভাসবার এ তরিকা এখন প্রায় তরুণ কবির মধ্যে সুলক্ষিত। তারা পুরাণ পুরাতন প্রচল সব ডিঙোতে চান। বিষয়টি এতো প্রাতিস্বিক যে, কোনো অর্গল ঝুলাতে চাইলে চাইলেও মন চাইবে না কারো। 

উপলব্ধির আত্মতা আর কাণ্ডজ্ঞানের লিপ্ততা কবিকেও বসিয়ে রাখে জনকোলাহলের ধারে, কাঙালের বেশে। মঈন ফারুক এর কাব্যিক অবগাহনে সেই ঢেউ আছড়ে পড়ছে। তার বীক্ষণের দৌলত সেকথা বলছে।


হাফিজ রশিদ খান
কবি, কথাসাহিত্যিক




কবিতা মানুষের মুখের মতো ইশারা। ভাষার  সংকেতে সাজানো  নান্দনিক দৃশ্যের পর দৃশ্যে। এসব দৃশ্যে প্রবেশ করতে  মন ও মগজ দুটোই লাগে। 

কবিতা আমাদের দাঁড় করায় সেই দরজাটির সামনে, যার সামনে অবারিত ভাবনার পথ। এই পথগুলো ধরে এগুলোই যেন খুঁজে পাই, সেই শান্ততম নির্জন ছায়াটির দিশা, অজানার, অদেখার সেই কৌতুহলের মুখোমুখি। 
যার জন্য অস্থিরতায় কাটাতে হয় আমাদের মানবজীবনের প্রায় পুরোটা সময়। কবি তো সেই জগৎটাই তৈয়ার করার চেষ্টা  করে, শব্দের তুলিতে সেই দৃশ্যটাই আঁকতে চায়। টুকরো টুকরো ইমেজের গাঁথুনিতে একসাথে জোড়া দিয়ে নিখুঁতভাবে তৈয়ার করতে চায়  সেই সাঁকো, যেই সাঁকোটা যোগসূত্র স্থাপন করে দেখার সাথে অদেখার, জানার সাথে অজানার। কবি মঈন ফারুকের কবিতার জার্নিতে এই আনন্দ আমাকে বারবার আনন্দিত করে।

কবিতা তো অনেকটা শব্দেরও কারুকাজ। এই ক্ষেত্রে মঈন ফারুকের কবিতায় 
অপ্রয়োজনীয় শব্দের ব্যবহার খুব কম, নেই অতিকথন। 
সহজ বা জটিল কঠিন শব্দের ধার না ধরে কবি বেছে নেন সেই শব্দটি, যা আমাদের বোধগম্য,  যা দ্বারা চিন্তাকে সহজে ন্যারেট করা যায়।
কবি জানে ঘুড়ি বানানোর এবং উড়ানোর  সহজ মেকানিজম। 


মঈন ফারুকের কবিতা, ভাবের ব্যঞ্জনায়, আবেগের ছোঁয়ায়  হৃদয়ে অনুভুতি জাগিয়ে, চিন্তার বোধিচিত্তে পৌঁছে দেয় আমাদের অনেক সহজে।

এবারের বইমেলায় আসছে মঈন ফারুকের কবিতার বই "কে যেন আছে"। "কে যেন আছে" বইটির জন্য শুভকামনা।

আমাদের সবার ভেতরে কেউ একজন আছে। যাকে আমরা টের পাই আমাদের ধ্যানে, জ্ঞানে, চিন্তায়, স্বপ্নে, কৌতুহলে, জীবনে ও যাপনে। আসলে কে আছে? 


এইযে কেউ একজন আছে, তাকে  জানার জন্য, আবিষ্কার করার জন্য হলেও পড়তে পারেন এই বইটি।

মুহিন তপু
কবি

Post a Comment

أحدث أقدم